Home / রাজনীতি / সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে বিএনপির প্রস্তাব

সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে বিএনপির প্রস্তাব

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ শুরু করেছে ইসি। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন দল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে ইসি।

গত ২৪ আগস্ট থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় শুরু হয়েছে। আগামী ১৫ অক্টোবর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং ১৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপে বসবে ইসি। মূলত বড় এই দুদলের প্রস্তাবনার দিকে তাকিয়ে আছে নির্বাচন কমিশন।

একই সঙ্গে দেশের জনগণ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমগুলো অপেক্ষা করছে এই দুটি দলের প্রস্তাবে কি থাকবে। এদিকে, ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলই ইসির সঙ্গে সংলাপে বসার জন্য নিজ নিজ দলের প্রস্তাবনা তৈরি করেছে।

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি ক্রমেই জোরদার করছে বিএনপি। তবে এ নির্বাচন যাতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয় সে জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব তৈরি করছে দলটি। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে সংলাপকালে লিখিতভাবে এসব প্রস্তাব তুলে ধরবে বিএনপি।

সূত্র মতে, সুষ্ঠুভাবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে দিতে ইতোমধ্যেই বিএনপি যেসব প্রস্তাব তৈরি করেছে। সেটাকে বলা হচ্ছে সুষ্ঠু নির্বাচনের রক্ষাকবচ।

বিএনপির প্রস্তাবের খসড়ার মধ্যে রয়েছে- নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করা। নিবন্ধিত সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। সংসদীয় আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণ অর্থাৎ অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেভাবে হয়েছে সেভাবে সীমানা নির্ধারণ করা। সবার জন্য সমান সুযোগ অর্থাৎ লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা। নির্বাচনকালে সেনা মোতায়েন করা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে নিরপেক্ষ রাখা, নির্বাচনের অন্তত এক মাস আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের সকল স্তরে রদবদল করা। আরপিও (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ) সংশোধন, প্রিসাইডিং অফিসারসহ ভোট কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনরত সকল কর্মকর্তাকে নির্ভয়ে দায়িত্ব পালনের নিশ্চয়তা প্রদান। ভোট কেন্দ্রে সকল প্রার্থীর এজেন্টের উপস্থিতি নিশ্চিত করা। দেশী-বিদেশী পর্যবেক্ষকদের জন্য ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনের অবাধ সুযোগ রাখা। ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ না করা ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের মামলার নামে হয়রানি না করা।

দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপির ক’জন সিনিয়র নেতা এবং দল সমর্থক ক’জন বুদ্ধিজীবী মিলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু করতে প্রস্তাব তৈরির কাজ করছেন। আর তাদের সহযোগিতা করছেন অতীতে নির্বাচন কমিশনে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন ক’জন সাবেক আমলা। এ নিয়ে ইতোমধ্যেই দলের সিনিয়র নেতাদের এক বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

জানা গেছে, বৈঠকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত বছরের নভেম্বরে ইসি পুনর্গঠনসহ নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে যে ১৩ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছিলেন, তার আলোকেই আরেকটি নতুন প্রস্তাব তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

লন্ডনে অবস্থানরত খালেদা জিয়ার কাছে পাঠিয়ে এই নতুন প্রস্তাবের ব্যাপারে অনুমোদন নেয়া হবে। বৈঠকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সাবেক সচিব ইসমাঈল জবিউল্লাহসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট ওই বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে দলের স্থায়ী কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আমাদের সংলাপের বিষয় নিয়ে মূল আলোচনা হয়েছে। এছাড়া সহায়ক সরকার, রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি ও চলমান রাজনীতির কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলাপ হয়েছে।

তবে দলের একটি সূত্র মতে, গত বছরের নভেম্বর মাসে খালেদা জিয়া ইসি পুনর্গঠন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সংক্রান্ত যেসব প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন। তার আলোকে ইতিমধ্যেই একটি খসড়া নতুন প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। সেখানে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য ইসিকে সহায়তা করতে ‘নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের’ দাবি রয়েছে। দলটি সংলাপে ইসির কাছে এই দাবিটি তুলবে বলে জানা গেছে। একইসঙ্গে তারা নির্বাচনের সময় বিচারিক ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব করেছে।

এছাড়া দলীয় মনোভাবাপন্ন নির্বাচনী কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে তাদের অপসারণ, নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণার পর থেকে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ পর্যন্ত সরকারের স্বরাষ্ট্র, অর্থ, তথ্য, জনপ্রশাসন, স্থানীয় সরকার, শিক্ষা, প্রাথমিক শিক্ষা, পররাষ্ট্র, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশনের অধীনে রাখা, সুপারিশ রয়েছে বিএনপির এই প্রস্তাবনায়।

বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে অপারগতা প্রকাশ করে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ইসির সংলাপে কোন বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব, তা আগে বলার কিছু নেই। চেয়ারপারসন লন্ডনে আছেন। আমরা কিছু চিন্তাভাবনা করেছি, সেটা তাকে পাঠাব। তারপর তিনি চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।

প্রসঙ্গত, আগামী ১৫ অক্টোবর বিএনপির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আগামী ১৮ অক্টোবর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপে বসবে ইসি। আর সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সঙ্গে ইসির সংলাপ হবে ৯ অক্টোবর।

নিউজ ডেস্ক
: আপডেট, বাংলাদেশ ৫ : ২০ পিএম, ০৬ অক্টোবর, ২০১৭ শুক্রবার
এইউ

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

mazor rafiq

‘যে জাতি সু-শৃঙ্খল নয় সে জাতি স্বাধীনতা রক্ষা করতে পারে না’

চাঁদপুর-৫ ...