পবিত্র মাহে রমজান এলে বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর প্রবণতা দেখা যায়। তবে বাংলাদেশে এর উল্টো চিত্র প্রায়ই লক্ষ্য করা যায়—রমজানকে কেন্দ্র করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী চক্র পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। ফলে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে কৃষক, শ্রমিক ও নিম্ন-মধ্য আয়ের মানুষের জীবনযাপন হয়ে ওঠে কষ্টকর।
এমন বাস্তবতায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার মধ্য চরকুমিরা গ্রামের মুদি ব্যবসায়ী শাহআলম। তিনি চলতি রমজান মাসে লাভ ছাড়াই ক্রয়মূল্যে আটটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করছেন। তার দোকানে ছোলা (বুট), খেসারির ডাল, বেসন, মুড়ি, চিড়া, চিনি, খেজুর ও সয়াবিন তেল—এই আটটি পণ্য কোনো প্রকার লাভ ছাড়া বিক্রি করা হচ্ছে।
শাহআলম তার দোকানের সামনে স্পষ্টভাবে মূল্যতালিকা টানিয়ে দিয়েছেন, যাতে ক্রেতারা সহজেই পণ্যের দাম জানতে পারেন।
মূল্যতালিকা দেখে অনেকেই সন্তোষ প্রকাশ করছেন। প্রতিদিন আশপাশের গ্রাম থেকেও ক্রেতারা তার দোকানে ভিড় করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন, কাউসার হোসাইন ও জহিরুল ইসলামসহ কয়েকজন বলেন,“রমজান এলেই যেখানে বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যায়, সেখানে আমাদের এলাকার ছোট ব্যবসায়ী শাহআলম রোজাদারদের কথা ভেবে উদারতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আগে তিনি ক্রয়মূল্যের সঙ্গে মাত্র এক টাকা লাভ রাখতেন। গত বছর থেকে পুরোপুরি লাভ ছাড়াই পণ্য বিক্রি করছেন। তার এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।”
জানা গেছে, টানা তিন বছর ধরে রমজান মাসে একইভাবে পণ্য বিক্রি করছেন শাহআলম। গত বছরের মতো এবারও তিনি লাভ ছাড়া পণ্য বিক্রি করায় নিম্ন আয়ের মানুষ বিশেষভাবে উপকৃত হচ্ছেন।
এ বিষয়ে শাহআলম বলেন, “বছরের অন্য ১১ মাস ব্যবসা করি। তখনও কম লাভে পণ্য বিক্রি করার চেষ্টা করি, যাতে ক্রেতারা উপকৃত হন।
রমজান মাসে মানুষ যেন ইবাদতে মনোযোগ দিতে পারে এবং বাজারদরের চাপে না পড়ে—এই চিন্তা থেকেই আমি এ উদ্যোগ নিয়েছি। আগে দুই বছর ক্রয়মূল্যের সঙ্গে মাত্র এক টাকা লাভ রাখতাম। গত বছর ও এ বছর পুরো রমজান মাসে আটটি পণ্য সম্পূর্ণ ক্রয়মূল্যে বিক্রি করছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের দেশে কিছু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে রমজানে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। এতে গরিব ও মেহনতি মানুষ কষ্টে পড়ে। তাদের কথা ভেবেই এই উদ্যোগ।”
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর-এর চাঁদপুর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ইমরান বলেন, “শাহআলমের এ উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার। অন্য ব্যবসায়ীরাও যদি এমন মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন, তাহলে নিম্ন আয়ের ভোক্তারা উপকৃত হবেন এবং বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।”
রমজানে মানবিক ব্যবসার এ দৃষ্টান্ত স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সচেতন মহল মনে করছেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে হলেও এমন পদক্ষেপ সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেয় এবং দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে।
প্রতিবেদক: শিমুল হাছান,
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur