Home / জাতীয় / রাজনীতি / শেখ হাসিনাকে ছুটিতে যাওয়ার প্রস্তাব দেবে বিএনপি!
BNP Logo-2
ফাইল ছবি

শেখ হাসিনাকে ছুটিতে যাওয়ার প্রস্তাব দেবে বিএনপি!

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতা খানিকটা কমানো গেলেই বিএনপির পক্ষে গণজোয়ার তৈরি হবে। শুধু তা-ই নয়, ওই পরিস্থিতিতে প্রশাসনও নিরপেক্ষ হয়ে যাবে বলে বিশ্বাস করে দলটি। ফলে যেকোনোভাবেই হোক, একটুখানি হলেও শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে নড়াতে চায় বিএনপি।

নির্ভরযোগ্য সূত্র মতে, এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে ভোটের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ছুটিতে যাওয়ার প্রস্তাবও দিতে চায় দলটি, যদিও প্রধানমন্ত্রীর ছুটি নেওয়ার ব্যাপারে সংবিধানে কিছু উল্লেখ নেই। তবে ইচ্ছা করলে তিনি ছুটিতে যেতে পারেন।

১৯৯৬ সালের প্রথম মেয়াদে তিনি দীর্ঘ ছুটিতে গিয়ে কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের পাশে ছিলেন। ১৯৯৭ সালের জুলাই মাসে পুতুল যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর প্রথম সন্তানের মা হন।

সূত্র মতে, বিএনপি এ উদাহরণ টেনেই প্রধানমন্ত্রীকে ছুটিতে যাওয়ার কথা বলবে, যার উল্লেখ থাকবে সহায়ক সরকারের প্রস্তাবে। দলটির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। বিএনপি সমর্থক বলে পরিচিত সুধীসমাজের একাধিক প্রতিনিধিও সম্প্রতি বিভিন্ন টক শোতে প্রধানমন্ত্রীর ছুটিতে যাওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এনেছেন।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, সংবিধানে উল্লেখ না থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর ছুটি নিতে কোনো বাধা নেই। ইচ্ছা করলে তিনি ছুটিতে যেতে পারেন। এ প্রসঙ্গে মওদুদ ১৯৯৬ সালের মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছুটি নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তবে তিনি বলেন, সহায়ক সরকারের প্রস্তাবে কী থাকবে সেটি জানানোর সময় এখনো আসেনি।

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ছুটি নেওয়ার বিষয়টি সাধারণত সংবিধানে উল্লেখ থাকে না। তবে ইচ্ছা করলে তিনি ছুটি নিতে পারেন। এর আগের মেয়াদেও তিনি ছুটিতে ছিলেন। এ ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। অন্যান্য চাকরির মতো প্রধানমন্ত্রীর চাকরির ক্ষেত্রে কোনো শর্ত থাকে না। তবে এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠতে পারে, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব কে পালন করবেন। এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী ইচ্ছা করলে যেকোনো মন্ত্রীকে দায়িত্ব দিয়ে যেতে পারেন—যোগ করেন বিশিষ্ট এই আইনজীবী।

বর্তমান সংবিধানের ভেতরে ও বাইরে, নির্বাচনকালীন সরকারের দুই ধরনের প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে বিএনপি। যেটি ‘সহায়ক সরকারে’র প্রস্তাবনা আকারে উপস্থাপন করার কথা রয়েছে। এর মধ্যে দলীয় সভাপতির পদ থেকে শেখ হাসিনার পদত্যাগ, সংসদ ভেঙে দিয়ে সবার জন্য সমান সুযোগ, রাষ্ট্রপতি, স্পিকার অথবা বিশিষ্ট একজন নাগরিকের নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের পরামর্শসহ একাধিক প্রস্তাব থাকছে। তবে বিএনপির বড় অংশই মনে করে, বড় ধরনের চাপে ফেলতে না পারলে এগুলোর কোনোটিই সরকারকে মানতে বাধ্য করা যাবে না। তাই প্রধানমন্ত্রীর পদে শেখ হাসিনাকে রেখেই বিকল্প আরেকটি প্রস্তাব নিয়ে চিন্তা করছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। তাঁদের মতে, ঠিক আছে, তিনিই প্রধানমন্ত্রী থাকুন; কিন্তু তাঁকে ছুটিতে যেতে হবে।

বিএনপি মনে করে, বর্তমানে যেভাবে প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতার চর্চা করেন, ঠিক একইভাবে নির্বাচনকালীন করতে পারলে পুরো প্রশাসন তাঁর প্রভাববলয়ে থাকবে। অর্থাৎ নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি ডিসি, এসপিসহ সর্বত্রই থাকবে প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণ। কিন্তু তাঁকে সামান্য ‘নড়ানো’ গেলে জনমনে এর প্রভাব পড়বে। জনগণ মনে করবে, শেখ হাসিনা আর ক্ষমতায় নেই। ফলে দলের মধ্যে অনেক পরামর্শের পর প্রধানমন্ত্রীর ছুটিতে যাওয়ার বিষয়টি নজরে আনেন বিএনপিপন্থী বলে পরিচিত সুধীসমাজের প্রতিনিধিরা; যাঁরা সহায়ক সরকারের প্রস্তাবনা তৈরির সঙ্গে যুক্ত আছেন।

জানতে চাইলে শত নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, বিএনপির সহায়ক সরকারের প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রীর ছুটিতে যাওয়ার বিষয়টি থাকতে পারে। কারণ এটি সংবিধানে নেই বলে যে করা যাবে না তা তো নয়। তা ছাড়া আগেও তিনি ছুটিতে গিয়েছেন।

ব্যাখ্যা দিয়ে বিশিষ্ট এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বলেন, সংসদের কার্যকাল শেষ হয়ে গেলে প্রধানমন্ত্রী ইচ্ছা করলে সরে যেতে পারেন। আবার রাষ্ট্রপতির পরামর্শে তিনি থাকতেও পারেন। তবে ওই অবস্থায় সংসদ নেতা হিসেবে তাঁর সুযোগ-সুবিধা স্থগিত থাকবে। এখানে অন্য কারো চাওয়া বা দাবির ওপরে কিছু নির্ভর করবে না। প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা-অনিচ্ছাই এখানে মুখ্য।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের মতে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখে নির্বাচনে যাওয়ার কোনো ফর্মুলা বিএনপি ও বিরোধী দলগুলোর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। অতএব, সব দলকে নিয়ে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করতে হলে অবশ্যই কোনো না কোনো পথে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে শেখ হাসিনাকে সরে দাঁড়াতে হবে। প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, আর যদি তা না করে ৫ জানুয়ারির মতো আরেকটি নির্বাচন করা হয়, তাহলে সেই ঝুঁকি ও দায়দায়িত্ব পুরোটাই সরকারকে বহন করতে হবে।

লন্ডন থেকে টেলিফোনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমদু চৌধুরী বলেন, ‘সহায়ক সরকারের প্রস্তাবে থাকবে কি না জানি না; তবে নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রী ছুটিতে গেলে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তা সহায়ক হবে। ’ (সূত্র : কালের কণ্ঠ)

নিউজ ডেস্ক
: আপডেট, বাংলাদেশ সময় ১১ : ৫০ এএম, ২২ জুলাই ২০১৭, শনিবার
এইউ

Leave a Reply