Home / আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

সপ্তাহে দু’দিন চলবে ঢাকা-নিউ জলপাইগুড়ি ট্রেন

আগামি ২৬ মার্চ ঢাকা থেকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নিউ জলপাইগুড়ি রুটে যাত্রীবাহী ট্রেন চালু হচ্ছে। বুধবার ২৪ ফেব্রুয়ারি দু’দেশের রেল কর্মকর্তাদের বৈঠক শেষে এ তথ্য জানানো হয়। এটি হবে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের তৃতীয় রেল সেবা।প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার ট্রেনটি যাতায়াত করবে।

ভারতের রেলওয়ের কাটিহার ডিভিশনের ডিআরএম (ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার) রবীন্দ্র কুমার ভার্মা সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। বাংলাদেশ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও তা স্বীকার করেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থেকে পশ্চিমবঙ্গের নিউ জলপাইগুড়ি বা এনজেপি পর্যন্ত এই রেল সেবা শুরুর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্রনাথ মজুমদার ঢাকা পোস্টকে আজ দুপুরে বলেন, আমরা দু’দেশের মধ্যে রেলপথ ও ট্রেন বাড়াতে চাই।

২০০৮ সালের ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষে প্রথম যাত্রীবাহী ট্রেন মৈত্রী এক্সপ্রেস চালু হয়েছিল ঢাকা ও কলকাতার মধ্যে। ২০১৭ সালের ৯ নভেম্বর দ্বিতীয় রেল সেবা ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ চালু হয় খুলনা ও কলকাতার সঙ্গে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালনা শাখার একাধিক কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য ও পর্যটন বাড়াতে ট্রেন সেবা বাড়ানো হচ্ছে।

আগামি ২৬ মার্চ রাজধানী ঢাকা থেকে ভারতের নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত যাত্রীবাহী যে ট্রেন চালু করা হবে শিগগিরই সে ট্রেনের নাম ও টিকিটের মূল্য ধার্য করা হবে। ট্রেনটি হবে ১০ কামরার। ৯ ঘণ্টায় ঢাকা থেকে নিউ জলপাইগুড়ি রুটে এটি চলাচল করবে।

বাংলাদেশের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ইসলাম,ভারতের নর্থ ফ্রন্টিয়ার রেলের ডিভিশনাল ম্যানেজার রবীন্দ্র কুমার ও শিয়ালদহ ডিভিশনের ডিআরএম শৈলেন্দ্র একটি যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনেও বিষয়টি ভারতীয় গণমাধ্যমকর্মীদের অবহিত করেছেন।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১

করোনায় মৃত্যু ২৫ লাখ ছাড়াল

করোনা মহামারির এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। এর মধ্যেই এই ভাইরাসের আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে লাখ লাখ মানুষ। আক্রান্তের সংখ্যাও কয়েক কোটি। মাসের পর মাস সারাবিশ্বে তাণ্ডব চালিয়ে এখনও ক্ষান্ত হচ্ছে না এই প্রাণঘাতী ভাইরাস।

পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ১১ কোটি ৩০ লাখ ৮৪ হাজার ৮৫২ জন।

করোনা সংক্রমণে মারা গেছে এখন পর্যন্ত ২৫ লাখ ৭ হাজার ৭৬৮ জন। তবে ইতোমধ্যেই করোনা থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৮ কোটি ৮৭ লাখ ১ হাজার ৪৭২ জন।

করোনা সংক্রমণে শীর্ষ ১০’য়ে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, ব্রাজিল, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি, তুরস্ক এবং জার্মানি। এখন পর্যন্ত করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু সবচেয়ে বেশি যুক্তরাষ্ট্রে। আর কোনো দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ধারে-কাছেও নেই।

করোনা সংক্রমণে যুক্তরাষ্ট্র একেবারে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২ কোটি ৮৯ লাখ ৭৪ হাজার ৬২৩। এর মধ্যে মারা গেছে ৫ লাখ ১৮ হাজার ৩৬৩ জন এবং সুস্থ হয়ে উঠেছে ১ কোটি ৯৩ লাখ ৪০ হাজার ৩২৯ জন।

ভারতে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ১০ লাখ ৪৬ হাজার ৪৩২। এর মধ্যে মারা গেছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৭৪২ জন। দেশটিতে ইতোমধ্যেই সুস্থ হয়ে উঠেছে ১ কোটি ৭৩ লাখ ৬ হাজার ৪৩৩ জন।

ব্রাজিলে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ১ কোটি ৩ লাখ ২৬ হাজার ৮ জন। দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ২ লাখ ৫০ হাজার ৭৯ জন। এছাড়া সুস্থ হয়ে উঠেছে ৯২ লাখ ৮১ হাজার ১৮ জন।

রাশিয়ায় এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৪২ লাখ ৯০২। এর মধ্যে মারা গেছে ৮৪ হাজার ৪৩০ জন। দেশটিতে ইতোমধ্যেই সুস্থ হয়ে উঠেছে ৩৭ লাখ ৫১ হাজার ৫৬২ জন।

যুক্তরাজ্যে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৪১ লাখ ৪৪ হাজার ৫৭৭। এর মধ্যে মারা গেছে ১ লাখ ২১ হাজার ৭৪৭ জন। দেশটিতে ইতোমধ্যেই সুস্থ হয়ে উঠেছে ২৬ লাখ ৬৬ হাজার ৪৬৬ জন।

ফ্রান্সে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৩৬ লাখ ৬১ হাজার ৪১০। এর মধ্যে মারা গেছে ৮৫ হাজার ৩২১ জন এবং সুস্থ হয়ে উঠেছে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৪৫০ জন।

স্পেনে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৩১ লাখ ৭০ হাজার ৬৪৪। এর মধ্যে মারা গেছে ৬৮ হাজার ৪৬৮ জন এবং সুস্থ হয়ে উঠেছে ২৫ লাখ ৮৯ হাজার ৯৯৬ জন।

ইতালিতে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ২৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৬৪। এর মধ্যে মারা গেছে ৯৬ হাজার ৬৬৬ জন। দেশটিতে ইতোমধ্যেই সুস্থ হয়ে উঠেছে ২৩ লাখ ৬২ হাজার ৪৬৫ জন।

তুরস্কে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ২৬ লাখ ৬৫ হাজার ১৯৪। এর মধ্যে মারা গেছে ২৮ হাজার ২৮৫ এবং সুস্থ হয়ে উঠেছে ২৫ লাখ ৪০ হাজার ২৯৩ জন।

জার্মানিতে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ২৪ লাখ ১৬ হাজার ৩৭ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ৬৯ হাজার ৬১০ জন। ইতোমধ্যেই দেশটিতে সুস্থ হয়ে উঠেছে ২২ লাখ ১৭ হাজার ৭শ জন।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১

ভ্যাকসিন কিনতে ৯৪ কোটি ডলার পাচ্ছে বাংলাদেশ

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধী টিকা কেনার জন্য বাংলাদেশকে ৯৪০ মিলিয়ন বা ৯৪ কোটি ডলার সহায়তা দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে মঙ্গলবার ২৩ ফেব্রুয়ারি এ আশ্বাস দেন এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ।

প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেসসচিব ইমরুল কায়েস সাংবাদিকদের সাক্ষাতের বিষয়ে জানান।

সাক্ষাতে করোনা মহামারি দূর করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রসংশা করেন মনমোহন প্রকাশ। এশিয়ার তৃতীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সফলভাবে করোনার টিকা কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এডিবির প্রতিনিধি বলেন,‘সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে অর্থিক কর্মকাণ্ড খুলে দেয়ায় জিডিপিতে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।’

মনমোহন প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীকে‘এশিয়া’স জার্নি টু প্রসপারিটি: পলিসি, মার্কেট অ্যান্ড টেকনোলজি ওভার ফিফটি ইয়ার্স’ শীর্ষক এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক প্রকাশিত বইটি উপহার দেন। এছাড়া ‘সাউথইস্ট বাংলাদেশ ইকোনমিক করিডর কম্প্রেহেন্সিভ ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান’ এর তিনটি ভলিয়ম প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ,২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১

ইকুয়েডরে কারাগারে দাঙ্গায় নিহত ৬২

ইকুয়েডরে পৃথক তিনটি কারাগারে দাঙ্গার ঘটনায় কমপক্ষে ৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আরও ডজনখানেক মানুষ আহত হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

গুয়াইয়াকিল, কুয়েনকা এবং লাতাকুনগা কারাগারে বন্দি থাকা প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর মধ্যে দাঙ্গার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বন্দুক এবং ছুরি হামলায় বন্দিরা নিহত হয়েছেন। ইকুয়েডরের কারা সংস্থার পরিচালক এডমুনডো মনকায়ো বলেন, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নেতৃত্ব নিয়ে বন্দি শিবিরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।

তিনি জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ৬২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, অতিরিক্ত ৮শ পুলিশ কর্মকর্তার সহায়তায় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছে এবং বন্দি শিবির এখন আগের অবস্থায় ফিরে গেছে।

এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সবগুলো কারাগারে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ এগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। সোমবার রাত থেকেই মূলত দাঙ্গা পরিস্থিতি শুরু হয়। মঙ্গবার পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে চলে যায়। প্রথমে বন্দিরা কারাগারের নিরাপত্তারক্ষীদের জিম্মি করে। এরপরেই সংঘর্ষ শুরু হয়।

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, কারাগার থেকে বেশ কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স বের হতে দেখা গেছে। কারাগারে দাঙ্গার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বন্দিদের স্বজনরা কারাগারের বাইরে জড়ো হতে শুরু করেন। বন্দিদের সঙ্গে কি ঘটেছে তা জানতে তারা অধীর হয়ে ওঠেন।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১

কাতার বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে বাংলাদেশি ১০১৮ শ্রমিকের মৃত্যু

কাতার বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে গত ১০ বছরে বাংলাদেশি ১০১৮ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার ৬ হাজার ৫০০ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এসব দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও শ্রীলংকা। মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দ্য গার্ডিয়ান।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বকাপ আয়োজনের গৌরব অর্জনের পর থেকে কাতারে প্রতি সপ্তাহে গড়ে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ইংলিশ পত্রিকাটিতে ২০১১ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে পাকিস্তান বাদে ৪টি দেশে গার্ডিয়ানের নির্ভরযোগ্য সূত্র ও দেশগুলোর সরকারি অনুযায়ী দশ বছরে ৫ হাজার ৯২৭ জন প্রবাসী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

এর মধ্যে মৃত বাংলাদেশি শ্রমিকের সংখ্যা ১ হাজার ১৮। কাতারে পাকিস্তানের দূতাবাসের তথ্যানুযায়ী ৮২৪ জন পাকিস্তানি শ্রমিক মারা গেছেন। পাকিস্তানের এ হিসাবটি ২০১০ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত।

২০২০ সালের শেষের দিকের তথ্য এ হিসাবে নেই। তবে কাতারে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক কাজ করে ফিলিপাইন ও কেনিয়ার। যদিও এই দুটি দেশের নাগরিকদের মৃতের সংখ্যা অবশ্য জানা যায়নি। এর ফলে কাতারে প্রবাসী শ্রমিকের মৃত্যুর সঠিক সংখ্যাটি আরও অনেক বড় বলেই ধারণা করছে গার্ডিয়ান।

গত ১০ বছরে বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য অভাবনীয় সব প্রকল্প হাতে নিয়েছে কাতার।

কাতার ২০২২ সালের বিশ্বকাপ প্রস্তুতির আয়োজন শুরু করেছে। সেখানে ব্যাপকহারে দালান নির্মাণ করা হচ্ছে। নতুন করে ৭টি স্টেডিয়াম বানানো হচ্ছে। এ ছাড়া কয়েকটি বিমানবন্দর ও সড়কের কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি যাত্রী সেবা নিশ্চিত করতে সড়কগুলো মেরামত ও নতুন সড়ক তৈরি করা হচ্ছে। হোটেলগুলো ঢেলে সাজানো হচ্ছে। বিভিন্ন দেশের আমন্ত্রিত অতিথি ও দর্শকদের সমাগম ঘটবে কাতার বিশ্বকাপ ঘিরে।

মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা ফেয়ারস্কোয়ার প্রজেক্টস এর পরিচালক নিক ম্যাকগিহান বিশ্বকাপের প্রকল্পের সঙ্গে প্রবাসী শ্রমিকদের মৃত্যুর সম্পর্কটা এভাবেই দেখালেন, ২০১১ সাল থেকে কাতারে যেসব প্রবাসী শ্রমিক মারা গেছেন, তাদের অধিকাংশই কাতার বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ পাওয়ার পর সেখানে গেছেন।

বিশ্বকাপের স্টেডিয়াম বানানোর কাজ করছেন এমন অবস্থাতেই ৩৭ জন শ্রমিক মৃত্যুবরণ করেছেন। যদিও বিশ্বকাপ আয়োজন কমিটি এর মধ্যে ৩৪ জনের মৃত্যুকেই কাজের বাইরের ঘটনায় মৃত্যু বলে চালিয়ে দিয়েছে। যদিও বিশেষজ্ঞরা এসব দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

স্টেডিয়ামের জায়গায় কাজ করতে করতেই মৃত্যুবরণ করেছেন কিছু শ্রমিক, এমন ঘটনাও ঘটেছে বেশ কিছু। গত ১০ বছরে যত মৃত্যু হয়েছে, তার অধিকাংশকেই স্বাভাবিক মৃত্যু বলে দাবি করেছে কাতার।

গার্ডিয়ানের তথ্যে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের যতজন মারা গেছেন, তার ৬৯ ভাগকে স্বাভাবিক মৃত্যু বলা হয়েছে। ১২ ভাগের মৃত্যু সড়ক দুর্ঘটনায়। শুধু ৭ ভাগের মৃত্যুর সঙ্গে কাজের পরিবেশ জড়িত। আর ৭ ভাগ কর্মী আত্মহত্যা করেছেন। ভারতীয়দের ক্ষেত্রে ৮০ ভাগই নাকি স্বাভাবিক মৃত্যু।

সংবাদ মাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই লাশের ময়নাতদন্ত করতে দেওয়া হয় না। ২০১৪ সালে কাতার সরকারের নিজস্ব আইনজীবীরাও প্রবাসী শ্রমিকদের মধ্যে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ায় ময়নাতদন্ত করানোর পরামর্শ দিয়েছিল। কিন্তু সরকার সে পরামর্শকে পাত্তা দেয়নি।

২০১৯ সালে এটা জানা গেছে, কাতারের তীব্র তাপমাত্রা শ্রমিকদের মৃত্যুতে বড় প্রভাব রাখছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংঘটনের গবেষণায় পাওয়া গেছে, বছরের অন্তত চার মাস তীব্র দাবদাহের মধ্যে কাজ করতে হয় শ্রমিকদের।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা

মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকারের দু’সদস্যের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের ফরেন অ্যাসেট কন্ট্রোল দফতর এ নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পাশাপাশি ১ ফেব্রুয়ারির অভ্যুত্থানের প্রতিক্রিয়ায় আরও পদক্ষেপ নেয়ার হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

১ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) ভোরে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করে দেশটির সেনাবাহিনী। এদিন অভিযান চালিয়ে রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি এবং ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের আটক করা হয়। দেশজুড়ে জারি করা হয় জরুরি অবস্থা। ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় দেশটির বেশ কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এবার নতুন করে দু’জনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার উভয়কেই নিষিদ্ধ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

যাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে তারা হলেন, মিয়ানমারের বিমান বাহিনীর প্রধান জেনারেল মুং মুং কিয়াও এবং সেনাবাহিনীর সাবেক চিফ অব স্টাফ এবং সামরিক বাহিনীর অন্যতম স্পেশাল অপারেশন ব্যুরোর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোয়ে মিন্ট তুন। এরা দু’জনই মিয়ানমারের জান্তা সরকারের স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কাউন্সিলের সদস্য। রাজধানী নেপিডো থেকে জেনারেল মিন্ট তুনের পরিচালনাধীন ব্যুরোটি তাদের বিভিন্ন অভিযান নিয়ন্ত্রণ করে। এ নিষেধাজ্ঞার বলে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের কোনো সম্পদ থাকলে তা জব্দ হবে এবং মার্কিন নাগরিকরা এদের সঙ্গে কোনো ধরনের লেনদেন করতে পারবেন না।

এক বিবৃতিতে যু্ক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় বলেছে,“সামরিক বাহিনীটিকে অবশ্যই তাদের পদক্ষেপ থেকে সরে আসতে হবে এবং জরুরিভিত্তিতে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে বার্মার (মিয়ানমার) ক্ষমতায় পুনর্বহাল করতে হবে,তা না হলে অর্থ মন্ত্রণালয় পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না।” বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেনও একই ধরনের হুমকি দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন,‘জনগণের ইচ্ছাকে যারা দমন করছে ও সহিংসতা করছে তাদের বিরুদ্ধে আরও পদক্ষেপ নিতে আমরা দ্বিধা করবো না।’

সোমবার মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়। এ সময় দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল এবং হাজার হাজার প্রতিবাদকারী জনতা বিভিন্ন শহরগুলোতে জড়ো হয় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দেখায়।

সামরিক অভ্যুত্থানের পর তিন সপ্তাহ পার হলেও প্রতিদিন জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ ও পেশাজীবীদের ডাকা আইন অমান্য আন্দোলন থামাতে ব্যর্থ হয়েছে জান্তা। সামরিক শাসনের অবসান ও নির্বাচিত নেত্রী অং সান সু চিসহ আটক অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ,২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১

যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় মৃত্যু ৫ লাখের মাইলফলক ছাড়াল

করোনাভাইরাসে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্রে এ মহামারিতে মৃত্যু ছাড়াল পাঁচ লাখ।

দেশটিতে সর্বোচ্চ আক্রান্তের পাশাপাশি ঘটেছে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা। ভাইরাসটির কারণে এ পর্যন্ত দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে পাঁচ লাখ ১২ হাজার ৫৯০ জনের।

ওয়ার্ল্ডওমিটারস ওয়েবসাইটের তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত দুই কোটি ৮৮ লাখ ২৬ হাজার ৩০৭ জনের দেহে ভাইরাসটির উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ।

আক্রান্তের হিসেবে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ভারত। দেশটিতে এখন পর্যন্ত এক কোটি ১০ লাখ ১৫ হাজার ৮৬৩ জনের দেহে ভাইরাসটির উপস্থিতি পাওয়া গেছে। মৃত্যুর দিক দিয়ে দেশটি আছে তৃতীয় অবস্থানে। এক লাখ ৫৬ হাজার ৪৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে দেশটিতে।

আক্রান্তের হিসাবে তৃতীয় অবস্থানে এবং মৃত্যুর সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ব্রাজিল। দেশটিতে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে এক কোটি এক লাখ ৯৭ হাজার ৫৩১ জন এবং মারা গেছে দুই লাখ ৪৭ হাজার ২৭৬ জন।

এদিকে বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল আট হাজার ৩৫৬ জন। নতুন করে ৩৬৬ জন শনাক্তসহ দেশে মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ৪৩ হাজার ৭১৭ জন।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১

করোনায় আক্রান্ত ১১ কোটি ১৯ লাখ

বিশ্বব্যাপী প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি ১৯ লাখ ৫৩ হাজার ৭৩৬ জনে। এর মধ্যে মারা গেছেন ২৪ লাখ ৭৭ হাজার ৮১৫ জন। আর ৮ কোটি ৭৩ লাখ ১৪ হাজার ৩৬১ জন সুস্থ হয়েছেন।

২২ ফেব্রুয়ারি সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডওমিটার থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

ওয়ার্ল্ডওমিটারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৫ লাখ ১১ হাজার ১৪৪ জন মারা গেছেন। বিশ্বে সর্বোচ্চ আক্রান্তের সংখ্যাও এই দেশটিতে। এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ২ কোটি ৮৭ লাখ ৬৫ হাজার ৪২৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ১ কোটি ৮৮ লাখ ৩ হাজার ৭২৩ জন।

যুক্তরাষ্ট্রের পর মৃত্যু বিবেচনায় করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ব্রাজিল। আক্রান্তের দিক থেকে তৃতীয় স্থানে থাকলেও মৃত্যু বিবেচনায় দেশটির অবস্থান দ্বিতীয়। লাতিন আমেরিকার এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১ কোটি ১৬ লাখ ৮ হাজার ১৭৪ জন। তাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৫৬০ জনের। সুস্থ হয়েছেন ৯০ লাখ ৯৫ হাজার ৪৮৩ জন।

এদিকে করোনা আক্রান্তের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা ভারত মৃত্যু বিবেচনায় আছে তৃতীয় স্থানে। এ পর্যন্ত দেশটিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ১০ লাখ ৫ হাজার ৭৭৬ জন। তাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪১৮ জনের। আর সুস্থ হয়েছেন ১ কোটি ৬ লাখ ৯৭ হাজার ১৪ জন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্তের দিক থেকে রাশিয়া চতুর্থ স্থানে রয়েছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪১ লাখ ৬৪ হাজার ৭২৬ জন। মারা গেছেন ৮৩ হাজার ২৯৩ জন। আর সুস্থ হয়েছেন ৩৭ লাখ ১৩ হাজার ৪৪৫ জন।

আক্রান্তের দিক থেকে পঞ্চম স্থানে থাকা যুক্তরাজ্যে এখন পর্যন্ত করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ৪১ লাখ ১৫ হাজার ৫০৯ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৫৮০ জন। আর ২৪ লাখ ৯৪ হাজার ২১৮ জন সুস্থ হয়েছেন।

এদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের তালিকায় ফ্রান্স ষষ্ঠ, স্পেন সপ্তম, ইতালি অষ্টম, তুরস্ক নবম ও জার্মানি দশম স্থানে আছে। আর বাংলাদেশের অবস্থান ৩৩তম।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। দেশটিতে করোনায় প্রথম রোগীর মৃত্যু হয় ২০২০ সালের ৯ জানুয়ারি। ওই বছরের ১৩ জানুয়ারি চীনের বাইরে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় থাইল্যান্ডে। পরে ধীরে ধীরে বিভিন্ন দেশে করোনা ছড়িয়ে পড়ে।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষিতে গত বছরের ৩০ জানুয়ারি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। গত ২ ফেব্রুয়ারি চীনের বাইরে করোনায় প্রথম কোনো রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ফিলিপাইনে। এরপর গত ১১ মার্চ করোনাকে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে উম্মোচিত হলো দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা স্মৃতিসৌধ

একুশে ফেব্রুয়ারি জাতীয় শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে রোববার সিডনিতে উম্মোচিত হলো দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা স্মৃতিসৌধ। একুশে ফেব্রুয়ারি ২০২১ সকাল ১১ টার দিকে সিডনির বেলমোরের পীল পার্কে মাথা উঁচু করে দাঁড়ালো অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা স্মৃতিসৌধ।

ক্যান্টারব্যুরি- ব্যাংক্সটাউন কাউন্সিলের উদ্যোগে বাংলাদেশী অধ্যুষিত লাকেম্বার পার্শ্ববর্তী সাবার্ব বেলমোরের পিল পার্কে (Peel Park) স্থাপিত এই স্মৃতিসৌধটি উম্মোচন করেন কাউন্সিলের মেয়র খাল আশফর, কাউন্সিলর নাজমুল হুদা, কনসাল জেনারেল খন্দকার মাসুদুল আলম, ফেডারেল এমপি টনি বার্ক। এসময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় মেয়র খাল আসফার, স্মৃতিস্তম্ভ বাস্তবায়ন কমিটির টিম লিডার কাউন্সিলর মোহাম্মদ নাজমুল হুদা, মুনীর হোসেন, আব্দুল্লাহ আল নোমান শামীম, শাহে জামান টিটু, লিঙ্কন শফিকউল্লাহ সহ বাংলাদেশী কমিউনিটির নেতারা।

ক্যান্টারবারি ব্যাংকসটাউন সিটি কাউন্সিলের মেয়র খাল আসফর বলেন, “কাউন্সিলের আজকে একটি গর্বের দিন কেননা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এই দিনটিতেই আমার কাউন্সিলে স্মৃতিসৌধটি অনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে পেরেছি।”

অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল এম পি টনি বার্ক বলেন, ”পৃথিবীর অনেক দেশ থেকে প্রতি বছরই মাতৃভাষা হারিয়ে যাচ্ছে এবং অস্ট্রেলিয়া থেকেও আদিবাসীদের শতধিক মাতৃভাষা হারিয়ে গিয়েছে। ১৯৫২ সালের তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের চাপিয়ে দেয়া ভাষার বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তান জেগে উঠে তাদের ভাষা রক্ষার জন্য। বহু সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে বাংলা ভাষাকে রক্ষা করে বাংলাদেশের মানুষরা। আর সেই কথা স্মরণ করেই আজ পৃথিবী জুড়ে ২১ শে ফেব্রুয়ারি পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।”

বাংলাদেশী কাউন্সিলর মোহাম্মদ হুদা বলেন, “আজকে আমি কাউন্সিলর হিসেবে নিজেকে খুবই ধন্য মনে করছি আমাদের বাংলাদেশ কমিউনিটির তথা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের জন্য একটি স্মৃতিসৌধ করতে পেরেছি কাউন্সিলের সহায়তায়। আমি বিশেষ ভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ডিজাইন, অর্থ সংগ্রহ এবং কমিউনিটির অন্যান্য সংগঠনের প্রতিটি সদস্যকে যারা আমাকে সবসময় উৎসাহ দিয়ে গিয়েছেন।” এ সময় তিনি তাঁর পুরো কাজের অকৃত্তিম সহযোদ্ধা টিটো শাহে জামান, স্মৃতিসৌধের প্রাথমিক ধারনার জন্য মুনীর হোসেইনকে, আব্দুল্লাহ আল নোমান শামিম, লিঙ্কন শফিকুল্লাহকে ধন্যবাদ জানান।

বাংলাদেশ হাই কমিশনের সিডনির কনসোলেট জেনারেল খন্দকার মাসুদুল আলম বলেন,” আজ আমার অহংকার লাগছে সেই ২১ শে ফেব্রুয়ারি এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে পৃথিবীতে স্বীকৃতি পেয়েছে এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে সরকারি ভাবে আরও একটি মাতৃভাষা স্মৃতিসৌধ উদ্বোধন করার মধ্য দিয়ে ।”

ফারিয়া নাজিম ও অমিয়া মতিনের সাথে সমবেত কণ্ঠে “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী”গানটি গেয়ে ভাষা শহীদদের স্বরণ করেন উপস্থিত সবাই। ডাঃ তানভীর, রেমন্ড সোলেমন, কানিতার অনবদ্য আয়োজনও কাউন্সিলর হুদা উল্লেখ করেছেন।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা স্মৃতিসৌধ উদ্বোধন শেষে পুস্পস্তবক অর্পন করেন ফেডারেল এমপি টনি বার্ক। পিল পার্কের নতুন এ মাতৃভাষা স্মৃতিসৌধটির নকশায় একজন মা ও ডানে–বাঁয়ে তাঁর দুই সন্তানকে আগলে রেখেছেন এবং ওপরে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা সাদৃশ্য প্রতীক রয়েছে। ম্যুরালটির পেঁছনে রয়েছে পাঁচটি ভাষায় লেখা একটি বিবৃতি। সেটি হলো: মাতৃভাষা আমাদের স্বত্বার অংশ। মায়ের ভাষাকে নিজে ধারন করুন এবং আপনার সন্তানদের মাঝে ছড়িয়ে দিন। মাতৃভাষাকে বাঁচিয়ে রাখতে লেখায়, পড়ায় এবং বলায় এর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করুন।

এর আগে স্থানীয় প্রবাসীদের উদ্যোগে একটি গালা ডিনারে বাংলাদেশিরা প্রায় ৪৩ হাজার ডলার সংগ্রহ করে কাউন্সিল তহবিলে দিয়েছে। সেই হিসেবে এই ম্যুরালটির সঙ্গে বাঙালি কমিউনিটির ওতপ্রোত অবদান রয়েছে।

এর আগে ২০০৬ সালে সিডনির অ্যাশফিল্ড পার্কে বাংলাদেশিদের উদ্যোগে প্রথম আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়। সেই থেকে সেখানেই প্রতি বছর ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা এবং একুশের অনুষ্ঠান হয়ে আসছিলো।

স্টাফ করেসপন্ডেট,২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১

ভ্যাকসিনের প্রথম চালান পৌঁছেছে মালয়েশিয়ায়

উন্নতদেশ মালয়েশিয়ায় গত এক বছরে বহু সংখ্যক করোনা শনাক্ত রোগী মৃত্যুবরণ করায় বহুল প্রতীক্ষিত ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথম চালানে করোনা মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য ‘কোভিড -১৯ ফাইজার-বায়োএনটেক বিএনটি টি’ ভ্যাকসিন সরবরাহ করতে চলেছে।

এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি রবিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট এমএইচ ৬০৪ এবং এয়ারবাস ৩৩০-৩০০ যোগে সেপাংয়ের কেএল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এ অবতরণ করে।

এই সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাতুক সেরি ড আধাম বাবা, জাতীয় সিওভিড -১৯ টিকাদান কর্মসূচির সমন্বয়কারী ও বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন মন্ত্রী, মন্ত্রী খয়েরী জামালউদ্দিন, পরিবহণ মন্ত্রী দাতুক সেরি ডাঃ ওয়ে কা সিওং এবং স্বাস্থ্য মহাপরিচালক তান শ্রী ডাঃ নূর হিশাম আবদুল্লাহ উপস্থিত থেকে ৩১২৩৯০ ডোজ ভ্যাকসিনের প্রথম চালানটি গ্রহণ করেন।

মালয়েশিয়ার আবহাওয়া অধিদফতরের ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আবহাওয়া ঠিক থাকবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, স্পর্শের সময় সেপাং ও পুত্রজায়া অঞ্চলে ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ছিল তখন আবহাওয়া। ভ্যাকসিনের আগমনে দেশের সর্বকালের বৃহত্তম টিকা কর্মসূচী জাতীয় কোভিড -১৯ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করবে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথম দিকের একটি দেশ এই টিকা ব্যবহারের জন্য, ৩২ মিলিয়ন লোকের জনসংখ্যা নিয়ে মালয়েশিয়া আশাবাদী যে টিকাদান কর্মসূচী দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও জনগণের জীবনযাত্রার উন্নতির জন্য দেশটির প্রচেষ্টাকে ত্বরান্বিত করবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের (এমওএইচ) জাতীয় ফার্মাসিউটিক্যাল রেগুলেটরি এজেন্সি (এনপিআরএ) দ্বারা এই ভ্যাকসিন কার্যকর ও অনুমোদিত হয়েছে। টিকাদান কর্মসূচিকে এমওএইচ, সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, সিভিল ডিফেন্স ফোর্স এবং মালয়েশিয়ার স্বেচ্ছাসেবক বিভাগ (রেলা) সহ ফ্রন্টলাইন কর্মীদের জন্য ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত প্রথম নির্ধারিত তিনটি পর্যায়ে বিভক্ত করা হয়েছে।

এমওএইচ দেশব্যাপী ইতিমধ্যে প্রায় ৬০০ টিকা কেন্দ্র সনাক্ত করেছে এবং প্রস্তুত করেছে, এর মধ্যে স্বাস্থ্য ক্লিনিক পাশাপাশি সরকারী ও বেসরকারী হাসপাতাল রয়েছে। প্রতিটি স্টেশনে সাতটি ভ্যাকসিনেটর থাকবে।

দ্বিতীয় পর্বটি এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সের স্থানীয় প্রবীণ নাগরিকদের এবং অসুস্থতার সমস্যাযুক্ত দুর্বল গোষ্ঠীগুলির পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য।

তৃতীয় পর্বটি ১৮ বা তার বেশি বয়সীদের জন্য ২০২২ সালের মে থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধানমন্ত্রী টান শ্রী মুহিউদ্দিন ইয়াসিন আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি টিকাদান অনুশীলনের প্রথম দিন এবং বেশ কয়েকজন ফ্রন্টলাইনারের সাথে এই টিকা গ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ১১ জানুয়ারি, স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে এবং ফাইজার (মালয়েশিয়া) এসডিএন ভিডিও কনফারেন্স এর মাধ্যমে কোভিড -১৯ ফাইজার-বায়োএনটেক বিএনটি ১২২২ বি এর প্রথম পর্বের সরবরাহের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

ফাইজারের (মালয়েশিয়া) সাথে চুক্তিতে ১ কোটি ২৭ লক্ষ ৯৯ হাজার ৮০০ ডোজ ভ্যাকসিন সংগ্রহের সাথে জড়িত রয়েছে, যা জনসংখ্যার ২০% লোককে প্রতি ব্যক্তি হিসাবে দুটি ডোজ করে হিসেব করা হয়েছে ।

ঢাকা চীফ ব্যুরো,২১ ফেব্রুয়ারি,২০২১;