চাঁদপুরের হাইমচর ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং এর এজেন্ট ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিরীহ ডিপিএস গ্রাহকদের ভোটার আইডি ও তথ্য জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতারণামূলক ঋণ প্রদান, অর্থ আত্মসাৎ এবং পরবর্তীতে ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে মামলা ও হয়রানির অভিযোগের প্রতিবাদে সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে চাঁদপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আমরা চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের পক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদীর সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের এডভোকেট ব্যারিস্টার হামিদুল মিসবাহ, মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোঃ মাসুদ রানা ও নাঈম সরকার।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি হাইমচর বাজার এজেন্ট ব্যাংক শাখা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত তাজুল ইসলাম কবিরাজ (৪০), তার শ্যালিকা আছমা আক্তার (৩০) এবং ভাই মো. আলাউদ্দিন কবিরাজ স্থানীয় প্রায় ৫০ জন বাসিন্দাকে ডিপিএস হিসাব খোলার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, বিভিন্ন ফরমে স্বাক্ষর ও টিপসই নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ডিপিএস হিসাব ছাড়া তাদের সঙ্গে ব্যাংকের অন্য কোনো লেনদেন বা যোগাযোগ ছিল না। কিন্তু পরে অভিযোগ ওঠে, সংগৃহীত কাগজপত্র ও স্বাক্ষরের নমুনা ব্যবহার করে তাদের নামে একাধিক হিসাব খোলা, চেকবই ইস্যু এবং ঋণ গ্রহণ করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এই ঋণের অর্থ সংশ্লিষ্টরা আত্মসাৎ করেন। তারা ৪০ জনের অধিক ব্যাক্তির নামে প্রায় ২ কোটি টাকা ঋন উঠিয়ে এভাবে প্রচারণা করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়। প্রতি জনের নামে ১ লাখ টাকা থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋন দেখানো হয়েছে। এসব ঋণ ইসলামী ব্যাংকের চাঁদপুর শাখা এবং ফরিদগঞ্জ শাখার নামে দেখানো হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, এব্যাপারে ইসলামী ব্যাংকের চাঁদপুর শাখার ম্যানেজারের জানালের যোগাযোগ করলে তিনি বিষয়টি মিমাংশা করার আশ্বাস দেন। কিন্তু দীর্ঘ দিন অতিবাহিত হলেও তিনি তার কোন সুরাহা করেননি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত জালিয়াতি ও প্রতারণার শিকার অলি উল্যাহ, নাছির উদ্দিন, শাহজালাল সরকার, বারেক সরকার, রানা সরকার, আমান উল্যাহ সরকার সহ অসংখ্য ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, আমাদেরকে ইসলামী ব্যাংক ইজেন্ট ব্যাংকিংএর হাইমচর শাখায় গ্রাহক করার নাম করে আমাদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি নিয়ে তারা লোন উঠিয়ে নিজেরা আত্মসাত করে। আমরা এব্যাপারে কিছুই জানিনা। যখন ঋন অনাদায়ের কারণে মামলা হয় তখন আমাদের বাড়িতে পুলিশ আসলে আমরা জানতে পানি আমাদের নামে লোন উঠানো হয়েছে। আমাদেরকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠিয়েছে। অথচ আমরা সাধারণ কৃষক ও শ্রমিক বিধায় আমরা আজ বিনা কারণে জেল জুলুমের শিকার হয়েছি। আমরা যারা এর সাথে জড়িত তাদের সুষ্ঠ এর বিচার চাই।
অভিযোগকারীরা আরও বলা হয়, ঋণের কিস্তি পরিশোধ না হওয়ায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চাঁদপুর আদালতে মামলা দায়ের করে। আদালত রায় দিলে ভুক্তভোগীরা বিষয়টি জানতে পারেন, যখন তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়ে কারাবাসও করেন। পরে তারা নিজস্ব অর্থায়নে ঋণের অর্ধেক পরিমাণ আদালতে জমা দিয়ে জামিনে মুক্তি পান। অভিযুক্তরা আদালতে ভুয়া আসামি উপস্থাপন করে মামলা পরিচালনা করেছেন এবং ভুক্তভোগীদের কেউ কোনো আইনি নোটিশ পাননি। তাদের বক্তব্য, ঋণের অর্থ তারা গ্রহণ করেননি; ফলে নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট আইনের অধীনে দায়ের করা মামলাগুলো আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।
এছাড়া অভিযোগ করা হয়, একই কৌশলে ফরিদগঞ্জ শাখা থেকেও অনুরূপ জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা বাংলাদেশ ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ প্রশাসন, চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন, দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা, সংশ্লিষ্ট এজেন্ট শাখার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানান।
সাংবাদিক সম্মেলনে প্রিন্ট এবং ইলেকট্রিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবেদক: সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী
১৮ এপ্রিল ২০২৬
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur