Home / আবহাওয়া / গরম নিয়ে দু:সংবাদ দিল আবহাওয়া অফিস
Heat_Weather

গরম নিয়ে দু:সংবাদ দিল আবহাওয়া অফিস

বৃষ্টির প্রবণতা কমে বুধবার থেকে সারা দেশে গরম বাড়তে পারে। সেইসাথে ভ্যাপসা গরম দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ভাদ্র মাসের এই কয়েক দিন ছাড়াও আশ্বিনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এ ধরনের ভ্যাপসা গরম বয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা।

সোমবার সন্ধ্যায় আবহাওয়াবিদ আব্দুল হামিদ মিয়া বলেন,মঙ্গলবার কমবেশি বৃষ্টি থাকলেও পরদিন থেকে বৃষ্টির প্রবণতা কমে তাপমাত্রা বাড়তে পারে। আর বছরের এই সময়ে বাতাসে জলীয় বাষ্পের প্রভাব বেশি থাকে,ফলে তাপমাত্রা খুব বেশি না বাড়লেও অনুভূত গরমের মাত্রা প্রকৃত তাপমাত্রার চেয়ে ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি বেশি থাকে।

সোমবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয় রাজশাহীতে,৩৫ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, রাজধানীতে ৩৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি। এদিন সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয় খুলনার মোংলায়, ৪০ মিলিমিটার, আর রাজধানীতে সামান্য বৃষ্টি হয়েছে।

সিনপটিক পরিস্থিতি অনুযায়ী,মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, উত্তর প্রদেশ,বিহার,পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

এতে মঙ্গলবার রংপুর,রাজশাহী,ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। বর্ধিত পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে আবহাওয়ার বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া আবহাওয়াবিদদের মতে, এবার এল নিনোর প্রভাবে সারাবিশ্বেই তাপমাত্রা বেড়েছে, যার ছাপ পড়েছে বাংলাদেশেও। যুক্তরাষ্ট্রের এনওএএ ক্লাইমেট প্রেডিকশন সেন্টার ও বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী,চলতি বছর বিশ্ব দেড়শ বছরের মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী এল নিনো চক্রের মুখোমুখি হতে পারে,যা আগস্ট থেকেই সক্রিয় হতে শুরু করেছে এবং বছরের বাকি সময়েও আরও শক্তিশালী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন,দক্ষিণ এশিয়ায় এল নিনোর প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যায় সাধারণত আগস্ট-সেপ্টেম্বরে, যা কোথাও অতিবৃষ্টি আবার কোথাও অনাবৃষ্টির কারণ হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস অনুযায়ী,চলতি সেপ্টেম্বরে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হতে পারে,তবে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে তিনটি মৌসুমি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার একটি নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে। দিন-রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকায় মাসে দু’থেকে তিনটি মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে—মৃদু তাপপ্রবাহে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬-৩৭.৯ ডিগ্রি এবং মাঝারি তাপপ্রবাহে ৩৮-৩৯.৯ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠতে পারে।

বিদায়ী আগস্টে বঙ্গোপসাগরে মোট চারটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছিল,যার দুটি মৌসুমি নিম্নচাপে রূপ নেয়, আর মাসজুড়ে ১০-১২, ২২ এবং ২৬-৩০ আগস্ট পর্যন্ত বিক্ষিপ্তভাবে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে গিয়েছিল।

৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এ জি