চাঁদপুর জেলা: নদীর মোহনা, ইলিশের প্রজননভূমি ও ইতিহাস ঐতিহ্যের তথ্য
পরিচয়ের দিক থেকে চাঁদপুর জেলা
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল হলো চাঁদপুর জেলা। উপজেলার সংখ্যানুসারে চাঁদপুর চট্টগ্রাম বিভাগে “এ” শ্রেণিভুক্ত জেলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মিলনস্থলের কাছাকাছি অবস্থান-এই ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যই চাঁদপুরের অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও যোগাযোগব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি করেছে।
ইলিশ মাছের অন্যতম প্রজনন অঞ্চল হিসেবে চাঁদপুরকে দীর্ঘদিন ধরে “ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর” নামে ডাকা হয়। ফলে ‘চাঁদপুর জেলা’ বলতে কেবল প্রশাসনিক সীমানাই নয়-নদীনির্ভর জনজীবন, মাছভিত্তিক বাজারব্যবস্থা এবং একটি ঐতিহাসিক নদীবন্দরকেও বোঝায়।
আয়তন ও অবস্থান: চাঁদপুর জেলা কোথায়
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাংশে ২৩°০০´ থেকে ২৩°৩০´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০°৩২´ থেকে ৯১°০২´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ জুড়ে চাঁদপুর জেলার অবস্থান। রাজধানী ঢাকা থেকে এ জেলার দূরত্ব প্রায় ৯৬ কিলোমিটার এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় সদর থেকে প্রায় ২০৮ কিলোমিটার। চাঁদপুর জেলার মোট আয়তন ১,৭০৪.০৬ বর্গ কিলোমিটার।
সীমানা বিবেচনায় উত্তরে কুমিল্লা জেলা, মেঘনা নদী ও মুন্সীগঞ্জ জেলা; দক্ষিণে লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী; পূর্বে কুমিল্লা; পশ্চিমে মেঘনা নদী, মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর ও বরিশাল জেলা। পদ্মা ও মেঘনা নদী চাঁদপুর শহরের কাছে এসে মিলেছে-যা জেলার নদীকেন্দ্রিক পরিচয়ের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
নদী ও ইলিশ: ‘ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর’ পরিচয়ের ভিত্তি
চাঁদপুরকে অনেকেই নদীর জেলা হিসেবে জানেন। এখানে জালের মতো বিস্তৃত নদীজালিকা আছে। জেলার প্রধান চারটি নদী হলো মেঘনা, পদ্মা, ডাকাতিয়া ও ধনাগোদা নদী। নদীর প্রবাহ ও পলির প্রভাবে কোথাও চর জাগে, কোথাও আবার ভাঙন দেখা দেয়-ফলে চাঁদপুরের ভূমিরূপ অনেকাংশেই পরিবর্তনশীল।
এই নদীমুখর পরিবেশ ইলিশের প্রজনন ও বিচরণের জন্য অনুকূল। ইলিশকে ঘিরেই চাঁদপুরের বাজার, মাছের আড়ত, নৌ-পরিবহন এবং জীবিকার একটি বড় অংশ গড়ে উঠেছে। বর্ষাকালে পানির প্রবাহ বাড়লে মাছের প্রাচুর্য বাড়ে, আবার একই সঙ্গে ভাঙন ও বন্যাজনিত ঝুঁকিও বাড়ে-যা চাঁদপুর জেলার উন্নয়ন ভাবনায় গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা।
ইতিহাস: নদীবন্দর থেকে প্রশাসনিক জেলা
চাঁদপুরের ইতিহাস বুঝতে গেলে মধ্যযুগীয় মানচিত্র ও নাবিকদের নথির উল্লেখ গুরুত্বপূর্ণ। ১৫৬০ খ্রিস্টাব্দের জীন ডি ব্যারোসের মানচিত্রে নদীতীরবর্তী ‘ট্রপো’র অবস্থান দেখানো হয়-যা তৎকালীন ত্রিপুরা জেলা বা কুমিল্লা অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ব্যাখ্যা করা হয়। ১৬৫২ সালে পর্তুগীজ নাবিক স্যানসন দ্যা আবেভিল অঙ্কিত মানচিত্রে ‘বান্দের’ নাম চিহ্নিত স্থানে একটি বড় নদী বন্দর থাকার উল্লেখ রয়েছে, যা চাঁদপুর বন্দর হিসেবে বিবেচিত হয়।
ব্রিটিশ আমলে ১৭৭৯ সালে জরিপকারী মেজর জেমস রেনেল বাংলার যে মানচিত্র অঙ্কন করেন, সেখানে তৎকালীন ভূগোলের সঙ্গে চাঁদপুর ও কুমিল্লার অবস্থানও চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব নথি চাঁদপুরকে একটি নদীবন্দর ও নদীঘেঁষা জনপদ হিসেবে প্রাচীন পরিচয়ের ইঙ্গিত দেয়।
প্রতিষ্ঠাকাল: মহকুমা থেকে জেলা
১৮৭৮ সালে ত্রিপুরা জেলা (পরবর্তীতে কুমিল্লা) যে তিনটি মহকুমা নিয়ে গঠিত হয়, তার মধ্যে চাঁদপুর অন্যতম। পরে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসে ১৯৮৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি চাঁদপুর জেলা হিসেবে উন্নীত হয়। বৃহত্তর কুমিল্লা অঞ্চলের ইতিহাস-ধারাবাহিকতার সঙ্গে চাঁদপুরের এই যোগ আজও জনমানসে দৃশ্যমান।
নামকরণ: চাঁদপুর নাম এল কীভাবে
চাঁদপুর নামক জনপদের বয়স হাজার বছরের বেশি হলেও নামকরণ নিয়ে প্রচলিত ধারণাগুলো তুলনামূলকভাবে পরবর্তী সময়ের। খসড়া তথ্যে চাঁদপুরের পূর্ব নাম জুবকীবাজার হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। নামকরণ নিয়ে চারটি ধারণা আলোচিত-
১) চাঁদ ফকির: বর্তমান কোড়ালিয়ার পূর্বনাম পুরিন্দপুর এলাকার বিশিষ্ট সাধক চাঁদ ফকিরের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা থেকে নামকরণ হয়েছে বলে একটি মত।
২) শাহ আহমেদ চাঁদ: পঞ্চদশ শতকে দিল্লি থেকে আগত প্রশাসক শাহ আহমেদ চাঁদের নামানুসারে নামকরণের ধারণাও প্রচলিত।
৩) চাঁদ রায়: বিক্রমপুরের জমিদার চাঁদ রায়ের জমিদারি চাঁদপুর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল-তার নামানুসারে নামকরণের একটি মত আছে।
৪) চাঁদ সওদাগর: লোককথার বিখ্যাত চরিত্র চাঁদ সওদাগরের বাণিজ্যিক যাতায়াতকে কেন্দ্র করে নামকরণের ধারণাও শোনা যায়।
এই মতগুলো পৃথক পৃথকভাবে প্রচলিত। ডকুমেন্টারি ন্যারেশনে এটুকু বলা যায়-চাঁদপুর নামটি ঐতিহাসিক প্রবাহে নানা ব্যাখ্যার মধ্য দিয়ে একটি স্থায়ী জনপদ-পরিচয়ে রূপ নিয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ: সেক্টর, সংঘর্ষ এবং মানবিক ক্ষতি
মুক্তিযুদ্ধের সময় চাঁদপুর ২নং সেক্টরের অধীনে ছিল। খসড়া তথ্যমতে, ১৯৭১ সালের ১২ মে পাকবাহিনী হাজীগঞ্জ উপজেলার কাশিমপুর গ্রামের ৫০ জন লোককে হত্যা করে এবং বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়। এরপর মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে পাকবাহিনীর ১৭ জন সৈন্য নিহত এবং ২ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন বলে উল্লেখ আছে।
শাহরাস্তি উপজেলার নাওড়া, সূচীপাড়া এবং উনকিলার পূর্বাংশে বেলপুরের কাছে মিত্র বাহিনী ও পাকবাহিনীর সংঘর্ষে মিত্র বাহিনীর ১৩ জন সৈন্য এবং পাকবাহিনীর ৩৫ জন সৈন্য নিহত হওয়ার তথ্যও খসড়ায় রয়েছে। পাশাপাশি মতলব উত্তর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার জন্য একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উল্লেখ আছে।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন: স্মারক, বধ্যভূমি, গণকবর
চাঁদপুর জেলায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে একাধিক স্থাপনা ও স্থান উল্লেখযোগ্য। খসড়া তথ্য অনুযায়ী স্মারকের মধ্যে রয়েছে: অঙ্গীকার (ভাস্কর্য), ফরিদগঞ্জে “আমরা তোমাদের ভুলব না” স্মৃতিফলক, মতলবের “দীপ্ত বাংলাদেশ”, চান্দ্রাকান্দি স্মৃতিসৌধ (সাদুল্লাহপুর, মতলব), রক্তধারা (চাঁদপুর সদর)।
বধ্যভূমির মধ্যে উল্লেখ আছে: রঘুনাথপুর বাজার (হাজীগঞ্জ), হামিদিয়া জুট মিলস প্রাঙ্গণ, রায়শ্রী উত্তর ও দক্ষিণ। গণকবর: নাসিরকোট (হাজীগঞ্জ)। এসব স্থাপনা ও স্থান চাঁদপুর জেলার ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধ অধ্যায়কে দৃশ্যমান করে রাখে।
ভৌগোলিক পরিচয়: ভূ-তাত্ত্বিক গঠন ও প্রাচীন মানচিত্রের ইঙ্গিত
খসড়া তথ্যমতে চাঁদপুর জেলার ভূ-তাত্ত্বিক গঠন প্লাইস্টোসিন ও হলোসীন যুগে হয়েছে। পূর্ব-ভারতীয় দেশসমূহের প্রাচীন মানচিত্রে এই অঞ্চলের দক্ষিণে ‘সাগরনূপ’, উত্তরে ‘প্রাগজ্যোতিষ’ এবং পূর্বাংশের পাহাড়ের পাদদেশের অঞ্চল ‘কিরাতাস’ নামে অভিহিত ছিল-এমন উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি ‘শ্রীক্ষেত্র’ নামক স্থানের অবস্থান সম্পর্কেও ঐতিহাসিক মানচিত্রগত ইঙ্গিত আছে। এসব বর্ণনা চাঁদপুরের ভূগোলকে দীর্ঘ পলিসঞ্চয় ও নদীপ্রবাহের ধারাবাহিকতার ফল হিসেবে তুলে ধরে।
প্রশাসনিক এলাকাসমূহ: উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন
চাঁদপুর জেলা ৮টি উপজেলা, ৮টি থানা, ৮টি পৌরসভা, ৮৯টি ইউনিয়ন, ১০৪১টি মৌজা, ১৩৬৫টি গ্রাম এবং ৫টি সংসদীয় আসন নিয়ে গঠিত। জেলার ৮টি উপজেলা হলো: কচুয়া, চাঁদপুর সদর, ফরিদগঞ্জ, মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ, শাহরাস্তি, হাইমচর, হাজীগঞ্জ। প্রতিটি উপজেলায় পৌরসভা ও ইউনিয়নভিত্তিক স্থানীয় সরকার কাঠামো সক্রিয় রয়েছে।
জনসংখ্যার উপাত্ত: জনশুমারি ২০২২
২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী চাঁদপুর জেলার মোট জনসংখ্যা ২৬,৩৫,৭৪৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১২,২৮,৭৭৪ জন এবং মহিলা ১৪,০৫,৬৮২ জন। মোট পরিবার ৬,৩৫,৪৫৮টি।
ধর্মবিশ্বাস: চাঁদপুর জেলার সামাজিক কাঠামো
খসড়া তথ্য অনুযায়ী ধর্মবিশ্বাস অনুসারে এ জেলার মোট জনসংখ্যার ৯৪.৩৭% মুসলিম, ৫.৫৫% হিন্দু, এছাড়া অল্পসংখ্যক বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও অন্যান্য ধর্মের অনুসারী রয়েছেন। পাশাপাশি কিছু সংখ্যক ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর বসবাসের কথাও উল্লেখ আছে।
শিক্ষা ব্যবস্থা: সাক্ষরতা ও প্রতিষ্ঠানের বিস্তার
২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী চাঁদপুর জেলার সাক্ষরতার হার ৬৮.০৫%। খসড়া তথ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি মেডিকেল কলেজ, সরকারি ও বেসরকারি কলেজ, মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, কারিগরি ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, নার্সিং ইনস্টিটিউট এবং আইন/হোমিওপ্যাথিক/ইউনানী-আয়ুর্বেদিক কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা উল্লেখ আছে। এ বিস্তার জেলার মানবসম্পদ উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
