চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে। জানা যায়, কচুয়া উপজেলায় মোট গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার এবং উপকেন্দ্র রয়েছে ৩টি। কচুয়া (সদর) উপকেন্দ্রে প্রায় ৭০ হাজার গ্রাহকের জন্য বিদ্যুতের চাহিদা ১৬ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭.৮ মেগাওয়াট।
রহিমানগর উপকেন্দ্রে প্রায় ৩০ হাজার গ্রাহকের বিপরীতে চাহিদা ১১ মেগাওয়াট, সেখানে সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ৪ মেগাওয়াট। অন্যদিকে পালাখাল উপকেন্দ্রে প্রায় ২০ হাজার গ্রাহকের জন্য ১০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিং এবং মশার উপদ্রবে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মারাত্মক বিঘ্নের সম্মুখীন হচ্ছে। রাতের বেলায় বিদ্যুৎ না থাকায় অনেককে মোমবাতির আলোয় পড়াশোনা করতে হচ্ছে, যা তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিকে, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে অফিস-আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে কল-কারখানায়। একইসঙ্গে মৌসুমের শেষ সময়ে সেচ কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটায় কৃষকরাও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
কচুয়া জোনাল অফিসের এজিএম (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) লুৎফুর রহমান জানান, জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে না পারা পর্যন্ত চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এই সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
-জিসান আহমেদ নান্নু, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur