Home / আরো / খেলাধুলা / লিটনের ‘সফট সিগন্যাল’ আউট : আইসিসির বিতর্কিত আইনের সমালোচনা
liton dash soft signal out

লিটনের ‘সফট সিগন্যাল’ আউট : আইসিসির বিতর্কিত আইনের সমালোচনা

আইসিসির বিতর্কিত ‘সফট সিগন্যাল’ আইন বাতিলের দাবি অনেকদিনের

আইসিসির বিতর্কিত আইনগুলোর অন্যতম হলো ‘সফট সিগন্যাল’। এই আইনের কারণে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যাটসম্যানদের ভূগতে হয়।

যে কারণে অনেক আগে থেকেই এই আইনটি বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছেন সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটাররা।

সোমবার বাংলাদেশ-আফগানিস্তান ম্যাচে লিটন দাস এই আইনের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করছে ক্রিকেটাঙ্গন।

মাঠের আম্পায়ারদের সফট সিগন্যালের ওপর ভিত্তি করে লিটনকে আউটই দিয়ে দিলেন থার্ড আম্পায়ার আলিম দার!
‘সফট সিগন্যাল’ আইনটি কী? নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে সন্দেহ থাকলে থার্ড আম্পায়ারের দ্বারস্থ হবেন ফিল্ড আম্পায়ারদ্বয়। কিন্তু তার আগে নিজেদের মতামত জানাবেন সফট সিগন্যালের মাধ্যমে।

থার্ড আম্পায়ার যদি রিপ্লে দেখে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারেন যে মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত ভুল, কেবল তখনই তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবেন।

কিন্তু যদি থার্ড আম্পায়ার পুরোপুরি নিশ্চিত হতে না পারেন, সে ক্ষেত্রে মাঠের আম্পায়ারদের দেওয়া সফট সিগন্যালের সিদ্ধান্তই বহাল থাকবে।

এখন কোনো কারণে থার্ড আম্পায়ার যদি সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হন; তবে ফিল্ড আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত ভুল হলেও তা কার্যকর হবে।

রোববার (২৩ জুন) দক্ষিণ আফ্রিকা-পাকিস্তান ম্যাচের হারিস সোহেলকে ‘নট-আউট’ ঘোষণা করা হয়েছিল এই সফট সিগন্যালের কারণেই।

ম্যাচের মাঝেই হরভজন সিং টুইট করে ক্ষোভ জানান, ‘ থার্ড আম্পায়ারই যদি সিদ্ধান্ত নেবেন, তাহলে আর মাঠ থেকে সফট সিগন্যাল দেওয়ার দরকার কী? সিদ্ধান্তটা থার্ড আম্পায়ারকেই নিতে দেওয়া হোক!’

আরেক ভারতীয় স্পিনার মুরালি কার্তিক আরো ক্ষেপে গিয়ে লিখেছেন, ‘এমন অনেক ক্যাচ দেখেছি, যেগুলোতে সফট সিগন্যাল আউট দেওয়া হয়েছিল। অথচ এখানে প্রথম দেখাতেই আউট মনে হওয়ার পরেও আম্পায়ার সফট সিগন্যাল দিলেন নট আউট।

থার্ড আম্পায়ার কেন সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেন না? অদ্ভুত!’
শুধু এখানেই শেষ নয়, গত বছর সিডনিতে অনুষ্ঠিত এক ওয়ানডে ম্যাচের পর এই আইন বাতিলের দাবি জানিয়েছিলেন বিতর্কিত আউটের শিকার হওয়া অজি সুপারস্টার স্টিভেন স্মিথ।

তিনি বলেছিলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি এই নিয়ম সমর্থন করি না। এই নিয়মের কারণে মাঠের সিদ্ধান্ত পাল্টানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ফিল্ডার একটু আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উদযাপন শুরু করলেই ফিল্ড আম্পায়াররা আউট দিয়ে দিচ্ছেন। আর সন্দেহ থাকলে দিচ্ছেন নট-আউট! যে কারণে থার্ড আম্পায়ারের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে যায়। আমি চাই, সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার থার্ড আম্পায়ারের কাছেই থাক। ‘

আজ মুজিব-উর-রহমানের বলে শর্ট কাভার থেকে লিটন দাসের ‘ক্যাচ’ নেন হাশমতউল্লাহ শহিদি।

ফিল্ড আম্পায়ার নিশ্চিত না হয়ে আউটের ‘সফট সিগন্যাল’ দেন। ডাকা হয় তৃতীয় আম্পায়ার। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায়, বলটি শহিদির হাত ছুয়ে মাটি স্পর্শ করেছে। অনেকক্ষণ ধরে দেখার পরেও টিভি আম্পায়ার নিশ্চিত হতে পারছিলেন না, এটি আউট কিনা।

এক্ষেত্রে ‘বেনিফিট অব ডাউট’ সবসময় ব্যাটসম্যানের পক্ষেই যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তৃতীয় আম্পায়ার লিটনকে আউট ঘোষণা করেন। জয় হয় সফট সিগন্যালের!

বার্তা কক্ষ
২৪ জুন ২০১৯