Home / বিশেষ সংবাদ / দুদকের কালিমা মুছতে জাহালমের দুধ গোসল – ভিডিও
Jahalom

দুদকের কালিমা মুছতে জাহালমের দুধ গোসল – ভিডিও

তিন বছর পর সন্তানকে পেয়ে মায়ের আনন্দ কান্না। আর অবুঝ মেয়ের মুখে ভুবন ভোলানো হাসি। রোববার মধ্যরাতে কাশিমপুর কারাগার থেকে ছাড়া পাওয়ার পর, ভোরে টাঙ্গাইলে নিজ বাড়িতে পৌঁছান, দুদকের মামলায় ভুল আসামি জাহালম। মুক্তি পাওয়ায় চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন, জাহালম ও তার স্বজনরা।

অপরাধ না করেও শাস্তি পাওয়ার গগনবিদারী আর্তনাদ রাষ্ট্রের কানে পৌঁছলো ৩ বছর পর। ততদিনে চোখের জল শুকিয়ে গেছে জাহালমের। কিন্তু, অঝোরো ঝরছে তার স্বজনদের।

কারা প্রকোষ্ঠ থেকে আবার জীবনে ফিরলেন জাহালম। সঙ্গে আনলেন নিদারুণ এক কষ্টের গল্প। যে গল্প সিনেমার মতো করে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো মানবতার জয়-পরাজয়।

নির্দোষ জাহালমের গায়ে কোটি টাকা আত্মসাতের যে কালিমা দিয়েছিলো দুদক, দুধ দিয়ে গোসল করিয়ে মুছে দেয়া হলো তা।

জাহালমকে এক নজর দেখতে টাঙ্গাইলের বাড়িতে ভিড় করেন গ্রামবাসী। তার মুক্তি পেছনে অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান সার্চলাইটের ভূমিকা থাকায় কৃতজ্ঞতা জানান চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের প্রতি।

রাষ্ট্রের কাছে জাহালমের স্বজনদের চাওয়া, নিরাপরাধ মানুষের প্রতি এমন ঔদাসিন্য ও অবিচার যেন আর করা না হয়।

এর আগে রাতে, কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পর রাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ চান জাহালম। আর যারা মিথ্যে মামলায় ও সাক্ষ্য দিয়েছে, বিচার চান তাদেরও।

প্রসঙ্গত, সোনালী ব্যাংক মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট শাখা থেকে কৌশলে সাড়ে ১৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায় ৩২টি মামলা করেছিলো দুর্নীতি দমন কমিশন। সেই মামলায় প্রধান আসামি আবু ছালেকের জায়গায় আসামি করা হয়েছিলো নিরাপরাধ জাহালমকে। গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে চ্যানেল 24-এর ‘সার্চলাইট’ অনুষ্ঠানে ‘উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে’ নামে দুটি পর্ব প্রচারিত হয়েছিলো। যে প্রতিবেদনে প্রকৃত অপরাধী আবু ছালেহকে খুঁজে বের করা হয়।

দুটি পর্ব প্রচারের পর গত বছরের এপ্রিল দুদক আনুষ্ঠানিকভাবে ৩২টি মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে। তার এক মাস পর, গত বছরের মে মাসে চ্যানেল 24 এর প্রতিবেদনে সত্যতা খঁজে পেয়ে জাহালমকে নির্দোষ প্রমাণ করে প্রতিবেদন দেয় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এরপর গত বছরে ২০ ডিসেম্বর দুদক জাহালমকে নির্দোষ পেয়ে মামলা থেকে তার নাম প্রত্যাহারের চিঠি দেয়।

এর দুসপ্তাহ পর একটি পত্রিকায় এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। পরে তা আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট অমিত দাস গুপ্ত।

এরপর ২৮ জানুয়ারি সোমবার টাকা আত্মসাতের অভিযোগসহ ৩৩ মামলায় ভুল আসামিকে তিন বছর কারাগারে রাখায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইন শাখার মহাপরিচালকসহ চারজনকে তলব করে হাইকোর্ট।

বার্তা কক্ষ
৪ জানুয়ারি, ২০১৯

Leave a Reply