Home / চাঁদপুর / উচ্চ শব্দদূষণ চাঁদপুরে হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ-জরিমানা ১০ হাজার টাকা

উচ্চ শব্দদূষণ চাঁদপুরে হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ-জরিমানা ১০ হাজার টাকা

আন্তর্জাতিক শব্দ সচেতনতা দিবস উপলক্ষে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর, চাঁদপুর জেলা কার্যালয় যৌথ উদ্যোগে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হয়েছেসাইদ হোসেন অপু চৌধুরী, চাঁদপুর

২৯ এপ্রিল (বুধবার)- চাঁদপুর শহরের বাবুরহাট এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো: মাসুদ রানা। অভিযানে প্রসিকিউশন প্রদান করেন পরিবেশ অধিদপ্তর চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক শরমিতা আহমেদ লিয়া। এ সময় পরিবেশ অধিদপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানকালে চাঁদপুর জেলায় শব্দ দূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫–এর ধারা ৬(১) লঙ্ঘনের দায়ে ২টি জৈনপুর এক্সপ্রেস ও ৩টি মতলব এক্সপ্রেসসহ মোট ৫টি পরিবহন থেকে ১০টি হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করা হয়। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৫টি পরিবহনকে ২০০০ টাকা করে মোট ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।


এছাড়া অভিযান চলাকালে বিভিন্ন যানবাহনে শব্দদূষণবিরোধী সচেতনতামূলক স্টিকার লাগানো হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে চাঁদপুর জেলা পুলিশ বাহিনীর একটি দল সার্বিক সহায়তা প্রদান করে।

চাঁদপুর জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ মাহমুদ মিজানুর রহমান বলেন, “শব্দদূষণ এখন নীরব ঘাতকে পরিণত হয়েছে। এটি মানুষের শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার পাশাপাশি মানসিক চাপ, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ঘুমের ব্যাঘাতসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য অতিরিক্ত শব্দ অত্যন্ত ক্ষতিকর। আন্তর্জাতিক শব্দ সচেতনতা দিবসের মূল লক্ষ্যই হলো মানুষকে এই অদৃশ্য কিন্তু মারাত্মক দূষণ সম্পর্কে সচেতন করা এবং সবাইকে শব্দদূষণ প্রতিরোধে আইন মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করা।

তিনি আরও বলেন, অপ্রয়োজনীয় হাইড্রোলিক হর্নের ব্যবহার, যানবাহনে অতিরিক্ত শব্দ সৃষ্টি, নির্মাণকাজে অনিয়ন্ত্রিত যন্ত্রপাতির ব্যবহার—এসবই শব্দদূষণের প্রধান উৎস। জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। পরিবেশ অধিদপ্তর নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করবে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একইসঙ্গে গণপরিবহন চালক, মালিক ও সাধারণ জনগণকে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।”

-সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী, ৩০ এপ্রিল ২০২৬