চাঁদপুর শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত বাগাদি রোড এলাকায় ব্রিটিশ আমলে নির্মিত হয় পৌর মহাশ্মশান। এই মহাশ্মশানটি স্থাপিত হওয়ার পর থেকে উন্নয়নমূলক চোখে পড়ার মত তেমন কোন কাজ হয়নি।
এ ব্যাপারে চাঁদপুর পৌর মহাশ্মশান ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তমাল ভৌমিকের সাথে আলাপ করলে তিনি জানান ব্রিটিশ আমলে চাঁদপুর পৌরসভার কর্তৃপক্ষের কাছে সাধু চারণ পোদ্দার নামক জৈনিক ব্যক্তি সনাতন ধর্মালম্বীদের সৎকার করার জন্য উক্ত জমিটি দান করেন। এরপর থেকেই উক্ত জায়গাটি পৌর শ্মশান হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
বর্তমানে উক্ত শ্মশানটি বিভিন্ন সমস্যার জর্জরিত রয়েছে। এখানের প্রধান সমস্যা হল সেফটি বাউন্ডারি না থাকার কারণে বাহিরের লোকজন সার্বক্ষণিক যাতায়াত করে।
অন্যদিকে পৌর মহাশ্মশান এর ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য নেপাল সাহা জানান এখানে বাউন্ডারি না থাকার কারণে সন্ধ্যার পর বাহির থেকে মাদক সেবিরা এসে মাদক সেবন করে থাকে। এখানে রয়েছে একটি কালী মন্দির। মাদক-সেবিদের কারণে উক্ত মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষা করা সম্ভব হয় না।
উক্ত শ্মশানে কর্মচারী রয়েছে ৭ জন। তার মধ্যে পৌরসভার মাস্টার রোলে কর্মচারী রয়েছে ৩ জন বাকি চারজনকে সৎকার কাজের আয়ের উৎস থেকে বেতন দেয়া হয়। উক্ত শ্মশানে সোহেল নামের একজন ডোম রয়েছে।তিনি তার পরিবার নিয়ে শ্বসানের ভিতরেই থাকেন। তিনি যেখানে থাকেন সেই ঘরটি ও নর বড় অবস্থা।
এখানে নেই কোন নৈশ প্রহরী । এখানে রয়েছে একটি মরদহ আনা নেওয়ার কাজের জন্য একটি গাড়ি। উক্ত গাড়িটি দিয়ে মরদেহ কাজের জন্য ৫০০ টাকা করে নেয়া হয়।
উক্ত শ্মশানে প্রতিটি সৎকার কাজের জন্য নেয়া হয় পাঁচ হাজার টাকা এবং উন্নয়ন কাজের জন্য নেয়া হয় ১০০০ টাকা।
এখানে রয়েছে একটি কালী মন্দির তার পিছনেই আরসিসি পিলার দেয়া হলেও মাটি ভরাটের কাজ বাকি রয়েছে। এখানে সৎকার কাজের শেষে যে ছাই গুলো থাকে উক্ত ছাইগুলো আগে নদীতে ফেলা হতো। এখানে একটি নদীর সাথে সংযোগ পাইপ ছিল যার মাধ্যমে উক্ত ছাই গুলো সরাসরি নদীতে ফেলা হতো। কিন্তু বর্তমানে পাইপ লাইনের লাইনটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে সৎকারের ছাইগুলো ফেলতে বিপাকে পড়তে হয়।
পৌর শ্মশান ব্যবস্থাপনা কমিটির পক্ষ থেকে চাঁদপুর পৌর প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছেন অচিরেই এই শ্মশানের চারপাশের সেফটি বাউন্ডারি করে একটি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক/
১ অক্টোবর ২০২৬
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur