চাঁদপুর

কৃষকদের ধান কেনার দাবিতে চাঁদপুরে বিএনপির স্মারকলিপি

ধানের ন্যায্য মূল্য প্রদানের দাবিতে সারা দেশের ন্যায় চাঁদপুরেও স্মারকলিপি দিয়েছে জেলা বিএনপির। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামানের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন বিএনপির নেতারা।

স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দেওয়ান মো. সফিকুজ্জামান, মুনির চৌধুরী, আক্তার হোসেন মাঝি, অ্যাড. হারুনুর রশীদ, জেলা সেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী, জেলা যুবদলের সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন চান্দু, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুয়েল, জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি অ্যাড. কোহিনুর কেগম, সদর উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. বরকত উল্যাহ খান, বাগাদী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক বাবুল মোল্লাসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, বোরো ধানের দাম নিয়ে কৃষকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। উৎপাদিত ধানের মূল্য উৎপাদন খরচের চেয়ে অনেকগুন কম হওয়ায় কৃষকরা হাহাকার করছে।

উৎপাদন খরচ থেকে তিনশো টাকা কমে প্রতি মন ধান বিক্রি করতে হচ্ছে কৃষকদের। প্রতি বিঘা জমিতে কৃষকের ক্ষতি হচ্ছে দুই হাজার টাকা। ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় টাঙ্গাইল, জয়পুরহাট ও নেত্রকোণাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কৃষকরা পাকা ধানক্ষেতে আগুন দিচ্ছে।

পাকা ধানে মই দিচ্ছে, সড়কে ধান ছিটিয়ে প্রতিবাদ করছে। সরকার প্রতি মন ধান কেনার জন্য ১ হাজার ৪০ টাকা প্রদান করলেও কৃষকের হাতে যাচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। বাকী টাকা যাচ্ছে সরকারের আনুকুল্য পাওয়া মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে। এ নিয়ে সরকারের কোন মাথা ব্যথা নেই।

ধানের দাম কমার জন্য উদ্ভূত সংকটে সরকার উদাসীন। এ বিষয়ে তাদের কোন দায় নেই বলে কৃষিমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। সরকারের গণবিরোধী নীতির কারণেই কৃষকরা উৎপাদিত ধানের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

অথচ কৃষকরাই বাংলাদেশের আত্মা ও দেশের প্রাণ। কৃষকদের রক্ষা করতে না পারলে দেশে দুর্যোগ নেমে আসবে। তারা উৎপাদন বন্ধ করে দিলে দেশে দুর্ভিক্ষ নেমে আসবে, ১৭ কোটি মানুষ না খেয়ে মরবে। আমরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি চাঁদপুর জেলা শাখা মধ্যস্থতাকারি সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে ধান ক্রয় না করে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনে ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা ও মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম বন্ধ করার জন্য চাঁদপুর বিএনপি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

স্মারকলিপিতে আরো উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি জাতীয় মজুরী কমিশন বাস্তবায়ন ও বকেয়া মজুরীসহ ৯ দফা দাবিতে বাংলাদেশ রাষ্ট্রায়াত্ত্ব বিভিন্ন পাটকল শ্রমিকরা আন্দোলন করছে। দেশের ২৬টি পাটকলে একযোগে লাগাতার ধর্মঘট শুরু হলেও সরকার তাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিচ্ছে না।

১০ থেকে ১৫ সপ্তাহ মজুরী না পেয়ে শ্রমিকরা অর্ধাহার ও অনাহারে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। ২০১৫ সালের মজুরী কমিশন রোয়েদাদ এখনও বাস্তবায়ন করা হয়নি। অথচ রমজান মাস শুরু হয়েছে।

এ মাসে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য পণ্য কেনার সামর্থ তাদের নেই। কর্মচারীদের চার মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। শ্রমজীবি মানুষের স্বার্থের প্রতি সরকারের কোন ভ্রুক্ষেপ নেই।

বরং তাদের ওপর শোষণের মাত্রা আরও তীব্র হয়েছে। শ্রমিকরা পাটজাত দ্রব্য উৎপাদন করছে বিনিময়ে তারা মজুরী থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দেশে বৈষম্য ও বঞ্চনা প্রকট আকার ধারণ করেছে। আমরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি চাঁদপুর জেলার পক্ষে থেকে পাটকল শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবীগুলি সরকারকে মেনে নেয়ার জন্য আপনার মাধ্যমে আহ্বান জানাচ্ছি।

Share