রাজনীতির মঞ্চে প্রতিশ্রুতি দেওয়া সহজ, কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে মানুষের আস্থা অর্জন করা কঠিন। কারণ কখনো কখনো রাজনীতির মঞ্চে দেওয়া প্রতিশ্রুতি নির্বাচনের পর হারিয়ে যায় বাস্তবতার ভিড়ে। তবে চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক সেই প্রচলিত ধারণার ব্যতিক্রম হয়ে উঠেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী চাঁদপুর শহরের মুনিরা ভবনের বর্তমান চিত্র দেখে এমনটাই মনে করছেন চাঁদপুর-৩ নির্বাচনী এলাকার সাধারণ মানুষ।
এবারের নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীশেখ ফরিদ আহমেদ মানিক নির্বাচনী প্রচারণার পথসভা, উঠান বৈঠক ও গণসংযোগে তিনি অঙ্গীকার করেছিলেন, ‘নির্বাচিত হলে সাধারণ মানুষের জন্য তার বাড়ির দরজা সবসময় খোলা থাকবে। এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখ, সমস্যা-সংকট এবং ন্যায্য দাবি-দাওয়ার কথা তিনি নিজে শুনবেন।’ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে চাঁদপুরের এমপি নিবাস মনিরা ভবনে।
সদর আসনের এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের উপস্থিতির দিনগুলোতে সকাল থেকেই মনিরা ভবনে ভিড় জমাতে শুরু করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। কেউ আসেন পারিবারিক বিরোধের সমাধান চাইতে, কেউ সামাজিক সমস্যা নিয়ে, কেউবা চিকিৎসা, শিক্ষা কিংবা আর্থিক সহায়তার আবেদন নিয়ে। দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ আসেন তাদের কথা একজন জনপ্রতিনিধির কাছে সরাসরি তুলে ধরতে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সপ্তাহের ৩দিন অর্থাৎ প্রতি বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক একে একে আগত মানুষের কথা শুনছেন। কেউ জমি সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে এসেছেন, কেউ পারিবারিক কলহ মীমাংসার অনুরোধ জানাচ্ছেন, আবার কেউ সন্তানের পড়াশোনা বা চিকিৎসার জন্য সহায়তা চাচ্ছেন। তিনি ধৈর্য সহকারে সবার কথা শুনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
হাইমচর উপজেলার থেকে আসা ষাটোর্ধ্ব আব্দুল মালেক বলেন, “আগে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করা খুব কঠিন ছিল। এখন আমরা সরাসরি এমপি সাহেবের কাছে এসে আমাদের কথা বলতে পারি। তিনি মনোযোগ দিয়ে কথা শোনেন, এটিই আমাদের জন্য অনেক বড় বিষয়।”
চাঁদপুর সদর উপজেলার এক গৃহিণী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “একটি পারিবারিক সমস্যার সমাধানের জন্য এসেছিলাম। ভাবিনি এত সহজে কথা বলতে পারব। তিনি আমাদের সমস্যার কথা শুনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এতে আমরা অনেকটা স্বস্তি পেয়েছি।”
চাঁদপুরের একজন তরুণ শিক্ষার্থী বলেন, “আমাদের এলাকার অনেকেই বিভিন্ন প্রয়োজনে এখানে আসেন। একজন সংসদ সদস্যের কাছে সাধারণ মানুষের এত সহজ প্রবেশাধিকার খুব কমই দেখা যায়। এটি অবশ্যই ইতিবাচক উদ্যোগ।”
স্থানীয়দের মতে, মনিরা ভবন এখন শুধু এমপি সাহেবের ব্যক্তিগত বাসভবন নয়; এটি অনেক অসহায়, দরিদ্র ও বিচারপ্রার্থী মানুষের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে যেসব মানুষ বিভিন্ন সমস্যার কারণে দীর্ঘদিন ধরে দপ্তর থেকে দপ্তরে ঘুরেও সমাধান পান না, প্রভাবশালীদের ভয়ে মুখ খুলতে পারেন না, তারা শেষ আশা নিয়ে এখানে আসেন।
তরুণ সমাজকর্মী ও চাঁদপুর বড়স্টেশন কমিউনিটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা রাসেল পারভেজ বলেন, “জনপ্রতিনিধির মূল কাজ জনগণের কথা শোনা। আমাদের সদর আসনের এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক ভাই নিয়মিত মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, এটি জনগণের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। মানুষ মনে করছে, তাদের কথা শোনার জন্য একজন অভিভাবক রয়েছেন।”
রাজনীতিবিদদের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা তখনই বৃদ্ধি পায়, যখন নির্বাচনের পরও তারা জনগণের পাশে থাকেন। চাঁদপুর-হাইমচরের মানুষের মতে, মনিরা ভবনের উন্মুক্ত দরজা সেই আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে। প্রতিদিনের এই জনসমাগম প্রমাণ করে, মানুষ এখনো তাদের সমস্যা নিয়ে জনপ্রতিনিধির কাছে যেতে চায় এবং প্রত্যাশা করে একটি সহানুভূতিশীল সমাধান।
জনগণের সঙ্গে এই নিবিড় সম্পর্ক ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা শেখ ফরিদ আহমেদ মানিককে ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে আরও দৃঢ় অবস্থান করে দিচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। আর তাই অনেকের কাছেই মনিরা ভবন আজ শুধুই একজন এমপির বাড়ি নয়, বরং অসহায় ও বিচারপ্রার্থী মানুষের নির্ভরতার এক বিশ্বস্ত ঠিকানা।
প্রতিবেদক: আশিক বিন রহিম,
৬ জুন ২০২৬
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur