চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার সূচীপাড়া উত্তর ইউনিয়নের সূচীপাড়া পশ্চিম পাড়া রব ভূঁইয়া বাড়ির আব্দুর রহিমের স্ত্রী আঁখি আলমগীর মীম গত বুধবার (৮ এপ্রিল ২০২৬) ঢাকার মিরপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। মীম আত্মহত্যার একটি ভিডিও ফুটেজ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তার আত্মহত্যা নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। মীমের পরিবারের দাবি, তাদের মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বিগত ৫ বছর পূর্বেতারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়।
পরিবারের অসম্মতিতে বিবাহ করায় মীমের বাবা আলমগীর হোসেন মেয়ের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে। মেয়ের মৃত্যুর সংবাদ শুনে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি। রোববার (১২ এপ্রিল ২০২৬) সাংবাদিকদের কাছে মেয়ে হত্যার বিচার দাবি করে আলমগীর হোসেন বলেন, আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি, তাকে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি জানান, বিগত এক মাস পূর্বে আমার মেয়েকে নিয়ে তার স্বামী ঢাকায় বসবাস করছে। আমি জানতে পেরেছি, তার স্বামী তাকে বিভিন্ন সময় মারধর করতো। তিনি দাবি করেন, আমার মেয়েকে মেরে জানালার সাথে বেঁধে রাখা হয়। এমনকি তার স্বামী আমার মেয়েকে মারধর করেছে এমন স্বীকারোক্তি আমার কাছে রয়েছে।
তিনি জানান, আমার মেয়ে মারা যাওয়ার বিষয়টি আমাদেরকে না জানিয়ে তারা ঢাকা থেকে এলাকায় নিয়ে এসে দাফন করে। আমার পরিবারের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে মারধর করতে আসে। এ বিষয়ে মীমের মা মনি বেগম তার সন্তানের হত্যার বিচার দাবি করেন। মীমের শ্বশুর বাড়িতে তার স্বামী আব্দুর রহিমকে পাওয়া যায়নি।
তার মা পারভিন বেগম জানান, তাদের পারিবারিক বিরোধ ছিলো। বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নেয়ার ফলে বিরোধের সৃষ্টি হয়। মীম আত্মহত্যা বিষয়ে তিনি সঠিকভাবে কিছুই জানেন না। তবে তিনি দাবি করেন, তার ছেলে মীমকে অনেক ভালোবাসে। মীমের ৩ বছরের একটি ছেলে রয়েছে।
জানা গেছে, ঘটনার পর মীমকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্মরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মিরপুর মডেল থানায় এ বিষয়ে সাধারণ ডায়রি করা হয়েছে।
মীমের স্বামী আব্দুর রহিম মুঠোফোনে জানান, মীমের নামে আমার শ্বশুর বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়েছে। কিস্তি পরিশোধের জন্যে আমার স্ত্রী তার বাবাকে বললে তিনি শুনেননি। নিরুপায় হয়ে মীমকে নিয়ে আমি ঢাকায় চলে আসি। এ নিয়ে আমাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি হয়। মীম আত্মহত্যার তিনদিন পূর্বে ১০টি ঘুমের ঔষধ সেবন করে। আত্মহত্যার পর বাসায় এসে দেখি, সে আরও ২০টি ঘুমের ঔষধ খেয়েছে। তার দাবি, মীম আত্মহত্যা করেছে। জানা গেছে, মীমের শোয়ার ঘরে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে তার স্বামী। কিন্তু আত্মহত্যার আগে পরের কিছু ভিডিও ফুটেজ দেখা গেলেও আত্মহত্যার সময়ের ভিডিও ফুটেজ দেখাতে পারেনি কেউ।
পুলিশ জানায়, মীমের ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পর হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
শাহরাস্তি মডেল থানার ওসি মীর মাহবুবুর রহমান জানান, ঘটনাটি মিরপুর থানায় সংঘটিত হয়েছে। তবে মীমের আত্মীয় স্বজন আমার সহযোগিতা চেয়েছেন। তাই আমি মিরপুর থানায় কথা বলেছি। দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় আত্মহত্যার বিষয়টি আমার কাছে রহস্যজনক মনে হয়েছে।
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur