Home / শীর্ষ সংবাদ / হাজীগঞ্জে প্রেসক্রিপশন নিয়ে ৭ ফার্মেসি ঘুরেও ওষুধ নিতে পারেনি শিক্ষার্থী
Manik-Lal-Mazumder

হাজীগঞ্জে প্রেসক্রিপশন নিয়ে ৭ ফার্মেসি ঘুরেও ওষুধ নিতে পারেনি শিক্ষার্থী

ওষুধ কিনতে ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র বা প্রেসক্রিপশন নিয়ে পরপর সাতটি দোকানে গেলেন চাঁদপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম। সব দোকান থেকে জানানো হলো, ‘লেখা বুঝি না, তাই ওষুধ দিতে পারব না!’

জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের গ্রামের বাসিন্দা মোবারকের ছেলে খুব অসুস্থ। তার ওষুধ কিনতে রোববার (১১ আগস্ট) সকালে হাজীগঞ্জ বাজারের ফার্মেসিগুলোতে গিয়েছিলাম। কিন্তু ওষুধ কিনতে পারিনি। কারণ প্রেসক্রিপশনের লেখা খুবই অস্পষ্ট। ডাক্তার যদি স্পষ্ট করে লিখত, তাহলে আমাকে সাতটি দোকানে হাঁটতে হতো না।’

জানা গেছে, ঐ প্রেসক্রিপশন লিখেছেন শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মানিক লাল মজুমদার। তিনি হাজীগঞ্জ বাজারের নবীন ফার্মেসিতে নিয়মিত রোগী দেখেন। ঐ ফার্মেসি তারই তত্ত্বাবধানে চলে।

রোববার (১১ আগস্ট) দুপুরে সরজমিনে ডা. মানিক লাল মজুমদারের চেম্বারে গিয়ে দেখে গেছে, সেখানে রোগীদের যথেষ্ট ভিড় আছে। আর তিনি রোগী দেখছেন। চারজন কর্মচারী রোগীর প্রেসক্রিপশন বা প্রেসক্রিপশন হাতে নিয়ে ওষুধ কিনতে তোড়জোড় করছেন।

হাজীগঞ্জ বাজারের একাধিক ফার্মেসি কর্মচারী জানান, ডা. মানিক লাল মজুমদারের প্রেসক্রিপশনের অক্ষর স্পষ্ট না হওয়ায় তাদের ওষুধ বিক্রি করতে বেশ সমস্যা হয়। তিনি এমনভাবে প্রেসক্রিপশন লেখেন যেন তার ফার্মেসি থেকে রোগীরা ওষুধ কিনতে বাধ্য হন।

হাজীগঞ্জ বাজার ফার্মেসি মালিক সমিতির সভাপতি সোলেমান মজুমদার জানান, প্রেসক্রিপশন ইংরেজি বড় অক্ষরে লেখার নির্দেশনা রয়েছে। আর হাজীগঞ্জ বাজারে প্রায় ৬০টি ফার্মেসি রয়েছে। কিন্তু কেউ মানিক লালের করা প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ বিক্রি করতে পারেন না।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক তালাল মিয়া জানান, মানিক লালের প্রেসক্রিপশন অক্ষর বুঝতে বেশ কষ্ট হয়।
ডা. মানিক লাল মজুমদার বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘আমি ৪০ বছর ধরে এভাবেই প্রেসক্রিপশন লিখছি। কিন্তু কখনো কেউ অভিযোগ করেনি। তবে ফার্মেসিগুলোতে ট্রেইনিংপ্রাপ্ত ফার্মাসিস্ট না থাকায় প্রেসক্রিপশন বুঝতে সমস্যা হয়ে থাকতে পারে।’

তবে ইংরেজি বড় অক্ষরে প্রেসক্রিপশন লেখার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ঐ আইনের বিষয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউল ইসলাম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘এমন প্রেসক্রিপশন রোগীদের জন্য বিপদজনক। প্রেসক্রিপশন স্পষ্ট ও বড় অক্ষরে লিখতে সরকারি নির্দেশনা রয়েছে।’

প্রতিবেদক- মনিরুজ্জামান বাবলু, ১১ আগস্ট ২০১৯