চাঁদপুরে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। নিয়মিত অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পাশাপাশি জনসচেতনতা তৈরিতে নানা কার্যক্রমের মাধ্যমে মাদক নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে সংস্থাটি।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাদকবিরোধী অভিযানে মোট ১৬১টি মামলা করেছে চাঁদপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এসব অভিযানে ১৭৬ জন মাদক পাচারকারী ও বিক্রেতাকে আটক করা হয়েছে।
অভিযানে আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে ৪ হাজার ১৬২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ২০ কেজি ৩৯৭ গ্রাম গাঁজা, নগদ ৪৮ হাজার ২৫ টাকা, দুটি সিএনজি ও তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৫৬ টি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অভিযানের পাশাপাশি মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতেও গুরুত্ব দিচ্ছে চাঁদপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। জেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় সচেতনতামূলক সভা, কারাগারে বন্দীদের সংশোধনমূলক কার্যক্রম এবং মসজিদ, মাদ্রাসা, পাড়া-মহল্লা, ওয়ার্ড ও হাট-বাজারে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হচ্ছে। এসব কর্মসূচিতে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহের কুফল তুলে ধরা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরার পাশাপাশি লিফলেট, জ্যামিতি বক্স ও কলম বিতরণের মাধ্যমেও সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এসব কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিচ্ছেন।
অভিযানের সাফল্য প্রসঙ্গে চাঁদপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মুহাঃ মিজানুর রহমান বলেন, কেউ অপরাধ করলে ছাড় পাওয়ার সুযোগ নেই। মাদক সমস্যা শুধু বাংলাদেশের নয়, সারা পৃথিবীতেই এটি এখন একটি বড় সমস্যা।
তিনি বলেন, মাদক সেবনে মানুষের শারীরিক ও মানসিক উভয় ধরনের ক্ষতি হয়। মাদকাসক্তির কারণে একজন ব্যক্তি যেমন নিজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করেন, তেমনি তার পরিবারও নানা সংকটের মধ্যে পড়ে। এর নেতিবাচক প্রভাব সমাজেও পড়ে।
মিজানুর রহমান বলেন, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। কোনো শিক্ষার্থী মাদকে আসক্ত হয়ে পড়লে তার নিজের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই মাদকের বিরুদ্ধে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
মিজানুর রহমান আরও বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি মাদকের সঙ্গে জড়িতদের প্রতিহত করতে হবে এবং প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে হবে। স্কুল-কলেজে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি মাদকের ভয়াবহ কুফল সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করা এবং বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাও জরুরি। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসনের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য: চাঁদপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নিয়মিত অভিযান, মাদক উদ্ধার, মামলা ও আসামি আটকের পাশাপাশি ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতা তৈরিতে সংস্থাটির ধারাবাহিক কার্যক্রম মাদক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
প্রতিবেদক: সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী,
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur