বাংলাদেশে প্রতিবছর বজ্রপাতে অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। বিশেষ করে মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বজ্রঝড়ের প্রবণতা বেশি থাকলেও, ক্ষয়ক্ষতির দিক থেকে সবচেয়ে ভয়ংকর রূপ নেয় বৈশাখ মাসে । দেশের ৩৮ % বজ্রপাতই ঘটে মার্চ-মে মাসে, কৃষি ও মৎস্যজীবীদের সতর্ক থাকার এ পরামর্শ। কালবৈশাখীর তাণ্ডবের সাথে তীব্র বজ্রপাতে প্রতিবছরই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কৃষি ও মৎস্যজীবীসহ সাধারণ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বজ্রপাতের ৩৮ % ঘটে প্রাক-বর্ষা মৌসুমে অর্থাৎ মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে। পরবর্তী চার মাস—জুন থেকে সেপ্টেম্বরে ঘটে প্রায় ৫১ % । তবে বৈশাখের ঝড়ে প্রাণহানির হার অন্য সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। এ সময় দেশের আকাশ হঠাৎ কালো হয়ে ধেয়ে আসে কালবৈশাখী, যা বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক পরিচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বজ্রপাতে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হলো খোলা জায়গায় মানুষের অবস্থান। কৃষি শ্রমিকরা ফসলের মাঠে, জেলেরা নদ-নদীতে কিংবা ঘরমুখী মানুষ খোলা জায়গায় থাকার ফলে সরাসরি বজ্রাঘাতের শিকার হন। এছাড়া গ্রামাঞ্চলে নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব এবং সচেতনতার ঘাটতিও বড় কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ বজ্রপাতের সময় জীবন বাঁচাতে নিচের নির্দেশনাগুলো মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে:
নিরাপদ আশ্রয় : বজ্রপাতের আশঙ্কা দেখা দিলে দ্রুত দালান বা কংক্রিটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নিতে হবে। ধাতব বস্তু বা বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে দূরে থাকতে হবে।
খোলা জায়গায় অবস্থান : যদি খোলা মাঠ বা ধানক্ষেতে আটকা পড়েন, তবে কোনো বড় গাছের নিচে না গিয়ে পায়ের আঙুলের ওপর ভর দিয়ে নিচু হয়ে বসে পড়তে হবে এবং কানে আঙুল দিতে হবে।
জলাশয় থেকে দূরে : নদী বা সমুদ্রে থাকলে মাছ ধরা বন্ধ করে দ্রুত নৌকার ছাউনির নিচে যেতে হবে। ছাউনিবিহীন নৌকায় থাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
গাড়িতে থাকাকালীন: যদি আপনি গাড়ির ভেতরে থাকেন, তবে জানালার কাঁচ বন্ধ রাখুন এবং কোনো ধাতব অংশ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন।
অনেকে মনে করেন বজ্রপাতে আহত ব্যক্তিকে স্পর্শ করলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ভয় আছে, যা সম্পূর্ণ ভুল। বজ্রাহত ব্যক্তিকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হবে এবং কৃত্রিম উপায়ে শ্বাস-প্রশ্বাস দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। বিলম্ব না করে তাকে নিকটস্থ হাসপাতাল বা চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়াই জীবন বাঁচানোর সেরা উপায়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বজ্রপাতের তীব্রতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই প্রতিটি নাগরিকের সচেতনতাই পারে এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানি কমিয়ে আনতে।
২৮ এ প্রি ল ২ ০ ২ ৬
এ জি
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur