Home / সারাদেশ / এম আর আখতার মুকুল ছিলেন প্রথিতযশা সাংবাদিক ও লেখক

এম আর আখতার মুকুল ছিলেন প্রথিতযশা সাংবাদিক ও লেখক

দেশের খ্যাতনাম সাংবাদিক ও লেখক এম আর আখতার মুকুল ২০০৪ সালের ২৬ জুন মৃত্যুবরণ করেন। তার জন্ম ১৯২৯ সালের ৯ আগস্ট বগুড়া জেলার মহাস্থানগড়ের অন্তর্গত চিংগাসপুর গ্রামে। পুরো নাম মুস্তাফা রওশন আখতার মুকুল। পিতা বিশিষ্ট সাহিত্যিক সা’দত আলি আখন্দ, মাতা রাবেয়া খাতুন।

ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন এবং এ কারণে তাকে একাধিকবার জেল খাটতে হয়েছে। ১৯৪৮-৪৯ সালে জেল থেকেই স্নাতক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তিনি সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন এবং ১৯৪১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন।

জীবিকার জন্য তিনি বীমা কোম্পানি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বিজ্ঞাপন সংস্থা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন বিভাগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাকরি করেছেন। তবে সবচেয়ে বেশি সময় কেটেছে সাংবাদিকতা পেশায়। বিভিন্ন সময়ে তিনি দৈনিক আজাদ, দৈনিক ইত্তেফাক ও পূর্বদেশ পত্রিকায় কাজ করেছেন। এছাড়া তিনি বার্তা সংস্থা ইউনাইটেড প্রেস অফ পাকিস্তান (ইউপিআই)-এর ঢাকা ব্যুরো প্রধান ছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় রণাঙ্গন পরিদর্শন শেষে তার রচিত এবং স্বকণ্ঠে প্রচারিত ‘চরমপত্র’ অনুষ্ঠানটি ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথমে তাকে বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক নিয়োগ করা হয়।

১৯৭২ সালে তিনি লন্ডনে বাংলাদেশ হাই কমিশনের প্রেস মিনিস্টার নিযুক্ত হন। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এ চাকরি হারিয়ে অনেক বছর তিনি লন্ডনে স্বেচ্ছা নির্বাসনে ছিলেন।

এ সময় জীবিকার তাগিদে তাকে এমনকি পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক হিসেবেও কাজ করতে হয়েছে। ১৯৮৭ সালে দেশে ফিরে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র সম্পাদনার দ্বিতীয় পর্যায়ে কিছুদিন কাজ করেছেন।

পরে তিনি ঢাকায় সাগর পাবলিশার্স নামে একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তার রচিত ও সম্পাদিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো: পল্লী এক্সপ্রেস, রূপালী বাতাস, ভাসানী মুজিবের রাজনীতি, পঞ্চাশ দশকে আমরা ও ভাষা আন্দোলন, আমি বিজয় দেখেছি, বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ : দলিলপত্র, নকশালদের শেষ সূর্য ইত্যাদি।

সংকলিত
২৬ জুন ২০১৯