Home / চাঁদপুর / চাঁদপুরে ২০ মে পর্যন্ত খামারে বাচ্চা উঠানো বন্ধ রাখার ঘোষণা

চাঁদপুরে ২০ মে পর্যন্ত খামারে বাচ্চা উঠানো বন্ধ রাখার ঘোষণা

চাঁদপুর জেলা পোল্ট্রি ফিড ব্যবসায়ী এসোসিয়েশনের নেতৃত্বে জেলার খামারী ও পোল্ট্রি ফিড ব্যবাসায়ীরা মঙ্গলবার (২ মে) সকাল ১১টায় চাঁদপুর কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসুচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ‘বাচ্চা ও খাদ্যের দাম কমাতে হবে’‘ হ্যাচারী সিন্ডিকেটের কালো হাত-ভেঙ্গে দাও গুড়িয়ে দাও’সহ বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকেন মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী খামারীরা।

তাদের ছোবল থেকে পোল্ট্রি শিল্প রক্ষার জন্য ‘খামারী বাঁচাও-পোল্ট্রি শিল্প বাঁচাও’এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চাঁদপুর জেলা পোল্ট্রি ফিড ব্যবসায়ী এসোসিয়েশনের নেতৃত্বে জেলার সকল খামারী ও পোল্ট্রি ফিড ব্যবাসায়ীরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্বারক লিপিও প্রদান করেন।

মানবন্ধনের বক্তারা বলেন, ‘দু’ বছর যাবৎ বাংলাদেশে দেশি-বিদেশী হ্যাচারী মালিকগণ ১ দিন বয়েসের ব্রয়লার বাচ্চা ৭০ থেকে ৯৮ টাকা, লেয়ার বাচ্চা ১শ’ থেকে ১শ’১৫ টাকায় বিক্রি করে। অথচ উৎপাদন খরচ ব্রয়লার বাচ্চা ২৪ থেকে ২৮ টাকা, লেয়ার বাচ্চা ২৮ থেকে ৩০ টাকা। হ্যাচারী মালিকগণ খামারীদেরকে জিম্মি করে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

ফিড মিলাররা ২ থেকে ৩ বছর যাবৎ পোল্ট্রির খাদ্যের গুণগত মান সঠিক না করে উৎপাদন মূল্যের সাথে সামঞ্জস্য না রেখে খামারীদের কাছে অধিক মূল্যে বিক্রি করে প্রতিনিয়ত কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। আমাদের দাবি না মানলে আগামী ২০ মে পর্যন্ত আমরা কোনো খামারে বাচ্চা উঠাব না।’

এ শিল্পের সাথে চাঁদপুর জেলায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার লোক সম্পৃক্ত থেকে জীবন জীবিকা নির্বাহ করছে। বর্তমানে গুটি ক’হ্যাচারী ও ফিড মিল মালিকদের অবৈধ সিন্ডিকেটের কারণে খামারীরা দেউলিয়া হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

খামারী ও ডিলাররা ব্যাংক ও বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ গ্রহণ করে এ ব্যবসা পরিচালনা করছে। কিন্তু অধিক মূল্যে বাচ্চা ও খাদ্য ক্রয় করার কারণে প্রতিনিয়তই লোকসান গুণতে হচ্ছে। এতে করে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে খামারীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বেকারত্ব দুর করার জন্যে “একটি বাড়ি একটি খামার” প্রকল্পটি চালু করেন। এ প্রকল্পটি বুকে ধারণ করে চাঁদপুর জেলার খামারীরা স্বপ্ন পূরণ করতে সক্ষম হচ্ছে। হাজার হাজার শিক্ষিত বেকার যুবকদের এ কর্মসংস্থানটি আজ দেশী-বিদেশী কিছু প্রতিষ্ঠানের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে।

সরকার ঘোষিত নির্ধারিত মূল্যকে তোয়াক্কা না করে হ্যাচারী মালিকগণ নিজেদের ইচ্ছে মতো অধিক মূল্যে বাচ্চা বাজারজাত করার কারণে এ প্রকল্পটি আজকে হুমকির মুখে। দেশের পোল্ট্রি শিল্প ১০ থেকে ১৫টি হ্যাচারী ও ফিড মিল মালিকদের কাছে বর্তমানে জিম্মি বলে তারা অভিযোগ করেন ।

মানববন্ধনে জেলা পোল্ট্রি ফিড ব্যবসায়ী এসোসিয়েশনের আহ্বায়ক তৈয়ব তাহের সরকার (টিটু)’র সভাপতিত্বে ও যুগ্ম-আহ্বায়ক কবির হোসেনের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা এসোসিয়েশনের সভাপতি হাজী আব্দুল মালেক ভূঁইয়া, সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান,আবু তাহের,সাধারণ সম্পাদক রবিউল হোসেন মজুমদার খোকন,যুগ্ম -আহ্বায়ক মোস্তফা কামাল হানিফ,সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবুর রহমান মোহন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল মিয়া, চাঁদপুর জেলা পোল্ট্রি ফিড ব্যবসায়ী এসোসিয়েশনের সদস্য-সচিব নূরে আলম ।

আরো বক্তব্য দেন সদরের আহ্বায়ক সায়েদুর রহমান রেদওয়ান, সদস্য-সচিব নাহিদ হায়দার খান, ফরিদগঞ্জের আহ্বায়ক ফারুকুল ইসলাম,সদস্য-সচিব আজীম হোসেন,কচুয়ার আহ্বায়ক মো.সফিকুল ইসলাম, সদস্য-সচিব আনোয়ার হোসেন, হাজীগঞ্জের আহ্বায়ক মো.নাছির হোসেন মজুমদার,সদস্য- সচিব মো.শরীফুল ইসলাম, মতলব দক্ষিণের আহ্বায়ক আহসান হাবীব লিটন, সদস্য-সচিব মো.মনির হোসেন মিজি, মতলব উত্তরের আহ্বায়ক রাসেল দেওয়ান, সদস্য-সচিব মো. বিল্লাল হোসেন বেপারী,শাহরাস্তির আহ্বায়ক মো.রফিকুল ইসলাম,সদস্য-সচিব মো.নাছির হোসেন,হাইমচরের আহ্বায়ক আব্দুল মালেক ও সদস্য-সচিব মো. মিজানুর রহমান।

মানববন্ধনে জেলার ৮ উপজেলার ৫ শতাধিক খামারী ও পোল্ট্রি ফিড ব্যবসায়ীরা অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধন শেষে নেতৃবৃন্দরা জেলা প্রশাসক আব্দুস সবুর মন্ডলের হাতে স্বারকলিপি প্রদান করেন।

করেসপন্ডেন্ট
আপডেট, বাংলাদেশ সময় ৪: ৪০ পিএম,২ মে ২০১৭, মঙ্গলবার
এজি

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

Motlob-pennai Sorok

২শ’ ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে চাঁদপুর সওজ বিভাগের ৬ প্রকল্প গ্রহণ

চাঁদপপুর ...