চাঁদপুর সাহিত্য মঞ্চের আয়োজনে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো ব্যতিক্রমী সাহিত্য অনুষ্ঠান ‘লেখকের গল্প’। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির মোহাম্মদ নাসীরউদ্দিন মিলনায়তনে এই আয়োজন করা হয়।
ব্যতিক্রমী এই আয়োজনে মিলিত হন স্থানীয় এবং দেশ বরেণ্য কবি, কথাসাহিত্যিক, গবেষক ও সংগীতশিল্পীরা। এক অনন্য সাহিত্য সন্ধ্যায় লেখকের জীবন, ভাবনা, সৃষ্টির নেপথ্য গল্প ও চাঁদপুরের সাহিত্য ঐতিহ্য উঠে আসে নানান বয়ানে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য কথাসাহিত্যিক দিলারা মেসবাহ। প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘লেখকের গল্প’ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত লেখক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেখক ও গবেষক ড. সরকার আবদুল মান্নান, কবি ও কথাসাহিত্যিক ইলিয়াস ফারুকী, কথাসাহিত্যিক শামসুল বারী উৎপল, কথাসাহিত্যিক নুরকামরুন নাহার, কবি আশেক-ই খোদা এবং সংগীতশিল্পী নাসরিন আক্তার। তাঁরা নিজেদের লেখালেখির অভিজ্ঞতা, সৃষ্টির পথচলা ও সাহিত্যের সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে কথা বলেন।
লেখক ও সংগঠক মনিরা আক্তারের সভাপতিত্বে এবং চাঁদপুর সাহিত্য মঞ্চের সভাপতি, কবি ও গল্পকার আশিক বিন রহিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা রাখেন চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সহ-সভাপতি আবদুল্লাহিল কাফি, পরিচালক মুহাম্মদ ফরিদ হাসান, নির্বাহী সদস্য নুরুন্নাহার মুন্নি, মোখলেসুর রহমান ভূঁইয়া, লেখক ও সংগঠক কাজী রাসেল, কবির হোসেন মিজি, এইচ এম জাকির, আরিফুল ইসলাম শান্ত, হাসানাত রাজিব, পলাশ দে, ইমরান সাকিব ইমরু, মোহাম্মদ হানিফ, লিও ক্লাব অফ চাঁদপুর এর প্রেসিডেন্ট জান্নাতুল নাইমা জুহানি প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে আমন্ত্রিত অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন সাহিত্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক সাদ আল-আমিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বরেণ্য কথাসাহিত্যিক দিলারা মেসবাহ। তিনি বলেন, “লেখকের গল্প আসলে সময়ের গল্প, সমাজের গল্প। চাঁদপুরের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী জনপদে এমন আয়োজন প্রমাণ করে যে সাহিত্যের নদী এখানেও প্রবহমান। এই উদ্যোগ নতুন লেখকদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।”
তিনি আরো বলেন, চাঁদপুরের সাথে আমার অন্যরকম সম্পর্ক রয়েছে। দীর্ঘকাল আমি এই জেলায় বসবাস করেছি। এই জেলার কৃতি সন্তান সওগাত সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের পরিবারের সাথে আমাদের পরিবারের সম্পর্ক ছিল। আমি এই মহান মানুষটি সান্নিধ্য পেয়েছি। আজকে এখানে আমার সেই স্মৃতিগুলো মনে পড়ছে।
আমন্ত্রিত অতিথিরা তাদের বক্তব্যে অতিথিরা বলেন, “চাঁদপুর শুধু নদী আর বাণিজ্যের শহর নয়, এটি সাহিত্য ও সংস্কৃতিরও একটি শক্তিশালী জনপদ। নিয়মিত সাহিত্যচর্চা ও এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন চাঁদপুরের সাহিত্যিক পরিচয়কে আরও দৃঢ় করবে।” আজকের এই সুন্দর আয়োজনের জন্য আমরা সাহিত্য মঞ্চে পরিবারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
সাহিত্য, স্মৃতি আর সৃষ্টির গল্পে ভর করে ‘লেখকের গল্প’ হয়ে উঠেছিল চাঁদপুরের সাহিত্যাঙ্গনের এক স্মরণীয় আয়োজন, যা আগামী দিনে আরও বিস্তৃত পরিসরে অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।
প্রতিবেদক: আশিক বিন রহিম/
২৩ জানুয়ারি ২০২৬
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur