Home / রাজনীতি / ছাড় দেবে না আওয়ামী লীগ
Awami_League_2

ছাড় দেবে না আওয়ামী লীগ

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে উদ্ভূত গুমোট রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরও প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপির বিষয়ে নিজেদের কঠোর অবস্থান পাল্টাবে না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তারা মনে করছে, রায়ের পর পরিস্থিতি জটিল করে এর থেকে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চক্রান্ত করছে বিএনপি।

ক্ষমতাসীন দলটির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, সরকারের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রভাব ও যোগাযোগের মাধ্যমেই রায় নিয়ে চলমান সমস্যার সমাধান করা যাবে। এর জন্য বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা বা ছাড় দিয়ে তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ প্রশস্ত করে দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় এবং এর পর্যবেক্ষণ নিয়ে সৃষ্ট রাজনৈতিক পরিস্থিতির পর বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা বা আলোচনার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা এমনটা জানান।

ওই নেতাদের মতে, বিএনপি মনে করছে, সুপ্রিম কোর্টের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়-পরবর্তী পরিস্থিতি সরকার সামাল দিতে পারবে না। কিন্তু গত সাড়ে আট বছরে সরকার অনেক বড় বড় সংকট ও ষড়যন্ত্র যেভাবে দৃঢ়তা ও সফলতার সঙ্গে সামাল দিয়েছে এবারও তাই হবে। বরং বিএনপি যদি নির্বাচনের পথ ছেড়ে চক্রান্তের পথে হাঁটে তাহলে তাদেরই বিপদে পড়তে হবে।

সংকট উত্তরণে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা বা আলোচনার সম্ভাবনার বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে কেন? সংকট নিরসনে তারা এমন কী মহামূল্যবান বাণী দিচ্ছে যে তার মর্মার্থ আমাদের উদ্ধার করতে হবে? তারা সব সময়ই ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার চেষ্টা করেছে, এখনো ওই পথেই চলছে। তারা ওভাবেই চেষ্টা করছে। তাদের সঙ্গে আলোচনার কোনো সম্ভাবনা এ মুহূর্তে নেই।

শুধু এই মুহূর্তে কেন…আমরা তো ভুলে যাই নাই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পর জাতীয় সংসদেও আমাদের আলোচনা করতে দেওয়া হয়নি। আওয়ামী লীগ তখন বিরোধী দলে ছিল। যদিও রাজনীতিতে ব্যক্তিগত পছন্দ, অপছন্দের কোনো বিষয় নেই।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগ ওই বিষয়গুলো ভুলে যাবে এমন কোনো কারণ বা পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে কি? হয়নি। তাহলে তারা তাদের মতো চলুক, তারা যা ইচ্ছা করুক। আমরা আমাদের কাজ করব। ’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ বলেন, ‘বিএনপিকে ছাড় দিয়ে আগামী নির্বাচনে নিয়ে আসার কোনো চিন্তাভাবনা এই মুহূর্তে আমাদের নেই। আমরা এখন আমাদের কর্মসূচি-কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যস্ত আছি। ’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় ও রায়ের পর্যবেক্ষণকে কেন্দ্র করে পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে তা আইনগতভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে। এ ব্যাপারে সমঝোতার প্রক্রিয়া থেমে নেই। ইতিমধ্যে ইতিবাচক অগ্রগতিও হয়েছে। একটা সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি সমঝোতার পর্যায়ে আছে। সাংবিধানিকভাবে আইনগত প্রক্রিয়ায় এর সমাধান হতে পারে। অন্য কোনো উপায়ে নয়।

এর আগে বুধবার এক আলোচনাসভায় ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি বলছে, রায়ের পরে আওয়ামী লীগ দিশাহারা। আসলে কি তাই? (বিএনপির) রঙিন স্বপ্ন ক্ষমতার! হারানো ময়ূর সিংহাসন ফিরে পেতে চায়! সেই ময়ূর সিংহাসন হারিয়ে গেছে বলে বিএনপি এখন দিশাহারা, বেপরোয়া। তিনি বলেন, তারা (বিএনপি) সুবিধা করতে পারল না। একের পর এক ইস্যু তাদের হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। সবশেষে এই ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের পর্যবেক্ষণকে ইস্যু হিসেবে বেছে নিয়ে তারা ভেবেছিল ফায়দা লাভ করবে। মওদুদ আহমদের বুদ্ধিতে মির্জা ফখরুল এমন ভাব করলেন যেন ক্ষমতার সিংহদুয়ারের কাছাকাছি বিএনপি এসে গেছে। আস্তে আস্তে তারা দেখতে পাচ্ছে স্বপ্নের জমিন ক্রমেই মরুময় হয়ে যাচ্ছে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, ‘বিএনপি নেতাদের বলব, ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে রাজনীতি করবেন না। প্রধান বিচারপতি জটিলতা সৃষ্টি করেছেন। তিনিই এই সংকট নিরসনের পথ খুঁজে বের করবেন। ’

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে আবদুর রহমান আরো বলেন, ‘আপনারা দিবাস্বপ্ন দেখতে পারেন বটে, কিন্তু এতে কোনো লাভ হবে না। দেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই আগামী দিনে এই সরকার পরিচালিত হবে। একটু অপেক্ষা করেন, মেঘ কেটে যাবে, চিরদিবসের সূর্য উঠবে। যে আগুন ও বিষধর সাপ নিয়ে খেলছেন, শিগগিরই আপনাদের ওই সাপই ছোবল দেবে এবং সেদিন আপনারা বুঝতে পারবেন, ষড়যন্ত্রের রাজনীতির কী পরিণতি হতে পারে। ’

আবদুর রহমান বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনের লক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি একটি স্বাধীন শক্তিশালী নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন। তারাই নির্বাচন পরিচালনা করবে। নির্বাচন ছাড়া অন্ধকারের গলিপথ খুঁজে কারো কোনো লাভ হবে না।

উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপির অংশগ্রহণ ছাড়া আরো একটি জাতীয় নির্বাচন সম্ভব হবে কি না জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যে যত কথাই বলুক বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ নেবেই। গতবার তারা যে ভুল করেছিল সামনে তারা আর তা করবে না। নির্বাচনের বাইরে থেকে একটি রাজনৈতিক দল যে টিকে থাকতে পারে না এটা বিএনপি এখন ভালোভাবেই বুঝতে পারছে। তাদের দলের যা অবস্থা তাতে আগামী নির্বাচনে তাদের জয়লাভের সম্ভাবনা নেই। এ কারণে তারা এখন নানা ষড়যন্ত্র করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই নেতা আরো বলেন, ‘সব জাতীয় নির্বাচনের আগেই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নানা গোষ্ঠী তৎপর হয়। নানা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাময় পরিস্থিতি তৈরি হয়। আমাদের নানা সমীকরণ মেলাতে হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না, হচ্ছেও না। আশা করি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সব সমীকরণ মিলিয়েই আমরা একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে পারব। ’

বিভিন্ন সূত্র জানায়, ষোড়শ সংশোধনী বাতিল রায়ের পরে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের প্রতিক্রিয়া দেখে সারা দেশে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়। কিন্তু এ উদ্বেগের পরও থেমে নেই আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রস্তুতির কাজ। আগামী জাতীয় নির্বাচন এবং এর আগে ছয় সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতিতে নেতাকর্মীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

সারা দেশে মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা নিয়মিত গণসংযোগ করে যাচ্ছেন। কেন্দ্রীয় নেতারা নিয়মিত ঢাকার বাইরে বিভিন্ন দলীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। আওয়ামী লীগের বেশির ভাগ সংসদ সদস্যই নিদেনপক্ষে প্রতি শুক্র ও শনিবার নিজের নির্বাচনী এলাকায় সময় দিচ্ছেন। উত্তরাঞ্চলে বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন সেখানকার সংসদ সদস্যরা।

নিউজ ডেস্ক
:আপডেট,বাংলাদেশ সময় ১০ : ৩০ এএম, ২৬ আগস্ট ২০১৭, শনিবার
এইউ

শেয়ার করুন
x

Check Also

Monir bak protibondhi

চাঁদপুর পৌরসভা বাকপ্রতিবন্ধি মনিরের দায় নেবে?

চাঁদপুর ...