Home / উপজেলা সংবাদ / হাইমচর / হাইমচরে দেড় লাখ মিটার জাল ও মাছ জব্দ, অবৈধ আড়ত উচ্ছেদ

হাইমচরে দেড় লাখ মিটার জাল ও মাছ জব্দ, অবৈধ আড়ত উচ্ছেদ

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার মেঘনা নদীর অভয়াশ্রম এলাকায় জাটকা রক্ষা ও অবৈধ মাছ শিকার বন্ধে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর ও কোস্টগার্ড।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ভোরে পরিচালিত এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল, নৌকা এবং মাছ জব্দ করা হয়। সেই সঙ্গে একটি অবৈধ মাছের আড়ত উচ্ছেদ করেছে প্রশাসন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অমিত রায়ের দিকনির্দেশনায় চরভৈরবী এবং আমতলী অভয়াশ্রম এলাকায় এই ঝটিকা অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এবিএম আশরাফুল হক।

অভিযান চলাকালীন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চরভৈরবী ইউনিয়নের খুইশার মোড় সংলগ্ন একটি সুপারি বাগানে গড়ে ওঠা অবৈধ মৎস্য আড়তে হানা দেয় যৌথ দল। সেখানে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মেঘনা নদী থেকে আহরণ করা জাটকাসহ নানা প্রজাতির মাছ কেনাবেচা চলছিল। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে অবৈধ কারবারিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

মৎস্য অফিস সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, অভিযানে প্রায় ১,৫০,০০০ (দেড় লক্ষ) মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়েছে। ১০০ কেজি জাটকা ও বিভিন্ন প্রজাতির মাছ উদ্ধার করা হয়েছে। মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত নৌকা ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
অভিযান শেষে জব্দকৃত অবৈধ জালগুলো
কোস্টগার্ডের আউটপোস্ট এলাকায় এনে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। উদ্ধারকৃত মাছগুলো স্থানীয় বিভিন্ন এতিমখানা ও দুস্থ পরিবারগুলোর মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এবিএম আশরাফুল হক জানান “আমরা চরভৈরবী ও আমতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে খুইশার মোড়ের অবৈধ আড়তটি উচ্ছেদ করেছি। আমাদের উপস্থিতি দেখে চক্রটি পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে গ্রেফতার করা না গেলেও বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। জাটকা রক্ষায় আমাদের এই কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে এবং আগামীতে আরও বড় পরিসরে অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

অভিযান পরিচালনাকালে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কোস্টগার্ড হাইমচর উপজেলার নয়ানী আউটপোস্টের বিসিজি পেটি অফিসার নাছির উদ্দিন, উপজেলা মৎস্য অফিসের ক্ষেত্র সহকারী ইজাজ মাহমুদ সহ মৎস্য অধিদপ্তর ও কোস্টগার্ডের সদস্যবৃন্দ।

উল্লেখ্য, জাটকা রক্ষায় মার্চ-এপ্রিল দুই মাস মেঘনা নদীতে সকল ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদক: মোঃ আলমগীর হোসেন (আসিফ)
২ এপ্রিল ২০২৬