Home / চাঁদপুর / চাঁদপুর শহরে গৃহবধূ সালমা হত্যায় ৪ বছর পর স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
court

চাঁদপুর শহরে গৃহবধূ সালমা হত্যায় ৪ বছর পর স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

চাঁদপুর শহরের রহমতপুর আবাসিক এলাকায় স্ত্রী সালমা বেগমকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অপরাধে ৪ বছর বিচার কার্যক্রম শেষে স্বামী গফুর মিজিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার চাঁদপুরের জেলা ও দায়রা জজ মো. জুলফিকার আলী খান এই রায় দেন।

হত্যার শিকার সালমা চাঁদপুর শহরের উত্তর শ্রীরামদী মাদরাসা রোডের মৃত খালেক বেপারীর মেয়ে এবং তার সাজাপ্রাপ্ত স্বামী গফুর মিজি জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ভাটিয়ালপুর এলাকার চির্কা চাাঁদপুর গ্রামের মৃত রহমান মিজির ছেলে। পেশায় তিনি শ্রমিক।

মামলার বিবরণে জানা যায়, বিগত ২০১৫ সালের ২০ অক্টোবর দিনগত রাত সালমা বেগমের ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম বোনের বাসায় আসেন। রাতের খাবার শেষে সাইফুল পাশের কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত আনুমানিক ১২টা ৩৫ মিনিটে ঘরে আসেন গফুর মিজি। তখন স্ত্রী তাকে বলেন, আপনি রাতে দেরি করেন আসেন কেন? এতো রাতে বাহিরে কি করেন। এই নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।

পরদিন ভোরে সালমা বেগমের ছোট ভাই সাইফুল ঘুম থেকে উঠে দেখেন তার বোনের মরদেহ মেঝেতে পড়ে আছে এবং গলাতে ফাঁসের চিহ্ন রয়েছে। তাৎক্ষণিক চাঁদপুর মডেল থানায় খবর দেন তিনি। পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

Salma-Begum

নিহত গৃহবধূ সালমা বেগম (২০১৫ সালের ফাইল ছবি)

এই ঘটনায় সদর চাঁদপুর মডেল থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়। ২০১৬ সালের ৩০ জুন ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পুলিশ নিশ্চিত হয় সালমাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। সেই আলোকে সালমা বেগমের মা রহিমা বেগম (৫৫) ১ জামাতা গফুর মিজিকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ আসামি গফুর মিজিকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তৎকালীন সময়ে চাঁদপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হালিম সরকার তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ১ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

সরকার পক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আমান উল্যাহ বলেন, মামলাটি চলমান অবস্থায় আদালত ১৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্য প্রমাণ ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে আসামির উপস্থিতিতে আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন।

প্রতিবেদক : শরীফুল ইসলাম, ২২ অক্টোবর ২০১৯

ইন্টারনেট কানেকশন নেই