Home / চাঁদপুর / চাঁদপুরে যুবকদের সুযোগ দিচ্ছে বিটাক : ৭ বছরে ৩ হাজার বেকারের কর্মসংস্থান
Bitac-chandpur
চাঁদপুর বিটাক

চাঁদপুরে যুবকদের সুযোগ দিচ্ছে বিটাক : ৭ বছরে ৩ হাজার বেকারের কর্মসংস্থান

চাঁদপুর জেলা শহরের ওয়্যারল্যাস বাজারে অবস্থিত বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্রটি ৭ বছরে ৩ হাজার কর্মক্ষম যুবককে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। কর্মক্ষম যুবকগণ প্রশিক্ষণ শেষে এদের ৭০% দেশের বিভিন্ন সংস্থায় কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে।

প্রশাসন বিভাগের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মো.শরীফ পাটওয়ারী সোমবার (১১ মার্চ) চাঁদপুর টাইমস বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বাংলাদেশ ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল এন্ড টেকনিক্যাল অ্যাসিসটেন্স সেন্টার তথা বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র। সংক্ষেপে বলা হয় বিটাক (BITAC)। কর্মক্ষম যুবকদের বিনামূল্যে আবাসিক প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন শিল্প কারখানার জন্যে যন্ত্রাংশ প্রস্তুত করে তা সরবরাহের ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্যও রেখে যাচ্ছে এ বিভাগ।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, নারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে চাঁদপুরসহ সারাদেশের বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্রগুলো আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র বিমোচন শীর্ষক প্রকল্প’ (সেপা) এর অধীনে বাস্তবায়ন হচ্ছে। চাঁদপুরে ২০১১- ২০১২ অর্থবছর থেকে ২০১৮- ২০১৯ বছরের জুন কোর্স পর্যন্ত এ প্রকল্পের মেয়াদ রয়েছে।

প্রশিক্ষণ বিভাগে দু’ট্রেড তথা ইলেকট্রিক্যাল ম্যান্টিন্যান্স ট্রেড ও আর্ক গ্যাস বিষয়ে ওয়েল্ডিং ট্রেডে জেলার কর্মক্ষম যুবকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এর মধ্যে একটি কোর্স সম্পন্ন করতে সময় লাগে দু’মাস।

প্রশিক্ষণ নেয়ার সুযোগ গ্রহণে কর্মক্ষম যে কোনো নাগরিক সংস্থার নির্দিষ্ট ফরমে সরাসরি হেড অফিসের বরাবর দরখাস্ত করতে হয়। সারাবছর এ আবেদন গ্রহণ করা হয়ে থাকে এবং ক্রমান্বয়ে ব্যাচের সাথে সংযুক্ত করে প্রশিক্ষণের সুযোগ প্রদান করা হয়।

২০১১-২০১২ অর্থবছরে চালু হয়ে চলতি বছরের মার্চ-এপ্রিল কোর্স পর্যন্ত ২ হাজার ৯ শ ৭৫ জন চাঁদপুর জেলার কর্মক্ষম যুবকদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এর মধ্যে ২০১১- ২০১২ অর্থবছরে ৩ শ ৬০ জন , ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে ৬ শ ৩৯ জন , ২০১৩- ২০১৪ অর্থবছরে ৬ শ ১ জন, ২০১৪- ২০১৫ অর্থবছরে ২ শ ৯৪ জন , ২০১৫- ২০১৬ অর্থবছরে ৪শ ২১ জন , ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে ৩ শ ৬০ জন এবং ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের জানুয়ারি-ফেব্রুযারি কোর্স পর্যন্ত ২ হাজার ৯ শ ৭৫ জনকে ঔ প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

বর্তমানে একটি কোর্সটি চলমান রয়েছে। প্রতিটি ব্যাচে ৬০ জন কর্মক্ষম যুবক দু’মাসের এ কারিগরি প্রশিক্ষণ শেষে কর্মসংস্থানের অপার সম্ভাবনার দ্বার খোলার সুযোগ পেয়ে থাকে।

প্রশিক্ষণ ছাড়াও আমদানি বিকল্প খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহের মাধ্যমে চাঁদপুর বিটাক দেশের বিভিন্ন শিল্প কারখানাকে সরাসরি সহায়তা দিচ্ছে। এগুলো হলো কাগজ, বিদ্যুৎ , সিমেন্ট শিল্প ও পানি উন্নয়ন বোর্ড অন্যতম।

কারিগরি প্রশিক্ষণ ব্যতীত বিদেশ গমনের শ্রম বাজারে সফলতা আর সম্ভব নয়। সে দিক থেকে প্রতিজন প্রশিক্ষিত বেকার যুবকদের জন্যে এ কোর্স দু’টো মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিদেশ গমনে শ্রম বাজারে একটি সুবর্ণ সুযোগ করে দেয় এ কারিগরি প্রশিক্ষণটি। প্রতিনিয়তই প্রবাসীদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ঠ নিয়মনীতি তৈরি হচ্ছে ।

চাঁদপুরে বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক) এর সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মো.শরীফ পাটওয়ারী সোমবার (১১ মার্চ) চাঁদপুর টাইমসকে বলেন, ‘সরকার দেশের বেকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ‘ হাতে কলমে প্রশিক্ষণে মহিলাদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র বিমোচন শীর্ষক প্রকল্প’ (সেপা) এর পরিচালনার মাধ্যমে বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছে। এটি সরকারে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ।’

তিনি আরো বলেন,‘ প্রতি ঘরে ঘরে একজন বেকারকে চাকুরি প্রদানে অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ও শিল্প কারিগরি সহায়তা ’ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী এ প্রকল্পটি শিল্প মন্ত্রণালয় গ্রহণ করে।’

তিনি এ কোর্সটিকে বেকারত্ব ঘুচানোর মাইলফলক আখ্যায়িত করে বলেন ,‘ স্কুল,কলেজ ও মাদ্রাসা থেকে ঝরেপড়া গরীব পিতার মেধাবী সন্তানগণ এ প্রকল্পে অংশগ্রহণ করে নিজকে স্বাবলম্বী হতে সহায়তার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি শিল্প-প্রতিষ্ঠানে কাজ করার অপূর্ব সুযোগ করে দিয়েছে।’

চাঁদপুর টাইমসের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের জুনে কোসর্টির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এর মেয়াদ বাড়তে পারে।’

বিটাক সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে বর্তমান সরকারের তৎকালীন নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লেখিত এ প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার বাস্তবায়িত করছে।

শুধু প্রবাসে নয় দেশেও কর্মসস্থানে দক্ষ লোকের প্রয়োজনীয়তা থেকে সরকারের সাথে দেশের প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত শিল্প-কারখানার মালিক বা পরিচালকদের চুক্তি রয়েছে এবং সে অনুযায়ী বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্রের প্রশিক্ষিত ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়ার নির্দেশ রয়েছে।

দারিদ্র ও বেকারত্বের অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসার জন্যে বর্তমান সরকারের ‘ ভিশন ২০২১’ অর্জনে বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক) মহিলাদের অগ্রধিকারের ভিত্তিতে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র বিমোচনে ৩ মাসব্যাপি মহিলাদের জন্যে ৯টি ও ২ মাসব্যাপি চাঁদপুরে পুরুষদের ২ টি ট্রেডে প্রশিক্ষণ কোর্স চালু রয়েছে।

বিটাক সর্বপ্রথম কারিগরি শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে ১৯৬২ সালে তেজগাঁও,১৯৭৩ সালে চট্টগ্রাম, ১৯৭৮ চাঁদপুর , ১৯৯১ সালে খুলনায় এবং ২০০৬ সালে বগুড়ায় এ সংস্থাটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। সরকার আরো বেশ ক’টি বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক) প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সুত্রটি জানায়।

আরো পড়ুন- প্রশিক্ষণ ও শিল্প কারখানায় যন্ত্রাংশ সরবরাহে চাঁদপুর বিটাকের অভাবনীয় সাফল্য

প্রতিবেদক : আবদুল গনি
১১ মার্চ ,২০১৯