Home / চাঁদপুর / চাঁদপুরে একত্রে তিন পুত্র সন্তানের জন্ম দিলেন ফরিদগঞ্জের প্রবাসীর স্ত্রী
Three-children-are-born
সদ্য ভুমিষ্ট হওয়া তিন শিশু

চাঁদপুরে একত্রে তিন পুত্র সন্তানের জন্ম দিলেন ফরিদগঞ্জের প্রবাসীর স্ত্রী

চাঁদপুরের বেসরকারি হাসপাতাল বেলভিউতে মঙ্গলবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে একত্রে তিন পুত্র সন্তান জন্ম দিয়েছেন প্রবাসীর স্ত্রী শারমিন। বর্তমানে মা ও নবজাতকগণ সুস্থ আছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।

শারমিন ফরিদগঞ্জ উপজেলার চরবড়ালী পাটওয়ারীর বাড়ি সবুজ পাটোয়ারীর স্ত্রী। এ দম্পতির অস্ত্রপাচারের (সিজার) মাধ্যমে জন্ম নেয়া আগের এক কন্যা সন্তান রয়েছেন। এবারও অস্ত্রপাচারের মাধ্যমে ৩ পুত্র সন্তান জন্ম দিয়েছেন।

তিন নবজাতকের ওজন হয়েছে সাড়ে ৬ কেজি। তাদের সুস্থতা কামানায় পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া কামনা করা হয়েছে।

শারমিনের অস্ত্রপাচার করেছেন হাসপাতালটির পরিচালক ও সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. হারুন-অর রশিদ সাগর, গাইনী চিকিৎসক ছিলেন ডা. সাজেদা বেগম পলিন। অজ্ঞানের চিকিৎসক ছিলেন ডা. সায়েম

এ বিষয়ে ডা. সাগর চাঁদপুর টাইমসকে জানান, মা ও বাচ্চারা ভালো আছে। প্রথমটির ওজন আড়াই কেজি, দ্বিতীয়টির সোয়া দু’কেজি, তৃতীয়টির পৌনে দু’কেজি। সাধারণত একত্রে একাধিক বাচ্চা হলে নানা ধরনের সমস্যা থাকে সে তুলনায় আল্লাহর রহমতে তেমন কোনো সমস্যা নেই। বর্তমানে বাচ্চারা শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. বিপ্লব কুমারের তত্ত্ববধানে রয়েছে।

এদিকে একসঙ্গে তিন সন্তান প্রসবের খবর পেয়ে হাসপাতালের অন্য ওয়ার্ড এবং আশপাশের উৎসুক মানুষ বাচ্চাগুলোকে একনজর দেখতে হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে ভিড় করছে।

একসাথে একাধিক সন্তান হওয়ার কারণ গবেষণা করেছেন, জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আফরোজা খানম।

তিনি বলেন, যমজ সন্তান জন্মের পেছনে কোনো রহস্য নেই। ডিম্বাণু ও শুক্রানুর একটি ব্যাপার রয়েছে। এ ছাড়া মা বা নানি যদি পূর্বে যমজ সন্তান জন্ম দেয়। চিকিৎসার মাধ্যমে নিঃসন্তান মায়েরা যখন গর্ভধারণ করেন তখনও যমজ সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া স্বয়ং সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় এটি ঘটে থাকে। এখানে কারও হাত নেই। ইচ্ছাকৃতভাবে বা কোনো চিকিৎসার মাধ্যমে কখনোই যমজ সন্তান নেয়া সম্ভব নয়।

তাঁর মতে মায়ের দেহে সাধারণত একই সময়ে একটি মাত্র ডিম্বাণু দুটি ডিম্বাশয়ের যে কোনো একটি থেকে নির্গত হয়। যদি দুটি ডিম্বাশয় থেকেই একটি করে ডিম্বাণু একই সময়ে নির্গত হয়, তবে ওভ্যুলেশন পিরিয়ডে তার শরীরে মোট দুটি ডিম্বাণু থাকে। এ সময় মিলন হলে পুরুষের শুক্রানু উভয় ডিম্বাণুকেই নিষিক্ত করে। একটি নিষিক্ত ডিম্বাণু প্রথমে দুটি পৃথক কোষে বিভক্ত হয়। পরবর্তী সময়ে প্রতিটি কোষ থেকে একেকটি শিশুর জন্ম হয়।

এখানে দুটি কোষ যেহেতু পূর্বে একটি কোষ ছিল, তাই এদের সব জীন একই হয়ে থাকে। এ কারণে এরা দেখতে অভিন্ন হয় এবং একই লিঙ্গের হয়। এভাবেই নন-আইডেন্টিক্যাল টুইন শিশুর জন্ম হয়। এসব শিশু সব সময় একই লিঙ্গের না-ও হতে পারে এবং তারা দেখতে ভিন্নও হতে পারে।

আরো পড়ুন-**** একসঙ্গে চার সন্তানের জন্ম

****মতলবে চার সন্তানের জননী শাহীনূরের পাশে এসপি শামসুন্নাহার

প্রতিবেদক- দেলোয়ার হোসাইন
২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