আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর-২ (মতলব দক্ষিণ ও মতলব উত্তর) আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিকভাবে শক্ত অবস্থান থাকা এই আসনে প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে ভোটারদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, চাঁদপুর–২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬৭ হাজার ২৫২ জন। স্থানীয় পর্যবেক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনের একটি বড় অংশের ভোটার ঐতিহ্যগতভাবে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বা সমর্থনশীল। মাঠপর্যায়ে নিয়মিত সাংগঠনিক কার্যক্রম, সামাজিক উদ্যোগ এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক উপস্থিতির কারণে জামায়াতে ইসলামীর প্রতি ভোটারদের আস্থা গড়ে উঠেছে বলে তারা মনে করেন।
এ প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ডা. আবদুল মোবিনকে কেন্দ্র করে আশাবাদ প্রকাশ করছেন অনেক ভোটার। তাদের দাবি, ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে তাকেই দেখতে চান তারা। স্থানীয় বাজার, চা– স্টল ও সামাজিক আড্ডায় আলোচনায় উঠে আসছে এই আসনে জামায়াত ছাড়া অন্য কোনো দলের প্রার্থী ভোটারদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে না।
অন্যদিকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে এলডিপির বিল্লাল হোসেন মিয়াজীর মনোনয়ন ঘোষণার পর ভোটারদের একাংশের মধ্যে তৈরি হয়েছে প্রশ্নœ ও সংশয়। অনেক ভোটাররা বলে বেড়াছে কে এই বিল্লাল,তার নামই তো আমরা শুনেনি কোন দিন। জামায়াত প্রার্থী ব্যতিথ এই বিল্লাল জামানত বায়োপ্ত হবে বলেও মনে করছেন।
মতলব দক্ষিণ ও উত্তর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এলাকায় এলডিপির দৃশ্যমান সাংগঠনিক তৎপরতা নেই বললেই চলে। অনেক ভোটার দাবি করেন, এলডিপির স্থানীয় কমিটি, সক্রিয় নেতা-কর্মী কিংবা নিয়মিত রাজনৈতিক কার্যক্রম চোখে পড়ে না।
একজন ভোটার বলেন, “যে দলের এখানে কোনো সংগঠনই নেই, তাদের প্রার্থীকে কোন যুক্তিতে আমরা ভোট দেব?” আরেকজন মন্তব্য করেন, “এই আসনে আমরা জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী চাই। অন্যথায় ভোট দেওয়ার আগ্রহ কমে যাবে।”
এমন বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, জোট রাজনীতির সমীকরণ মাঠের বাস্তবতার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রশ্ন তুলছেন ভোটাররাই। কেউ কেউ আরও কঠোর অবস্থান নিয়ে জানিয়েছেন, নিজেদের প্রত্যাশার প্রতিফলন না ঘটলে তারা ভোটদানে বিরত থাকার কথাও ভাবছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চাঁদপুর–-২ আসন শুধু একটি নির্বাচনী এলাকা নয়, বরং জোট রাজনীতির কৌশল পরীক্ষার ক্ষেত্র। ভোটারদের সংগঠনভিত্তিক প্রত্যাশা উপেক্ষা করে প্রার্থী নির্ধারণ করা হলে তা নির্বাচনী ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যে আসনে একটি দলের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্ত, সেখানে ভিন্ন দলের প্রার্থী চাপিয়ে দিলে ভোটারদের মধ্যে হতাশা ও অনীহা সৃষ্টি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দল ও জোট নেতাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে শেষ মুহূর্তে সমঝোতা বা কৌশলগত পরিবর্তন আসতে পারে কি না, তা নিয়েও।
সব মিলিয়ে, চাঁদপুর-২আসনে প্রার্থী মনোনয়ন ইস্যু এখন স্থানীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। ভোটারদের প্রত্যাশা, জোট রাজনীতির বাস্তবতা এবং মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক শক্তি এই তিনের সমন্বয়ই নির্ধারণ করবে আসন্ন নির্বাচনে এই আসনের রাজনৈতিক গতিপথ।
নিজস্ব প্রতিবেদক/
১৬ জানুয়ারি ২০২৬
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur