ফিরে দেখা সে দিনের কথা- আজ থেকে প্রায় ত্রিশ-পঁয়ত্রিশ বছর আগেও ভালো মানের পণ্য ক্রয়ের জন্য চাঁদপুর- কুমিল্লা যেতে হতো। অথচ আজ পার্শ্ববর্তী জেলার মানুষগুলো এখন হাজীগঞ্জে আসে। প্রিয় জেলা চাঁদপুরের জমজমাট বাণিজ্যিক কেন্দ্র হাজীগঞ্জ। কর্মসংস্থানসহ আধুনিকায়নের ট্রেনে হাজীগঞ্জ দূরন্ত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। আমার কর্ম জীবনের প্রতিকূলতার বাঁকে বাঁকে স্মৃতিরপটে ভেসে উঠে সে সময়ের কিছু কথা। ১৯৮৫ সন। আমার শ্রদ্ধেয় বাবার মৃত্যুতে ওনার ওছিয়ত মোতাবেক, বিদেশ থেকে এসে ওয়াক্বফ এস্টেট এর দায়িত্ব নিতে হয়েছে। সে সময় আমি ‘হাজীগঞ্জ- টু-ঢাকা রুটে’ ‘ আল্লাহর দান ’ নামক বাসের মালিক ছিলাম। তার সাথে ব্রিক ফিল্ডের শেয়ারে মালিক ছিলাম।
এস্টেটের দায়িত্ব গ্রহণের সময় এস্টেটের কার্যক্রমে ওয়াক্বীফ মোতওয়াল্লী পরিবারের কয়েকজনসহ আমি মোতওয়াল্লী এবং ১ জন ইমাম, ১ জন মোয়াজ্জিন, ১ জন ক্বারী, ১ জন পাহারাদার, ১ জন কেরানী কাম ভাড়া কালেক্টর, ১ জন ঝাড়ুদার যিনি মসজিদের সাথে অজু করার জন্য খোলা অজুর হাউজের নালা বা ড্রেন পরিষ্কার, টয়লেট পরিষ্কার, মসজিদের আশপাশসহ সাধ্যমত পরিষ্কার করতেন। অর্থাৎ সব মিলিয়ে অত্র এস্টেটের মাত্র ৭ জন স্টাফ-কর্মচারী কর্মরত ছিলো। এমতাবস্থায় ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বড় মসজিদের অবস্থা একটু ফিরে দেখি-মাজারের মত ব্যবস্থাপনা।
বড় মসজিদে মাজার ব্যবস্থাপনার ন্যায় নিয়ত মানতের দ্রব্য সামগ্রি (মোমবাতি, আগরবাতি, বাতাসা, গুড়,জিলাপি, মিষ্টি,ধান, চাল, গম, দুধ, শিন্নী, নারিকেল,গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি, ডিমসহ জমিতে প্রথম উৎপাদিত ফসল, ফল-ফলাদি ইত্যাদি) দান করতেন। তাছাড়াও নবজাতকের শরীরে নিয়তের দাগা বা কাইতন কাটা, মাথা মুন্ডন করিয়ে অজুর হাউজের পানি দিয়ে গোসল করিয়ে ঝাড়-ফুঁ নেয়া। তাছাড়া সাধারণ দর্শণার্থী, তাদের আবেগপূর্ণ প্রত্যাশায় পানি পড়া,ঝাড়-ফুঁ এবং নিয়ত মানতের টাকা পয়সা হাতে দিয়ে তারা তৃপ্ত হতেন।
পাটওয়ারী পরিবারের যাঁরা মসজিদের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন তারা এক একজন দোয়াকারী হিসেবে সম্মানিত হতেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর নবজাতকের কাইতন কাটা,পানির বোতলে ঝাড়-ফুঁ আমাকেও দিতে হয়েছিলো। নিয়ত-মানতের দ্রব্যাদির ভোগ-ব্যবহারে হিসাব সংক্রান্ত ব্যবস্থা ঠিক করা বা রাখা ছিলো জটিল।
যার কারণে উক্ত ব্যবস্থায় অভ্যন্তরীণ ভুল বুঝা-বুঝিসহ এস্টেটের সার্বিক শৃঙ্খলা নষ্ট হয়। বংশের উপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ভব্যিষ্যতের কথা মাথায় নিয়ে উক্ত ব্যবস্থা বন্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণ করি। হাজার হাজার লিফলেট ও হ্যান্ডবিল বিতরণের ব্যবস্থা করি। এমনকি জুময়ার দিন মসজিদের মেহরাব থেকে ইমাম সাহবকে দিয়ে বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে ‘নিয়ত মানতের’ দ্রব্য সামগ্রি গ্রহণ সংক্রান্ত প্রচলিত ব্যবস্থা থেকে বিরত করার জন্য সর্বসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করি।
প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি পারিবারিকভাবে নিয়ত-মানতের দান ও দ্রব্যাদি গ্রহণের ঐতিহ্যগত ‘টেবিল কালেকশান’ এর প্রচলিত ব্যবস্থা সরিয়ে দেই। মাজার ব্যবস্থাপনার ন্যায় প্রচলিত ব্যবস্থার মূলোৎপাটন করা ছিলো এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। এমনকি তা ছিলো বিরল ঘটনা। এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
বাংলাদেশের অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে এরূপ শ্রদ্ধা,ভক্তিসহ ও সম্মানজনক ভাবে আর্থিক এবং বৈষয়িক সুবিধা পাওয়ার মত, এমন সহজ ব্যবস্থাপনা থেকে, নিজেদেরকে স্ব-উদ্যোগে সরিয়ে নেয়ার নজীর, অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে দেখাতে পারবেন বলে মনে হয় না। তবে এ কারণে এস্টেটের অর্থনৈতিক অবস্থায় বিরূপ প্রভাব পড়ে। তা থেকে দেখা যায়- এস্টেটের সংকটাপন্ন অবস্থা : নিয়ত মানতের দ্রব্যাদি এবং টাকার প্রবাহ বন্ধ করার কারণে এস্টেট আর্থিকভাবে চরম সংকটে পড়ে। ভাড়া ঘরগুলো ছিল কাঁচা, সামান্য কিছু আধা-পাকা। প্রতিবছর ঝড়-বৃষ্টির কারণে ঘর মেরামতের খরচ হিসেবে অধিকাংশ টাকা মেরামত বাবদ খরচ হয়ে যেতো।
এস্টেটের সাত জন স্টাফ কর্মচারীর বেতন-ভাতা, প্রাসঙ্গিক খরচ,এমনকি মসজিদে অল্প কয়েকটি লাইটের বিদ্যুৎ বিল দেয়া কঠিন হয়ে পড়েছিলো। বিষয়টি স্পষ্ট যে-আর্থিক সংকট চরমে। এ অবস্থায় মসজিদের ভেতর এবং বাহিরের আঙ্গিনার অবস্থা সম্পর্কে ফিরে তাকালে দেখা যায়- মসজিদের ভেতরের অবস্থা: একজনমাত্র ইমাম। ইমাম সাহেব, জামাতে নামাজ পড়ানোর জন্য, মসজিদের ২য় অংশের শেষের দিকে দাঁড়াতেন। শুধুমাত্র জুময়ার দিনে, জুময়ার নামাজ, মসজিদের মূল অংশের মেহরাবে গিয়ে পড়াতেন। মসজিদের ফ্লোরে হাঁটতে গিয়ে অল্পতেই পা ময়লা হয়ে যেতো। ধুলা-বালি ছাড়াও সিমেন্টের অমসৃন ফ্লোর। বিড়াল ফ্লোরে হাঁটা-হাঁটি করতো। ব্যাঙ ও চিকা রাতে ময়লা করতো।
ফজরের নামাজের মুসল্লীগণের ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় এ ধরণের অপবিত্র ময়লায় বেশি সমস্যা হতো। একজন ঝাড়ুদার, তাই প্রতিদিন পুরো মসজিদ ঝাড়ু দিতে পারতো না। এ কারণে জুময়াকে উদ্দেশ্য করে সপ্তাহে শুধুমাত্র একদিন পুরো মসজিদ লম্বা খেজুরের ডাল দিয়ে ঝাড়ু দিতে পারতো। সে সময় উক্ত এলাকায় ধর্মীয় বিরোধ-বিরোধিতা ছিলো চরমে। জুময়ার দিন দূর দূরান্তের মুসল্লীগণের আগমনে মসজিদ মোটামুটি ভরপুর হয়ে যেতো। তাছাড়া অন্যান্য নামাজের ওয়াক্তে মসজিদে নামাজের জন্য আসা মুসল্লী সংখ্যা তেমন একটা ছিলো না। মসজিদের ভেতরে ২য় অংশে ৭৭ টি পিলার।
পুরাতন ছাদের অবস্থা ভালো ছিল না। বর্ষার সময় ছাদ ঘেমে পানি পড়তো। খোলা টয়লেটের র্দুগন্ধে অধিকাংশ সময় নামাজের মুসল্লীগণ মসজিদে কষ্ট করে নামাজ আদায় করতেন। মসজিদে নামাজের ব্যবস্থাপনার অবস্থা কি রকম দুরাবস্থায় ছিলো,তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। মসজিদের বাহিরেও যা ছিলো তা দেখতে গিয়ে মনে পড়ে যায়- মসজিদ সংলগ্ন অবস্থা- মসজিদের আঙ্গীনার বেহাল দশা। খোলা অজুখানা, মসজিদ সংলগ্ন উত্তর পাশের ডোবা-নালা, খোলা টয়লেট।
ছোট আকারের মাদ্রাসা, মাটির ফ্লোর, ঘর-দুয়ার। তারও দূরাবস্থা। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সংক্রান্ত সমস্যা ছাড়াও খোলা পায়খানার র্দুগন্ধ নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতো। পরীক্ষা নিতে বা দিতে গিয়ে শিক্ষার্থী-শিক্ষকগণের অনেক কষ্ট হতো। মসজিদে সম্মানিত মুসল্লীগণের নামাজের ব্যবস্থা ছিল খুবই নাজুক। অর্থনৈতিক সমস্যায় প্রায় সবই অচল। বেহাল দশা। খরচ চলে না। বাধ্য হয়ে, নামাজসহ প্রাসঙ্গীক ব্যয় মিটাতে গিয়ে আয়ে উৎস বা পথ বের করতে হয়েছে। মনের বিরুদ্ধে চালু করা কাজ- নামাজ সংক্রান্ত প্রাসঙ্গিক সেবা চালাতে গিয়ে মনের বিরুদ্ধে অস্থায়ীভাবে কিছু কাজ চালু করতে হয়েছে।
এক পর্যায়ে আমার চিন্তা চেতনা, মন-মানসিকতা এবং ইচ্ছার বিরূদ্ধে, বাধ্য হয়ে যা যা করতে হয়েছে, তা হচ্ছে: ১. রাস্তার পাশে মসজিদের দক্ষিণ গেইটে দান কালেকশানের জন্য লোক বসিয়ে, মাইক দিয়ে, বাজারে আসা লোকজন বা পথচারীদের কাছ থেকে দান কালেকশান। ২. বাসে ও অন্যান্য যানবাহনে ক্ষুদ্র দান বাক্স পাঠিয়ে বাসের যাত্রীগণের কাছ থেকে দান কালেকশান। ৩. বিভিন্ন এলাকায় ক্ষুদ্র দান বক্স পাঠিয়ে দান কালেকশান।
৪. ট্রান্সপোর্টের মালিক প্রতিনিধির সাথে আলোচনা করে, ঢাকা-হাজীগ বাসের টিকেট ছাপিয়ে তা ট্রান্সপোর্ট মালিকগণের কাছে পাইকারী দামে বিক্রয়ের ব্যবস্থা। ৫. বিদেশে কর্মরত অত্র এলাকার মানুষের কাছে চিঠিপত্র প্রেরণ করে দান কালেকশানের চেষ্টা। ৬. মসজিদের ভিতরে জুময়ার দিন খুৎবার সময় চলমান বাক্স – ঠেলা বাক্স দিয়ে দান কালেকশনের ব্যবস্থা। ৭. হাতে হাতে দান গ্রহণ সম্পূর্ণ বন্ধ করে আকর্ষণীয়, দৃষ্টিনন্দন সিন্দুকের ব্যবস্থা। ৮. যারা নগদ টাকা ও দ্রব্যাদি হাতে হাতে দিতে চান বা দানকারীর পক্ষে বাহক হিসেবে টাকা বা দ্রব্য জমা দিয়ে ডকুমেন্ট বা কাগজ নিতে চান, তাদের জন্য দানের রশিদ দেয়ার ব্যবস্থা।
হিসাব নিকাশের স্বচ্ছতা ধরে রাখার চেষ্টার মধ্যে দিয়ে সম্মানিত মুসল্লীগণের সেবা কার্যক্রমসহ ওয়াকফ এস্টেটের যাবতীয় ব্যয় নির্বাহ করার জন্য আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে উল্লেখিত বিভিন্নমুখী চেষ্টা করতে হয়েছে। কিন্তু এ ব্যবস্থা স্থায়ী আয়ের উৎস হতে পারে না। ভাবতে ভাবতে এক পর্যায়ে আল্লাহ সম্ভবনার দুয়ার খুলে দিয়েছেন।
যার কারণে- আজ সম্মানিত মুসুল্লীগণের নামাজ এবং নামাজের ব্যবস্থাপনায় সাধ্যমত সেবা প্রদানে ৭ এবং ৮ নং কর্মসূচি ব্যতীত বাকি ১ থেকে ৬ পর্যন্ত কর্মসূচি বা দান কালেকশান সংক্রান্ত কার্যক্রমের কোনটিই করতে হয় না-আলহামদুলিল্লাহ। পর্যায়ক্রমে স্থায়ী আয়ের উৎস সৃষ্টি এবং তৈরিতে যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছি। এস্টেটের সেবার মান বর্তমান পর্যন্ত উন্নীত করতে গিয়ে, ১. কোনো ধরণের সরকারি বরাদ্দ ছাড়া। ২. ওয়াক্বফ এস্টেটের আর্থিক সামর্থ ছিলো না। এর মধ্যে দিয়ে আল্লাহপাকের বিশেষ মেহেরবাণীতে মসজিদ এবং নামাজের মুসল্লীগণের সেবা কার্যক্রমের জন্য অনেক চিন্তা-চেতনা, স্বপ্ন-সাধনা এবং সুদূর প্রসারী, স্থায়ী আয়ের লক্ষ্যে নতুন ভাবনা উন্নয়নের ট্রেন চালাতে থাকি।
সেই থেকে উন্নয়নের ট্রেনে চলতে থাকে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ১. মসজিদ সংস্কারে কাজ করি, ২. নূরানী, ৩. হাফেজী এবং ৪. কাওমী মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করি। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি মার্কেট ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে সর্ব সাধারণকে আকর্ষীয় করার লক্ষ্য নিয়ে স্বপ্ন বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করি। আধুনিকতার ছোয়ায় মার্কেট ভবন নির্মাণ করার উদ্যোগ থেকে আধুনিকায়নের ট্রেনে পথ চলা শুরু করি। সে সময় ঢাকা চট্রগ্রাম ব্যতীত অন্যান্য বিভাগীয় শহরেও চলন্ত সিঁড়ি বা এসকেলেটর, লিপ্ট, বিদেশি রঙ্গিন গ্লাস ব্যবহার করে মার্কেট ভবন তৈরি করা হয় নি। মসজিদ বা স্টেশন রোড থেকে বাজারের পূর্ব মাথায় লোহার পুলের পশ্চিম পর্যন্ত, এতটুকুই হাজীগঞ্জ বাজার। যা বর্তানের তুলনায় ছোট একটি বাজার। এতটুকুর মধ্যে দো-চালা, চৌ-চালা ঘর, হাতে গোনা কিছু বড় গদি ঘর নিয়ে এ বাজার।
এস্টেটের চৌ-চালা টিনের ঘরটি ছত্তর ধূনকরের ভাড়াঘর হিসেবে পরিচিত লেপের দোকান এবং মজুমদার আর্টপ্রেস নিয়ে বর্তমানে হাজীগঞ্জ প্লাজার জায়গায় লিফট,এসকেলেটর, চলন্ত সিঁড়ি বসিয়ে মার্কেট ভবন নির্মাণ করি। যা ছিলো মফস্বল পর্যায়ে আকর্ষণীয় এক বিরল ঘটনা। যা দেখার জন্য চাঁদপুর জেলাসহ পার্শ্ববর্তী পুরো অঞ্চলের মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ে। মফস্বল পর্যায়ে চলন্ত সিঁড়ির মার্কেট, এটিই ছিলো আধুনিকায়নের অগ্রযাত্রার প্রথম মাইলফলক। সে সময়ে পৌরসভার বাজেট বক্তৃতায় চেয়ারম্যান নসু চৌধুরী এবং পৌর মেয়র সাহেব আমাকে ‘আধুনিক হাজীগঞ্জের রূপকার’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বক্তব্য রাখেন। সে থেকে জনমনে আধুনিক হাজীগঞ্জের রূপকার কথাটি জনশ্রুত হয়ে আছে।
উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় পর্যায়ক্রমে ১.কাওমী মাদ্রাসা মার্কেট, ২. হাজীগঞ্জ টাওয়ার মার্কেট, ৩. পরবর্তীতে মসজিদের মাঠ বা আঙ্গিনা উন্মুক্তকরণ, ৪. রজনীগন্ধা মার্কেট, ৫. হ্যালিপেড যুক্ত নির্মাণাধীন বিজনেস পার্ক- হযরত মকিমউদ্দিন (রহ.) শপিং সেন্টার। বড় মসজিদ এবং এর সংলগ্ন পার্শ্ববর্তী আঙ্গিনা,মার্কেট ভবনগুলো নির্মাণ এবং কর্মসংস্থানের পাশাপাশি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার দিকে একটু ফিরে তাকালে দেখি- ১. উত্তরাংশে ডোবা জলাশয় এর জায়গা ভরাট করে মসজিদের সামনে থেকে মাদ্রাসা সরিয়ে আহমাদিয়া কামিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা, ২. মনিরিয়া নূরানী মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা, ৩. হযরত মনিরুদ্দীন মনাই হাজী (রহ.) মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা, ৪. পাঁচতলা ফাউন্ডেশান দিয়ে মসজিদের ১ম ও ২য় অংশ একত্রিত করে, উচ্চতা দিয়ে, ছাদ নির্মাণসহ দো’তলা পর্যন্ত মসজিদের নির্মাণ কার্যক্রম সম্পাদন করি।
আল্লাহর মেহেরবাণীতে উন্নয়ন আর উন্নয়ন। অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানমুখী সার্বিক উন্নয়নের কারণেই সম্মানিত মুসল্লীগণের সেবার মান বর্তমান পর্যায় পর্যন্ত উন্নীত করা সম্ভব হয়েছে। ওয়াক্বফ এস্টেটের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায়, অন্যদের মাঝে বিনিয়োগের সাহস জাগ্রত হয়েছে- হাজীগঞ্জে ভূমি এবং ভূমিসহ দোকান মালিকগণের মাঝে, মার্কেট ভবন তৈরি এবং বাড়ি নির্মাণে নতুন জাগরণের সূচনা ঘটে। মসজিদ কমপ্লেক্সের উন্নয়ন কার্যক্রমের ছোয়ায় পুরো বাজার এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় উন্নয়নের গতি সৃষ্টি হয়।
উন্নয়নের গতি ধারায় পর্যায়ক্রমিক উন্নয়নের কারণে, বাজার এলাকা বিগত পঁচিশ বছরে পর্যায়ক্রমে অনেক সম্প্রসারিত হয়। সংলগ্ন এলাকাসহ হাজীগঞ্জ বাজার পার্শ্ববর্তী এলাকা জুড়ে বর্তমানে প্রায় আট থেকে দশ গুণ সম্প্রসারিত হয়েছে। বিনিয়োগকারী উদ্যোক্তাগণের মাঝে সঞ্চারিত আত্মবিশ্বাসের কারণে বিনিয়োগের গতি বেড়েছে বহুগুণ। উন্নয়নের সারথী হিসেবে অনেক ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে বেশ কয়েকটি মার্কেট ভবন নির্মাণ করি। দেশ বিদেশে থাকা পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষও হাজীগঞ্জে বিনিয়োগ করেন। কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ হাজীগঞ্জে এসেছে। বিনিয়োগের প্রবাহে এলাকারও বহু মানুষ নতুনভাবে উদ্যোক্তা হয়েছেন। বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানে নবজাগরণের সূচনা ঘটে। ওয়াক্বফ এস্টেটের সম্পদ-সম্পত্তি, মাটি,বালু আর ইট-পাথরের তৈরি। উন্নয়ন করতে গিয়ে তার উপর ঝড় বয়ে গেছে বার বার, কিন্তু তার প্রতিবাদ সে করতে পারে নি।
মোকাবেলা করতে হয় আমি, আপনি, আমাদেরকে। ঝামেলামুক্ত পরিবেশে, নির্বিঘ্নে, প্রত্যাশিত উন্নয়ন যদি করতে পারতেম, তাহলে মসজিদ কমপ্লেক্সে সেবার মান আরো বেশী যুগোপযোগী করা সম্ভব হতো। কিন্তু তা করতে পারি নি। অথচ বর্তমান পর্যায়ে সেবার মান উন্নয়নসহ বহু মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। ভাড়াঘরের ক্ষেত্রেই যদি বলি- যেকোনো সম্মানিত ভাড়াটিয়ার সাথে তার ‘নিজের কর্মসংস্থান’,তার সাথে আরো কয়েকজন ‘স্টাফ-কর্মচারীর কর্মসংস্থান’ তৈরি হয়েছে। যার ফলে হাজারো সংসার, পরিবার এর সুবিধা পাচ্ছে। সকলের সম্মেলিত প্রচেষ্টায় উদ্যোক্তা,বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী,ভাড়াটিয়া,উপ- ভাড়াটিয়া, স্টাফ,কর্মচারীসহ হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানমুখী উন্নয়নের ট্রেন ছুটে চলেছে আধুনিকায়নের পথে। এরই মধ্যে সহযাত্রী রয়েছে-মাদ্রাসা সমূহের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী।
ওরা নিজেদেরকে দুনিয়া এবং আখেরাতের কল্যাণে যোগ্য করার কাজে নিয়োজিত। এদের ক্লাস,পরীক্ষা কার্যক্রমে আসা-যাওয়া, থাকা-খাওয়া,ধর্মীয় এবং জাতীয় উৎসবসহ বিভিন্ন সময়ে এলাকার সকল দোকানপাটে কেনা-বেচায় অভিভাবকসহ আর্থিক কার্যক্রম জড়িত। ফুটপাতের ফেরিওয়ালা, রিক্সাওয়ালা থেকে বাড়িওয়ালা পর্যন্ত অর্থ প্রবাহের চাকায় হাজারো অভিভাবকের পদচারণায় কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয় হাজীগঞ্জে।
অর্থ প্রবাহের গতি বৃদ্ধি থেকে বৃদ্ধি পাওয়ার গতি বেড়েছে বহুগুণ। যা সম্পদ-সম্পত্তির মূল্য বৃদ্ধিতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। একইভাবে স্কুল,কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসার মাধ্যমেও অর্থ প্রবাহের গতিতে অনন্য মাত্রা যুক্ত করে যাচ্ছে। বিভিন্ন পর্যায়ের উদ্যোক্তা ব্যবসায়ীগণ লক্ষ থেকে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন। ক্রয়-বিক্রয়সহ বিশাল অর্থ প্রবাহের কার্যক্রমের সাথে যুক্ত হয়েছে পর্যায়ক্রমিক বিশাল কর্মসংস্থান।এরই মধ্যে সাধারণ ক্রেতা ছাড়াও ব্যবসায়ীগণ পরস্পর,পরস্পরের ক্রেতা। একজন সম্মানিত উদ্যোক্তা, ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ী,তিনি তার পণ্য সামগ্রী নিয়েই একজন ব্যবসায়ী। তিনি শুধু নিজের দোকান বা প্রতিষ্ঠানের জন্যই পণ্য ক্রয় করেন, এমনটা না। তিনি এবং তার পরিবার-পরিজনের জীবন নির্বাহ, শিক্ষা-দীক্ষা, চিকিৎসাসহ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কাজে অন্যান্য দোকান বা প্রতিষ্ঠানের জন্যে ক্রেতা। পারস্পরিক সক্ষতা এবং বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশের কারণে অর্থ প্রবাহের গতি বেড়েছে বহুগুণ। এভাবে মসজিদ,মাদ্রাসা, স্কুল, কলেজ, ক্ষুদ্র মাঝারি সকল স্তরের উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী এবং স্টাফ- কর্মচারীর সকলকে নিয়ে সকল স্তরের, সকলের সহযোগীতায় আধুনিকায়নের ট্রেনে এখন হাজীগঞ্জ।
সমৃদ্ধির পথে মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করার সুযোগ সৃষ্টিতে হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ কমপ্লেক্স এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে জনমনে স্থান করে নিয়েছে। কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিসহ অর্থ প্রবাহের গতি বেড়েছে বহুগুণ। জমি-জমা,সম্পদ-সম্পত্তির মূল্য বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। জীবন-মান,সুনাম-সুখ্যাতিতে হাজীগঞ্জের মর্যাদা বেড়েছে অনেক। এতো কিছুর পরও উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, সমাজকর্মী, এবং সেবা প্রদানকারী কর্মীদেরকে নিয়ে সমালোচনা পিছু ছাড়ে না। যদি বলি আমার দীর্ঘ কর্ম জীবনে,একজন মানুষেরও ক্ষতি ‘আমার জানা মতে,আমি করি নি’। ন্যায়ত কেউ বলতে পারবে না বা দেখাতে পারবে না। বরং সুযোগ থাকলে আমি উপকার করেছি। আমি শান্তিতে বিশ্বাস করি। শান্তিতেই মনের প্রশান্তি।
তারপরও অপপ্রচার, অপবাদ, মিথ্যাচার, নিন্দা,পরচর্চা, হিংসা-বিদ্ধেষ ইত্যাদি পিছু ছাড়ে নি। এগুলো মাথায় নিয়ে হৃদয়ে রক্ত ক্ষরণের মধ্য দিয়েই কাজ করেছি। ভালো মানুষ, ভালোর পক্ষের মানুষ- চুপ থাকে। এরই মাঝে হিংসাপরায়ন সমালোচক সমালোচনা করেই যায়। তবে-সমালোচকও স্বীকার করবেন-তিনিও কোনো না কোনোভাবে ভুক্তভোগী যে,‘শত্রু বানানোর জন্য কারো ক্ষতি করতে হয় না। আপনি ভালো কাজ করুন-এমনিতেই শত্রু তৈরি হয়ে যাবে’।
যখনই দেখবেন বিরোধিতা বা সমালোচনা কেউ করছে- তখনই যদি একটু গভীরভাবে তাকান তখন দেখবেন- ১. গ্রুপিং এর কারণে কিছু লোকের বিরোধিতা বা ২. ধর্মীয় মতবাদের কারণে বিরোধিতা বা ৩. সামাজিক হিংসা-বিদ্বেষের কারণে বিরোধিতা বা ৪. একান্ত ব্যক্তিগত স্বার্থজনিত বিরোধিতা বা ৫. অন্যের ভালো দেখতে না পারার মত মনোবাবের কারণে বিরোধিতা বা ৬. কোনো না কাজ না করলেও কোনো না কোনো উছিলা ধরে বিরোধীতা করবেই। এটাই বাস্তবতা। বিরোধিতা থাকবেই।
বিগত সময়ে এস্টেটের উন্নয়ন কার্যক্রম করতে গিয়ে, নিজস্ব চিন্তায় অর্থের যোগা সৃষ্টি করে উন্নয়ন করেছি। নানা প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে উন্নয়ন কাজ করা কতটা কঠিন এবং কষ্টকর তা বুঝানোর ক্ষমতা আমার নেই। শুধু এতোটুকুই বলবো- ‘কি যাত না বিষে, বুঝিবে সে কিসে, কভু আশি বিষে,ধ্বংসে নি যারে’। আর সে কারণেই আমরা অনেকেই দু:খ করে কিংবা হাসতে হাসতে বলি, ‘কলিজা ভুনা করে দিলেও, বলবে-লবণ কম হইছে’। এটা মেনে নিয়ে নিরবে সব অসুবিধা, অশান্তি ও কষ্ট সহ্য করে শান্তির পথে হেঁটেছি।
নিজের ক্ষতি হলেও কোন ব্যক্তি কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করি নি। উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং প্রতিষ্ঠানের কল্যাণে দীর্ঘমেয়াদী নিজের কিংবা নিজের সংসার, পরিবার-পরিজনের ক্ষতি মেনে নিয়ে পথ চলেছি। সে প্রেক্ষিতে একটা বিষয় না বললেই নয়-ওয়াক্বফ এস্টেটের উন্নয়ন করতে গিয়ে এস্টেটের টাকা ছিলো না। এমন কি,সরকারি বরাদ্দ ছাড়াই পজেশন জামানত বা সেলামীর অর্থ, ধার দেনাসহ প্রয়োজন মোতাবেক ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করেছি।
নির্মাণাধীন মার্কেট মকিমউদ্দিন শপিং সেন্টার ব্যতীত, বিগত উন্নয়নে ব্যাংক ঋণসহ সকল দায়-দেনা পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করে যাচ্ছি। উন্নয়ন করতে গেলে ধার-দেনা থাকবেই।
সে ধারাবাহিকতায়- ওয়াক্বফ এস্টেটের উন্নয়ন এবং নির্মাণের গতিধারায় ব্যাংক ঋণ গ্রহণ করতে গিয়ে নির্মাণাধীন মকিমউদ্দিন শপিং সেন্টার মর্গেজ দেয়ার সাথে, আমি মোতওয়াল্লী হিসেবে আমার ব্যক্তিগত বাড়ি, জমি-জমা তার সাথে মর্গেজ দিতে বাধ্য হয়েছি। কিন্তু ঋণ পরিশোধকালে অর্থনীতিতে চরম দূরাবস্থা আসবে তা কারো জানা ছিলো না। কোভিড-১৯ ও ইউক্রেন যুদ্ধসহ দেশের অর্থনৈতিক দুরাবস্থা চরমে পৌঁছেছে।
যার কারণে আজও দেশ ঘুরে দাঁড়াতে পারে নি। এরই মধ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা আছেই। টাল-মাটাল অর্থনৈতিক অবস্থা। ইতোপূর্বে নির্মণাধীন ভবনের ৩য়-৪র্থ তলাসহ অন্যান্য স্পেসের পজেশান ভাড়াটিয়াদের সিংহভাগের টাকা ফেরত দিতে হয়েছে। চাহিদা মোতাবেক ব্যাংক কিস্তি পরিশোধ করা সম্ভব হয় নি। যার কারণে ঋণের চক্রবৃদ্ধি হারে ওয়াক্বফ এস্টেটের দায়-দেনা,ঋণ বেড়েই চলেছে। এমতাবস্থায়- ঋণের বোঝায় এস্টেট ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
এস্টেটকে দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক ক্ষতি থেকে মুক্ত করতে গিয়ে ঋণ পরিশোধের জন্য অন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা এখনও করতে পারি নি। বর্তমানে আমার ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রয় করে,ব্যাংক ঋণের দায় পরিশোধ করতে চেষ্টা করছি। এস্টেটের স্বার্থে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রয়। এ ধরণের দৃষ্টান্তÍ দ্বিতীয়টি খুঁজে পাওয়া যাবে না। এভাবে বংশ পরম্পরায় আমাদের ত্যাগের মহিমায় গড়ে উঠেছে ঐতিহ্যের ধারা- আহমাদ আলী পাটওয়ারী রহ. ওয়াক্বফ এস্টেট ও কমপ্লেক্স।
উন্নয়নের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে- হযরত মকিমউদ্দিন (রহ.) এর স্মৃতি বিজড়িত মকিমাবাদের প্রাণকেন্দ্রে, হযরত মনিরুদ্দিন মনাই হাজী (রহ.) এর হাজী দোকানের সু-খ্যাতিতে প্রতিষ্ঠিত হাজীগঞ্জ আজ অনেক সমৃদ্ধ জনপদ। অথচ আজ থেকে ত্রিশ-পঁয়ত্রিশ বছর আগেও সাধারণ মানের ভালো পণ্য পাওয়া যেতো না। এমনকি ভালো খাওয়ার জন্য-কুমিল্লা আমানিয়া হোটেলে যেতে হতো। আজ সকলের চেষ্টায় অন্য উপজেলা,এমনকি পার্শ্ববর্তী জেলার মানুষও লেখা-পড়া, এবাদত-বন্দেগী, চলা-ফেরা, থাকা-খাওয়া ও পণ্য ক্রয় করতে হাজীগঞ্জ আসেন। এতে হাজীগঞ্জে টাকা বিনিয়োগ এবং লেনদেনের পরিমাণ বহুগুণে বেড়েছে। আর্থিক প্রবাহের গতি সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাসঙ্গিক বিষয়ে উল্লেখ করা আবশ্যক যে,এক সময়ে তিনটি বিভাগে ১৮ জন শিক্ষার্থীর বিলুপ্ত মহিলা কলেজের স্থলাভিষিক্ত মডেল কলেজ।
কলেজটির পর্যায়ক্রমিক উত্তোরণে প্রায় ৭ হাজার শিক্ষার্থী এবং ১৩০ জন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়ে কলেজটি সরকারিকরণের মধ্যে দিয়ে আমি প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দীর্ঘ ৩২ বছর দায়িত্ব পালন শেষে অবসর গ্রহণ করি। উক্ত কলেজে ব্যতিক্রমী পদ্ধতিতে শিক্ষাকার্যক্রমের গতিধারায় দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি এবং ফলাফলের বিবেচনায় শিক্ষাবোর্ডের টপ টেনে বার বার অবস্থানের মধ্যে দিয়ে দেশের সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত হয়।
শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকের পদচারণায় হাজীগঞ্জের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশাল প্রভাব পড়তে দেখা যায়। অনেক শিক্ষার্থী কিংবা তার পুরো পরিবারের বাসা ভাড়ার পাশাপাশি থাকা-খাওয়া,ছোট ভাই-বোনের কিন্ডারগার্ডেন, স্কুল, মাদ্রাসা, হাসপাতাল, ঔষধ, জামা-কাপড়, বই-পুস্তকসহ সব ধরণের পণ্য সামগ্রী কেনা কাটায় দোকানপাট,শপিংমলের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। যা স্থানীয় অর্থনৈতিক লেনদেনে গতি সঞ্চার করে।
শিক্ষা-দীক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য,নাগরিক সেবা প্রাপ্তির সহজলভ্যতা ও উন্নত জীবনবোধ স্থানীয় ও বহিরাগতদের জীবনমানের অনন্য পরিবর্তন ঘটায়। যার ফলে অভিজাত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসগৃহ নির্মাণের প্রেক্ষিত তৈরি হওয়ায় বাজার কেন্দ্রিক জায়গা-জমির দাম বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। যা অর্থনীতির আমূল পরিবর্তনে ব্যাপক গতি সঞ্চার করে।
মডেল কলেজকে কেন্দ্র করে হাজীগঞ্জের অর্থনীতির এ জাগরণে উপকৃত হয়েছে এ এলাকার প্রতিটি মানুষ। রিকশাওয়ালা থেকে শুরু করে বাড়িওয়ালা,ফুটপাতের হকার থেকে মুদি দোকানি,বই বিক্রেতা থেকে ঔষধ বিক্রেতা, কাপড় বিক্রেতা থেকে নিত্য পণ্যসহ সকল পর্যায়ের পণ্য সামগ্রীর ব্যবসায়ীগণ উপকৃত হয়েছেন। যার ফলে হাজীগঞ্জে হাজার হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়র পাশাপাশি আর্থিকভাবে অর্থনৈতিক প্রবাহের গতিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। স্রষ্টার মেহেরবাণীতে স্বপ্নই কল্যাণের সারথী। তাই স্বপ্ন দেখতে হয়েছে।
প্রায় ত্রিশবছর পূর্বে হাজীগঞ্জকে জেলা হিসেবে দেখতে চাওয়া, আমার প্রত্যাশা আজ সমৃদ্ধির চাকায় অগ্রসরমান। জীবন বাজি রেখে দুর্গম পথে হেঁটেছি। সকলের সহযোগিতায় বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের ধারাবাহিকতায় আধুনিকায়নের ট্রেনে হাজীগঞ্জ,দুরন্ত গতিতে ছুটে চলেছে, সুন্দর একটি আগামির পথে। হাজীগঞ্জকে আরো সমৃদ্ধ,আলোকিত এবং মর্যাদাশীল করার জন্যে সকলে মিলে ‘পরিকল্পিত হাজীগঞ্জ গড়ি। এ হোক আমাদের স্বপ্ন।
স্বপ্নের স্রোতধারায় সারথির অংশ হিসেবে- ধর্ম-কর্ম,শিক্ষা-দীক্ষায়, সামাজিক কর্মকান্ডে জীবন মান,এলাকার সম্পদ-সম্পত্তির মূল্য বেড়েছে বহুগুণ। ঐতিহাসিক বড় মসজিদের নিদর্শনের সাথে স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা, সরকারি,বেসরকারি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে ব্যবসা-বাণিজ্যে হাজীগঞ্জে অনন্য মাত্রাই যোগ করেছে। ছোট, বড়,মাঝারি সব ধরণের দোকান, ব্যাংক, বীমা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা জেলা শহরের চেয়ে বেশি। বিভিন্ন পণ্যের কয়েক হাজার ব্যবসা প্রতষ্ঠানে হাজার হাজার স্টাফ-কর্মচারী এবং ক্রেতা-সাধারণের পদচারণায় মুখরিত হাজীগঞ্জ আজ উন্নত এবং সমৃদ্ধির ট্রেনে।
হাজীগঞ্জ আজ দেশের অনেক জেলা শহরকেও ছাড়িয়ে গেছে। জনপ্রতিনিধি, সমাজপতিসহ সকলের সর্বাত্মক সহযোগিতায় বড় মসজিদ কমপ্লেক্স, আহমাদ আলী পাটওয়ারী রহ.ওয়াক্বফ এস্টেটের উন্নয়নের গতিধারায় আমাদের প্রিয় হাজীগঞ্জ, আজ আধুনিক হাজীগঞ্জ। এভাবেই কর্মসংস্থানসহ আধুনিকায়নের ট্রেনে হাজীগঞ্জ। উন্নয়ন এবং প্রশান্তির পথ ধরে এগিয়ে যাচ্ছে।
হিংসা-বিদ্বেষ, অপপ্রচার, মিথ্যাচার কল্যাণের পথকে রুদ্ধ করে। ভালোর প্রতিযোগিতা হোক জনে জনে,মনে প্রাণে। এ আদর্শিক ধারায় সমৃদ্ধ, সম্প্রীতির হাজীগঞ্জ হয়ে উঠবে আরো সমৃদ্ধ, সুন্দর, আলোকিত, অনুসৃত এবং অনুকরণীয়। গড়ে উঠবে আগামি প্রজন্মের জন্যে আরো গৌরব এবং ঐতিহ্যের নতুন ঠিকানা। গৌরবের ধারাবাহিকতায় অঞ্চলভিত্তিক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রচেষ্টায় প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ আরো অনেক দূর এগিয়ে যাবে- ইনশাআল্লাহ।
লেখক পরিচিতি : অধ্যক্ষ ড. মো. আলমগীর কবির পাটওয়ারী, প্রাক্তন মোতওয়াল্লী, আহমাদ আলী পাটওয়ারী রহ.ওয়াক্বফ এস্টেট। প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ, হাজীগঞ্জ মডেল সরকারি কলেজ, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর। মুঠোফোন- ০১৭১৩-১০২ ৮৪৯। ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ।
১৮ জানুয়ারি ২০২৬
এ জি
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur