Home / চাঁদপুর / অভয়াশ্রমগুলোতে ‘৪২ হাজার কোটি‘ ডিম ছাড়বে মা ইলিশ
ELISH
ফাইল ছবি

অভয়াশ্রমগুলোতে ‘৪২ হাজার কোটি‘ ডিম ছাড়বে মা ইলিশ

ইলিশ চলতি বছর ‘৪২ হাজার কোটি ‘ ডিম ছাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে চাঁদপুরের ইলিশ গবেষক ড. মো. আনিসুর রহমান জানিয়েছেন।

 

তিনি জানান, ৭ অক্টোবর  থেকে টানা ২২ দিন ইলিশ মাস ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার ।

এ সময় ইলিশ মাছ শিকার, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাত ও কেনাবেচা নিষিদ্ধ থাকবে। যদি কেউ এ আইন অমান্য করে তবে তার বিরুদ্ধে জেল-জরিমানার বিধান রয়েছে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইলিশ গবেষক ড. মো. আনিসুর রহমান  বলেন, ‘ ইলিশ মাছ ধরা বন্ধ রাখার কারণে চলতি বছরে  ‘৪২ হাজার কোটি ’ ডিম ছাড়ার সম্ভাবনা আছে।  ৪২ হাজার কোটি জাটকা ইলিশ হবে বলে তারা আশাও  করছেন। ’

তিনি আরো বলেন , ‘দেশে প্রতি বছর মার্চ-এপ্রিল মাসে ৮ সপ্তাহ এবং অক্টোবর মাসে ৩ সপ্তাহ ইলিশ মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে। মার্চ-এপ্রিল মাসে ইলিশ মাছ ধরা নিষিদ্ধ রাখার উদ্দেশ্য হচ্ছে  ‘জাটকা ‘ যাতে বড় হতে পারে । অক্টোবর মাসে  ৩ সপ্তাহ ইলিশ মাছ ধরা বন্ধ রাখার কারণ হচ্ছে প্রজনন-ক্ষম ইলিশ যাতে ডিম পাড়তে পারে ।’

এ সময়ের মধ্যে প্রজনন-ক্ষম ইলিশ সমুদ্র থেকে নদীতে এসে যাতে ডিম ছেড়ে নিরাপদে সমুদ্রে ফিরে যেতে পারে সেজন্য মাছ ধরা বন্ধ রাখা হয়েছে।

বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান  বলেন,  ‘২০১৭ সালে বাংলাদেশ প্রায় ৫ লাখ মে. টন ইলিশ মাছ উৎপাদন হয়েছিল। এবারও একই পরিমাণ ইলিশ মাছ উৎপাদনের আশা করছে মৎস্য গবেষণা ইনন্সিটিউট। ’

উৎপাদিত  ৫ লাখ মে. টনের মধ্যে প্রতিটি ইলিশ মাছের গড় ওজন প্রায় ৩ শ’ থেকে ৫ শ’ গ্রাম । সে হিসেবে প্রায় ২ শ’ কোটি ইলিশ মাছ বাজারে আসতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।  মৎস্য গবেষণা ইনন্সিটিউট বলছে,  বছরের এ  দু’ সময়ে ইলিশ মাছ ধরা নিষিদ্ধ করার কারণে গত কয়েক বছরে উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছে ।

প্রসঙ্গত ,জাতীয়  মৎস্য সম্পদ ইলিশ প্রজনন রক্ষায় চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুর জেলার চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত ১শ’ কি. মি.এলাকায় ইলিশসহ সকল ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। রোববার ৭ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন অভয়ারশ্রম এলাকায় মাছ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, মজুদ, পরিবহন ও সরবরাহ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

২০১৭ সালে ১ অক্টেবর থেকে ২২ দিন এসব এলাকায় ইলিশসহ সকল ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। চলতি বছর প্রজনন মৌসুম আবহাওয়ার ওপর ভিত্তি করে ৭ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর করা হয়েছে।

এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত চাঁদপুর জেলা ট্রাস্কফোর্স ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি নিয়েছে। অভয়াশ্রম চলাকালে এসব নদীতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে নদীতে ২৪ ঘন্টা কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশের টিমের অভিযান চলবে। এ ছাড়া ও অভিযানে এসব এলাকায় মাছ আহরণ, মজুদ, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলার মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ, চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলায় ৫১ হাজার ১ শ’ ৯০ জন নিবন্ধিত ইলিশ জেলে রয়েছে। এসব জেলেরা এ ২২ দিন যাতে করে নদীতে মাছ না ধরেন সে জন্য তাদেরকে ইতোমধ্যে মাইকিং করে ও লিফলেট বিতরণ করে সচেতন করা হয়েছে। মৎস্য আড়ৎ এলাকায় জেলা মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে ব্যানার সাঁটানো হয়েছে।

এদিকে এনহ্যান্স কোস্টাল ফিরারিজ ইন বাংলাদেশ প্রকল্পের ইলিশ মাছ ব্যবস্থাপনা কর্ম পরিকল্পনার এক গাইড লাইন রিপোর্ট সংস্করণে উল্লেখিত দেশের ৫ টি ইলিশের অভয়াশ্রমসমূহের মধ্যে রয়েছে চাঁদপুর জেলার ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুর জেলার চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত মেঘনা নদীর ১শ’ কি.মি, চর ইলিশা থেকে ভোলা জেলার চর পিয়াল পর্যন্ত মেঘনা নদীর শাহবাজপুর চ্যানেলের ৯০ কি.মি, ভোলা জেলার ভেদুরিয়া থেকে পটুয়াখালী জেলার চর রোস্তম পর্যন্ত তেঁতুলিয়া নদীর ১শ’
কি.মি, পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার আন্ধারমানিক নদীর ৪০ কি.মি এবং শরীয়তপুর জেলার নুরিয়া থেকে ভেদরগঞ্জ পর্যন্ত নিম্ম পদ্মার ২০ কি.মি. এলাকাকে সরকার ইলিশের অভয়াশ্রম হিসেবে খ্যাত।

এ ছাড়াও বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট বরিশাল জেলার হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার লতা, নয়াভাঙ্গানী ও ধর্মগঞ্জ নদীর মিলনস্থলে নতুনভাবে আরো ৬০ কি.মি.এলাকাকে ইলিশের ৬ষ্ঠ অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে চাঁদপুর নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট এর এক সূত্রে জানা গেছে। এ সব অভয়াশ্রমের দৈর্ঘ্য হলো ৪শ’১০ কি.মি.।

সম্পাদনায় : আবদুল গনি
১০ অক্টোবর , ২০১৮ বুধবার

শেয়ার করুন

Leave a Reply