হাজীগঞ্জ

হাজীগঞ্জে খোলা আকাশের নিচে চলছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান

চাঁদপুর হাজীগঞ্জ উপজেলার ৩ নং কালচোঁ উত্তর ইউনিয়নের ২৭ নং মহব্বতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জরাজীর্ণ হওয়ায় খোলা আকাশের নিচেই লেখাপড়া করে আসছে ঐ বিদ্যালয়ের প্রায় ১১৩ জন কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে যে ১৯১২ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়ে ছিল গ্রামের কিছু ভালো মানুষদের উদ্যোগে। এরপর ৫৪ বছর কোন উন্নয়ন ছোঁয়া লাগেনি এ বিদ্যালয়টিতে।

বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী শেখ হাসিনা দেশে উন্নয়নের রোল মডেল স্থাপন করে যাচ্ছেন। তারই ধারাবাহিকতায় হাজীগঞ্জ উপজেলায় বেশ কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয় অচিরেই ডিজিটালে রূপান্তর হয়েছে। অথচ এই প্রতিষ্ঠানটি অবহেলায় আর অব্যবস্থাপনায় দিনের পর দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে রয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহনাজ বেগম জানান,‘বিদ্যালয়ে যোগদানের প্রায় আট বছর অতিক্রম হলো ভবনের নাজুক অবস্থা দেখে উপজেলা শিক্ষা বিভাগে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের নিয়ে লিখিত ও মৌখিক ভাবে আবেদন করেছি।স্থানীয় সাংসদ মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম এর নিকট শিক্ষার্থীদের নিয়ে আবেদন করেছি।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন এর একটি অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ে ভবন করে দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন, তিনি বলেসছেন উপজেলা কোন বিদ্যালয়ে ভবন হলে ২৭ নং মহাব্বপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হবে সবার আগে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শাহজাহান জানান, ২৭ নং মোহাব্বত পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আসলেই খুবই ঝুঁকিপূর্ণ, এ ব্যাপারে চলমান প্রক্রিয়া রয়েছে।

বিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা ক্লাস করতে এসে ভয়ে আর আতঙ্কে থাকতে হয়, কখন যে উপর থেকে ছাদ খসে পড়ে এবং আমাদের বিপদ ঘটে ,তাই ঝুঁকি এড়াতে মাঠে ক্লাস করি।

দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী নুসরাত জাহানের পিতা সুলতান আহমেদ টিপু জানান, বিদ্যালয়টি এতই ঝুঁকিপূর্ণ মেয়েকে বিদ্যালয় পাঠানোর পর বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত খুবই আতঙ্কে ও চিন্তিত থাকি।

বিদ্যালয়ের সভাপতি জসিম উদ্দিন জানান, আমি সভাপতি হয়ার পর চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমার পূর্বে ও অন্যান্য সভাপতিরা চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়েছে। বর্তমান সরকারের নেতৃবৃন্দরা বিদ্যালয়টির প্রতি সুভ দৃষ্ট দিলে বিদ্যালয়ের ভবণ হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।

করেসপন্ডেট
১২ মার্চ,২০১৯

Share