চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র চিংড়ি প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ এম. এ. হান্নানের আয়োজনে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হামলা, ভাঙচুর ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ বজা
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মামুনুর রশিদ পাঠানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ফরহাদের পরিচালনায় সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক সাবেক মেয়র মঞ্জিল হোসেন।
লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিএনপির রাজনীতি করে আসছেন এবং ভবিষ্যতেও সেই ধারা অব্যাহত রাখবেন। আমাদের দাবি, আলহাজ এম. এ. হান্নান গত ১৭ বছর নানা প্রতিকূলতা, মামলা-হামলা ও নির্যাতন সহ্য করে দলকে সংগঠিত রেখেছেন এবং ফরিদগঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, একটি ‘কুচক্রী মহল’ ও ‘দলীয় নামধারী’ একটি পক্ষের ষড়যন্ত্রে এমন একজনকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, যিনি আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ। এতে করে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের আশা-আকাঙ্ক্ষা ভেঙে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে নেতাকর্মীদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে এম. এ. হান্নান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চিংড়ি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন। আমাদের দাবি, উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রচারণায় ব্যাপক গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, প্রতিপক্ষের সমর্থিত কিছু ব্যক্তি ও কিশোর গ্যাং নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর থেকেই বিভিন্ন স্থানে আমাদের নির্বাচনী কার্যালয় ও প্রচারণার সরঞ্জাম ভাঙচুর করেছে এবং নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ৫ ফেব্রুয়ারি গুপ্টি ইউনিয়নের হোগলী গ্রামে পূর্বনির্ধারিত উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ চলাকালে প্রতিপক্ষের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি হামলার চেষ্টা চালায়। পরে মান্দারতলী ও খাজুরিয়া বাজার এলাকায়ও হামলার ঘটনা ঘটে । এতে আমাদের কয়েকটি গাড়ি ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরের পাশাপাশি কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।
আহতদের মধ্যে ফারুক হোসেন, জিশান, রাজু আহমেদ, নাহিদ, মেহেদী, আক্তার হোসেন, মাছুম ও মোরশেদ আলমসহ আরো অনেকেই। পরবর্তীতে প্রশাসনের সহায়তায় আমাদের উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া, রূপসা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও চিংড়ি প্রতীকের সমন্বয়ক বিল্লাল হোসেনের বাড়িতেও হামলার অভিযোগ তোলা হয়। দল থেকে আমাদের বহিষ্কারের পরও এম. এ. হান্নানের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তিনি গণমানুষের ভোটে জয়ী হবেন- এমন আশঙ্কা থেকেই প্রতিপক্ষ বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তবে কোনো হামলা-মামলা বা ভয়ভীতি আমাদের নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে বিরত রাখতে পারবে না।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে বক্তারা শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন এবং ভোটারদের ন্যায়, সত্য ও শান্তির পক্ষে থাকার আহ্বান জানান।
এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিংড়ি প্রতীকের প্রার্থী এম.এ হান্নান বলেন, গতকাল তার আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করেছে। আমার কর্মি জহির যদি না ঠেকাতো তা হলে আমার কি হতো আল্লাহ ভালো জানেন। তারা আমার নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ডাঃ আবুল কালাম আজাদের গাড়ি ভাঙচুর করেছেন। তারা আমার জনপ্রিয়তা দেখে আশান্বিত হয়ে এই হামলা করেছে। গতকাল কারা হামলা করেছে সাংবাদিকদের কাছে ভিডিও চিত্র রয়েছে। আজ প্রশাসন আমাদের নিয়ে বসেছেন। আমি তদন্ত করে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছি। এইখানে যদি আমি দুষি হই তাহলে আমার বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেয়া হোক। অতিতের মতো যেন শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মতো না হয়।
তিনি আরো বলেন, আমার উপর হত্যা চেষ্টা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সংসদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি নেতা সফিউল বাশার মুকুল, পৌর বিএনপির সাবেক আহবায়ক আমানত গাজী, আব্দুল্লাহ ইবনে হান্নান, উপজেলা যুবদলের সাবেক আহবায়ক আমজাদ হোসেন সিপন, সাবেক সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম নান্টু, পৌর যুবদলের আহবায়ক ইমাম হোসেন, সাবেক কাউন্সিলর জাকির হোসেন গাজীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
প্রতিবেদক: শিমুল হাছান/
৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur