Home / চাঁদপুর / চাঁদপুরে সাড়ে ৬৩ হাজার উদ্বৃত্ত বই গোডাউনে পড়ে আছে

চাঁদপুরে সাড়ে ৬৩ হাজার উদ্বৃত্ত বই গোডাউনে পড়ে আছে

চাঁদপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাড়ে ৬৩ হাজার উদ্বৃত্ত নতুন বই ৮ উপজেলার বিভিন্ন গোডাউনে পড়ে আছে। প্রায় প্রতি বছরই এভাবে উদ্বৃত্ত বই পড়ে থাকতে দেখা যায়।

বই সঙ্কটের আশঙ্কায় প্রায় প্রতিটি বিদ্যালয়ে বইয়ের উদ্বৃত্ত তালিকা দিয়ে আসছে বিদ্যালয়ের প্রধানরা। এতে করে সরকারকে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা অতিরিক্ত বই ছাপাতে ব্যয় করতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে সহসাই ২০১৬ সালের উদ্বৃত্ত বই নিলামে বিক্রি হবে বলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জানিয়েছেন।

চাঁদপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম জানান, চাঁদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের আত্ততাধীন ৮ উপজেলায় এবারও পরে আছে ৬৩ হাজার ৬৪২টি বই। এবছর জেলায় বইয়ের মোট প্রাপ্তি ছিল ১৬ লাখ ৩৪ হাজার ৯০১টি এবং বিতরণ হয়েছিল ১৫ লাখ ৭১ হাজার ২৫৯টি।

জেলার বিভিন্ন উপজেলার বই প্রাপ্তি, বিতরণ ও উদ্বৃত্তের সংখ্যার মধ্যে সদরে বই প্রাপ্ত হয় ২ লাখ ৯৬ হাজার ৪০০টি, বিতরণ ছিল ২ লাখ ৯৪ হাজার ৯০০টি ও উদ্বৃত্ত ছিল ১ হাজার ৫০০টি।

এদিকে, কচুয়ায় বই প্রাপ্তি ছিল ২ লাখ ৯২ হাজার ৭৫৫টি, বিতরণ হয় ২ লাখ ৭৫ হাজার ৫৫টি আর উদ্বৃত্ত হয় ১৭ হাজার ৭০০টি। হাজিগঞ্জে বই প্রাপ্তি ২ লাখ ১২ হাজার ৬৪৩টি, বিতরণ ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৩টি এবং উদ্বৃত্ত ৭ হাজার ৫০০টি।

পাশাপাশি হাইমচরে বই প্রাপ্তি ৮০ হাজার ৩৭টি, বিতরণ ছিল ৭৩ হাজার ৩৭৭টি এবং উদ্বৃত্ত বই ৬ হাজার ৬৬০টি। শাহারাস্তিতে মোট বই প্রাপ্তি ১ লাখ ৬২ হাজার, বিতরণ ১ লাখ ৪৬ হাজার ৪০০টি এবং উদ্বৃত্ত ১৫ হাজার ৬০০টি।

এছাড়া ফরিদগঞ্জে বই প্রাপ্তি ২ লাখ ৪০ হাজার ৬৬টি, বিতরণ হয় ২ লাখ ৩২ হাজার ৮৮৪টি এবং উদ্বৃত্ত ছিল ৭ হাজার ১৮২টি বই।

মতলব দক্ষিণে বই প্রাপ্তি ও বিতরণ ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৫০টি, উদ্বৃত্ত নেই।

মতলব উত্তরে মোট বই প্রাপ্তি ২ লাখ ৯ হাজার ৫৫০টি, বিতরণ ২ লাখ ২ হাজার ৫০টি এবং উদ্বৃত্ত বই ৭ হাজার ৫০০টি বই।

সরকার বিপুল পরিমাণ বই ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য পাঠালেও সরকারি কর্তৃপক্ষ যেন সঠিকভাবে বইয়ের চাহিদা দিতে পারছে না।

এবছর জেলায় মোট ১৬ লাখ ৩৪ হাজার ৯০১টি বই প্রাপ্তি হওয়া সত্ত্বেও বিতরণ হয়েছে ১৫ লাখ ৭১ হাজার ২৫৯ টি অর্থাৎ বাকি ৬৩ হাজার ৬৪২টি বই বিতরণ করা সম্ভব হয়নি।

প্রসঙ্গত, প্রতি বছরই সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য নতন বই ছাপিয়ে বিনামূল্যে বিতরণ করছে। অথচ সঠিক হিসাব না দেয়ায় সরকারের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের অর্থ ব্যয় লাঘব করতে এতো বিপুল পরিমাণ বই যেন উদ্বৃত্ত না থাকতে হয় ও পরে অযোগ্য হিসেবে বই নিলামে বিক্রি করতে না হয়, সে বিষয়েও নজরদারি বাড়াতে হবে।

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
: আপডেট, বাংলাদেশ ৯ : ৪৯ পিএম, ১২ আগস্ট ২০১৭, শনিবার
এইউ

শেয়ার করুন

One comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ : চাঁদপুরে ২ নম্বর সতর্কতা সংকেত

উত্তর ...