Home / চাঁদপুর / চাঁদপুরে চলতি বছরে ১৭ লাখ টাকায় ৪টি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ
ফাইল ছবি

চাঁদপুরে চলতি বছরে ১৭ লাখ টাকায় ৪টি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ

চাঁদপুরের ৩ উপজেলায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ ৪ টি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করছে। জাতীয় স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায় ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে এগুলো বাস্তবায়ন করছে। চলতি বছর ১৭ লাখ টাকায় পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করছে বলে চাঁদপুর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

এ গুলোর মধ্যে জেলার হাজীগঞ্জ ১ টি ফরিদগঞ্জে ২ টি ও চাঁদপুর সদরে ১ টি । প্রতিটি দু’কক্ষ বিশিস্ট ও প্রয়োজনীয় পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাসহ আধুনিক ডিজাইনে নির্মিত হবে ।

চাঁদপুরের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদুল কবরি চৌধুরী সোমবার (২২ এপ্রিল) চাঁদপুর টাইমসকে জানান,‘প্রকল্পগুলো পুরো বাস্তবায়ন হলে পল্লী এলাকার মানুষ স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন ব্যবহারের সুযোগ পাবে। স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় থাকবে। জাতীয় স্যানিটেশন প্রকল্পটি গোটা দেশের মানুষের দৃষ্টি পরিবর্তন করে দিয়েছে। ’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,‘জাতীয় স্যানিটেশন প্রকল্পটি বর্তমানে প্লানিং কমিশনে রি-ভাইস করার জন্যে আলাপ-আলোচনা করছে। তবে সরকার এখন থেকে টেকসই (Sustainable Devlopement) উন্নয়নের বিষয়টি নজর দিচ্ছে। স্যানিটেশনের ক্ষেত্রে আমাদের অনেক সাফল্য হয়েছে। পরিবেশগত দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই উম্মুক্ত স্থানে মলমূত্র ত্যাগ করার প্রবণতা মানুষের ভেতর এখন আর নেই বললেই চলে। তবে শতভাগ আশা করা সম্ভব নয়। কেননা প্রতিদিনই নতুন নতুন বাড়ি হচ্ছে ,সংসার ভেঙ্গে আলাদা হচ্ছে ও নদীভাঙ্গন পরিস্থিতিতে স্যানিটেশন ল্যাট্রিন ভেঙ্গে যাচ্ছে ।’

তিনি আরো বলেন,‘সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন ব্যবহারে ব্যাপক সচেতনতা বেড়েছে। পানিবাহিত রোগ ডায়রিয়া ও ডিসেন্ট্রি দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। গ্রামের বাড়িতে নিজ নিজ পরিবারের ভেতর একটি স¦াস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন পারিবারিক মার্যাদা বাড়িয়ে দিচ্ছে ও বাড়ির ঐতিহ্য ধরে রাখছে। স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন ব্যবহার করে এবং খাবার আগে ও টয়লেট ব্যবহারের পর সঠিক নিয়মে হাত ধোয়ার অভ্যাস করে তা’হলে পানিবাহিত নানা ধরনের সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ কর সম্ভব হবে। প্রাত্যহিক জীবনে এর গুরুত্ব বুঝে তা’ মেনে চলা উচিত।

প্রসঙ্গত , চাঁদপুরের উপজেলাগুলোর শতভাগ স্যানিটেশন গড় অর্জন বর্তমানে ৯৭ %। এখনো ৩ ভাগ বাকি রয়েছে। জেলা ব্রান্ডিং বাস্তবায়নে শতভাগ সাফল্য অর্জনকে জরুরি মনে করছেন চাঁদপুরের স্বাস্থ্য সচেতন নাগরিকগণ। একাধিক সংস্থার প্রচেষ্টায় চাঁদপুরসহ দেশব্যাপি স্যানিটেশন কার্যক্রম পরিচালনা হয়ে থাকে।

