Home / চাঁদপুর / চাঁদপুরে বন্যা পরিস্থিতি নেই, সমস্যা নদীভাঙন : সচিব

চাঁদপুরে বন্যা পরিস্থিতি নেই, সমস্যা নদীভাঙন : সচিব

চাঁদপুর জেলা পানি সম্পদ ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির আয়োজনে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে বলেন, ‘চাঁদপুরের বন্যা পরিস্থিতি নেই। চাঁদপুরের বড় সমস্যা হলো নদীভাঙন। বর্ষার মৌসুম শেষে আমরা চাঁদপুর রক্ষার বাঁধের কাজ করব। শনিবার (৩ আগস্ট) রাত থেকে চাঁদপুরে মেঘনা নদীর ভাঙ্গনের খবর জানতে পারি। তাই ঘটনাস্থল ও পরস্থিতি সরজমিনে দেখতে এলাম। ঘরে বসে দেখে বুঝা যায় না কী হচ্ছে।পদ্মা-যমুনার যে ওয়াটার লেভেল তা’চাঁদপুরের ওপর দিয়ে নেমে আসে। ফলে ভাঙ্গন সৃষ্টি হচ্ছে। ভাঙ্গন এলাকায় জরুরি কাজ হলো তা’ঠেকানো। স্থায়ীভাবে কাজ শুষ্ক মৌসুমে করা হবে।’

রোববার (৪ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টায় জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক শওকত ওসমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পুরাণবাজার হরিসভা এলাকায় মেঘনানদীর ভাঙ্গন পরিদর্শন শেষে চাঁদপুরের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন,‘আমরা সরজমিনে এসে দেখেছি ভাঙন এলাকায় নদীর গভীরতা কতটুকু। আর ঔ গভীরতা পরিমাপ করে জিউ ট্যাক্সটাইল বালু ভর্তি ব্যাগ ও সিসি ব্লক ফেলা হচ্ছে। পুরাণবাজার শহর রক্ষা বাঁধের হরিসভা মন্দির অংশ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। যেভাবে কাজ করছি তাতে ভাঙ্গন ঠেকাতে পারব।

বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা মোহনা এলাকা আলাদাভাবে রক্ষার চিন্তা করে শক্তিশালীভাবে কাজ করার পরিকল্পনা নিয়েছেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে করা হয়েছে। নদীভাঙ্গন থেকে চাঁদপুরকে রক্ষার জন্যে আমরা প্রাণপণ চেষ্টা করছি । যে সব স্থানে নদী ভাঙছে সে সব স্থানেও কাজ করা হবে। দেশে প্রায় শত হাজার কি.মি.বাঁধ রয়েছে। এর বেশির ভাগ বাঁধ সমুদ্র ও হাওর এলাকায়। এ বছর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের জুন মাসেই নির্দেশ দিয়েছি ব্যাগ প্রস্তুত করে রাখতে।

সারা দেশে ৫শ’র অধিক স্থানে নদীভাঙ্গন কাজ করা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীর ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। বাঁধ পাহারা দিতে লোক নিয়োগের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন,‘ইঁদুরের গর্ত ও ইরি-ইমিগ্রেশনের জন্য পানি প্রবেশ করার যে ড্রেন তৈরি করা হয় তা’থেকেও নদীভাঙ্গন হয়ে থাকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লন্ডনে থেকে এসব ভাঙ্গনের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। আমরা আশাবাদী, এ সব ভাঙ্গন রক্ষা করতে পারব। আর সে জন্য সুপার ড্রাইভ হিসাবে কাজ করতে হবে।

সব ধরনের টেকনোলজির ব্যবস্থা করে আমরা নদীভাঙন রোধে কাজ করব। বালু ভর্তি বস্তা যেন সঠিক স্থানে পড়ে সে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সারা দেশের পানি চাঁদপুরের ওপর দিয়ে নামছে। প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা গভীরভাবে নদী ড্রেজিং করবে। পানিকে নির্দিষ্টখাতে প্রবাহিতকরতে হবে। ড্রেজিং ও তীর শাসন করতে হবে।

আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নদীর মোহনা রক্ষা চাঁদপুর থেকেই শুরু হবে। তা নর্থবেঙ্গল পর্যন্ত করা হবে। এ মুহুর্তে ডিজাইন হিসেবে কাজ করা সম্ভব হবে না। এখন যা করা হচ্ছে তা শুধুমাত্র ভাঙ্গন ঠেকানোর জন্য করা হচ্ছে। আমরা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নদীভাঙ্গন এলাকার গভীরতা সম্পর্কে জানতে পারব। ডাকাতিয়া নদীর উৎস মেঘনানদী থেকে। মূল নদী ড্রেজিং প্রধানমন্ত্রী যে ‘ডেল্টা প্লান’ দিয়েছে তা ১ শ’ বছরের পরিকল্পনা নিয়ে করা হবে। আগামি ২-১ বছরের মধ্যে টেকনোলজির মাধ্যমে তা রক্ষা করা হবে।’

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি গোলাম কিবরিয়া জীবন, ইকরাম চৌধুরী, ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী, পৌর কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান দর্জি, চেম্বার প্রতিনিধি গোপাল চন্দ্র সাহা, টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ ফেরদৌস প্রমুখ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব মো. জামাল হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল,প্রেসক্লাব সভাপতি শহীদ পাটওয়ারী,প্রেসক্লাব সাবেক সভাপতি শরীফ চৌধুরী,বন্দর কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক, মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকি, ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সফিউদ্দিন প্রমুখ।

প্রতিবেদক: আশিক বিন রহিম
৪ আগস্ট ২০১৯

এজি