Home / রাজনীতি / চাঁদপুরসহ সারাদেশে ১৮০ বিএনপি নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার
bnp nervachon

চাঁদপুরসহ সারাদেশে ১৮০ বিএনপি নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার

চাঁদপুরসহ সারাদেশে তৃণমূলের ১৮০ জন নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করছে বিএনপি। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে এসব নেতা-নেত্রী উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। এদের বেশির ভাগই স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাবশালী এবং দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

এ তালিকায় চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রেবেকা সুলতানা স্মৃতিও রয়েছে। তিনি গত উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এ সিদ্ধান্তের ফলে তিনি দলের পদ ফিরে পেয়েছেন।

এদিকে সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি মনোনয়ন দেয়ার পর বগুড়া-৬ উপনির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়েও ইতিবাচক মনোভাব বিএনপির। তাই আগের অবস্থান থেকে সরে আসায় বহিষ্কৃতদের স্বপদে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি যৌক্তিক মনে করছেন দলীয় হাইকমান্ড। ইতিমধ্যে তৃণমূলের অন্তত ৩০ নেতা বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য কেন্দ্রীয় দফতরে আবেদনও করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে যারা উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এখন তাদের বিষয়টি ভাবা হচ্ছে। অনেকে ইতিমধ্যে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য আবেদনও করেছেন।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, দলের এমপিরা শপথ নিয়েছেন। সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। বগুড়া-৬ উপনির্বাচনেও অংশ নেয়ার কথা শুনছি। কোনো সিদ্ধান্তেই তো আমরা অটল থাকতে পারছি না। নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল। এজন্য উপজেলা নির্বাচনে যারা অংশ নিয়েছেন তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। এখন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হলে তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করাটাই স্বাভাবিক।

দলটির দফতর সূত্রে জানা গেছে, দলের হাইকমান্ড বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়ে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্টদের কিছু নির্দেশনাও দিয়েছেন। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করায় ভুল স্বীকার করে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য তাদের আবেদন করতে হবে। দলের শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ওই সূত্রটি। ইতিমধ্যে ৩০টিরও বেশি আবেদন দলের কেন্দ্রীয় দফতরে জমাও পড়েছে।

৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর থেকেই এটিকে ‘ডাকাতি’ ও ‘প্রহসনের’ নির্বাচন দাবি করে আসছে বিএনপি। এরপর ২৪ জানুয়ারি দলটির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে বিএনপি আর কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না। ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উপনির্বাচনেও অংশ নেয়নি বিএনপি।

এরপর উপজেলা নির্বাচনেও অংশ নেয়নি দলটি। যদিও দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে অধিকাংশ উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেয় স্থানীয় নেতারা, যার কারণে তাদের বহিষ্কার করে বিএনপি। এর মধ্যে ২৬ ফেব্রুয়ারি ৯ জনকে, ২৮ ফেরুয়ারি ১০ জন, ১ মার্চ ১ জন, ৩ মার্চ ৮২ জন, ৫ মার্চ ৮ জনসহ বাকিদের ধাপে ধাপে বহিষ্কার করে দলটি।

বিএনপির কেন্দ্রীয় এক নেতা জানান, দলের নির্বাচিত এমপিদেরও শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্ত ছিল। কৌশলগত কারণে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়। এখন বগুড়া-৬ উপনির্বাচনে অংশ নেয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব নীতিনির্ধারকদের। সেক্ষেত্রে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচনে অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত থেকেও সরে এসেছে দল।

তাহলে উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিয়ে যারা বহিষ্কার হয়েছেন তাদের বহিষ্কারাদেশ কেন প্রত্যাহার করা হবে না- এ নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল নেতারা। সবকিছু বিবেচনা করেই হাইকমান্ড তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আগের সংবাদটি দেখুন – ফরিদগঞ্জের সাবেক মহিল ভাইস চেয়ারম্যান দল থেকে বহিষ্কার

করেসপন্ডেন্ট
২১ মে ২০১৯