জেলা,উপজেলা,ইউনিয়ন পর্যায়ে স্যানিটেশন কার্যক্রম বাস্তবায়ন কৌশলপত্র তৈরি করে ২০০৩ সালে এর যাত্রা শুরু করে। সে থেকে শুরু হয় প্রতিবছর অক্টোবর জাতীয় স্যানিটেশন মাস। ফলে এখন চাঁদপুরের মানুষের মধ্যে ৯৭ % স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন ব্যবহার করে।

‘টেকসই উন্নয়ন ও স্বাস্থসম্মত স্যানিটেশন’প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারাদেশে মাসব্যাপি সচেতনতামূলক ও উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে শতভাগ স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন অর্জনের লক্ষ্যে ‘জাতীয় স্যানিটেশন মাস অক্টোবর-২০১৮’ পালিত হয়েছে।

সর্বপ্রথমে ২০০৩ সালে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণি রসায়ন বিভাগের সহায়তায় দেশব্যাপি একটি জরিপ কাজ পরিচালনা করে। সে মতে, সারা দেশে ২০০৩ সালে এটা ছিল ৩৩ % । ২০০৩ সালে যা ছিল ৪২ %। দেশের ২৮% লোক অন্যের ল্যাট্রিন ব্যবহার করে আসছিল ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরিপে দেখা গেছে , বিশ্বে প্রতিবছর ৩ লাখ ৬১ হাজার শিশু ডায়রিয়া,পেটের পীড়া, আমাশয়, হ্যাঁপানি ইত্যাদি রোগে মৃত্যুবরণ করে । তাই ২০০৮ সালের ১৫ অক্টোবর জাতিসংঘের আহবানে বাংলাদেশেও ‘বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস’ স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এর সাথে যুক্ত করে। ২০০৩ সাল থেকে ২০১৮ পর্যন্ত দেশের সাধারণ মানুষের ভেতর ব্যাপক সাড়া জাগে। জনপ্রনিধি ও এনজিওগুলো এ ব্যাপারে কাজ করে।

২০০৩ সালের জরিপ রিপোর্ট মতে, চাঁদপুরের ৮ উপজেলার ৭৯ ইউনিয়নে তখন পরিবারের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৫০ হাজার ২০ টি। স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৬২ হাজার ৯ শ’ ২৫ পরিবার। ২০১১ সালের জাতীয় আদমশুমারি অনুযায়ী চাঁদপুরের সব উপজেলাাগুলোর পরিবারের সংখ্যা জানুয়ারি ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৩২ হাজার ২ শ’৬০ পরিবার।

২০১১ সাল থেকে জেলা ও উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের সহায়তায় ডিপিএইচই,স্ব-স্ব ইউনিয়নের ২০% উন্নয়ন কাজের তহবিল কর্তৃক, সরকারের অনুমোদিত এনজিও,পারিবারিক বা ব্যক্তিগত উদ্যোগে ও কমিউনিটি কর্তৃক স্থাপিত বা নির্মিত স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন ব্যবহারকারী সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে।২০১৮ সালের মাথায় বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৫৯ হাজার ৪৬ টি পরিবার । যা বৃদ্ধি পেয়ে স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন ব্যবহারকারী পরিবারের সংখ্যা দাড়াঁয় ৪ লাখ ২১ হাজার ৯ শ’৭১ টি।

প্রাপ্ত পরিসংখ্যান মতে, আরো ১০ হাজার ২শ’ ৮৯ টি পরিবারের মধ্যে স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন ব্যবহারের হাওয়া এখনো লাগেনি। যার হার ৩ দশমিক ৩৮ ভাগ।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর চাদঁপুরের দেয়া তথ্য মতে, ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী জানুযারি ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত রয়েছে উপজেলাগুলোর মধ্যে চাঁদপুরর সদরে অর্জনের হার ৯৬ %, কচুয়ার অর্জনের হার ৯৯ %, শাহরাস্তির অর্জনের হার ৯৭ %, ফরিদগঞ্জের হার ৮৪ %, হাজীগঞ্জের হার ৯৮%, মতলব দক্ষিণের হার ৯৮ %, মতলব উত্তরের হার ৯৭% ও হাইমচরের হার ৮৪ %।

প্রতিবেদন : আবদুল গনি
এপ্রিল ২৪, ২০১৯