অর্থনীতি: কৃষি, মৎস্য ও শিল্প
চাঁদপুর জেলার অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর। নদী তীরবর্তী এলাকা হওয়ায় প্রায় ৩০% মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মৎস্য শিল্পের সাথে জড়িত-এমন তথ্য খসড়ায় রয়েছে। জেলা সদরে মাছের আড়ত রয়েছে, যা জেলার অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত।
খসড়া তথ্য অনুযায়ী চাঁদপুর সদর উপজেলার বাবুরহাটে শিল্পকারখানার উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য এবং এলাকাটিকে সরকার বিসিক শিল্প নগরী ঘোষণা করেছে। ধান, পাট, গম, আখ-এগুলো জেলার প্রধান শস্য হিসেবে উল্লেখ আছে। রপ্তানিযোগ্য পণ্যের মধ্যে ভুট্টা, নারিকেল, চিংড়ি, আলু, ইলিশ মাছ, সবুজ শাক-সবজি এবং বিসিক নগরীর পোশাক শিল্পের পণ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থা: সড়ক, রেল ও নৌপথ
চাঁদপুর জেলার যোগাযোগের প্রধান সড়ক হলো ঢাকা-চাঁদপুর মহাসড়ক এবং চট্টগ্রাম-চাঁদপুর মহাসড়ক। খসড়া তথ্য অনুযায়ী চাঁদপুরের জন্য আলাদা রেলপথ রয়েছে এবং চাঁদপুর-চট্টগ্রাম ও চাঁদপুর-কুমিল্লা রুটে নিয়মিত ট্রেন চলাচল করে। নৌপথে যোগাযোগের জন্য রয়েছে চাঁদপুর নদী বন্দর, যা ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলার সঙ্গে নদীপথে সংযোগ বজায় রাখে।
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা: সেবার কাঠামো
চাঁদপুর জেলায় স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবার জন্য খসড়া তথ্যে উল্লেখ আছে: ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ১টি জেনারেল হাসপাতাল, ৮টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, আইসিডিডিআর,বি-এর ১টি কেন্দ্র, মাতৃমঙ্গল কেন্দ্র, চক্ষু হাসপাতাল, বক্ষব্যাধী, ডায়াবেটিক, রেড ক্রিসেন্ট ও রেলওয়ে হাসপাতাল, এবং বিস্তৃত বেসরকারি হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক নেটওয়ার্ক।
জেলা ব্র্যান্ডিং: ‘ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর’
দেশ-বিদেশে চাঁদপুরকে বিশেষভাবে উপস্থাপনের জন্য খসড়া তথ্য অনুযায়ী ২০১৫ সালের আগস্ট থেকে জেলা ব্র্যান্ডিং কার্যক্রম শুরু হয়। ইলিশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্র্যান্ডিং নাম রাখা হয় “ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর”। ২০১৭ সালে বাংলাদেশের প্রথম ব্র্যান্ডিং জেলা হিসেবে চাঁদপুরকে স্বীকৃতি দেওয়ার তথ্যও উল্লেখ আছে। এই ব্র্যান্ডিংয়ের একটি লোগো রয়েছে, যা চাঁদপুরের সন্তান বরেণ্য চিত্রশিল্পী হাশেম খান অঙ্কন করেছেন-এমন উল্লেখ রয়েছে।
ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক নিদর্শন: দর্শনীয় স্থানের তালিকা
খসড়া তথ্যে চাঁদপুরের উল্লেখযোগ্য ঐতিহ্য ও নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে: চাঁদপুর বড় স্টেশন, ষাটনল পর্যটন কেন্দ্র, ‘মিনি কক্সবাজার’, হাজীগঞ্জ বড় মসজিদ, হযরত শাহরাস্তি (রহ.)-এর মাজার, ধানুয়া মিনি হাওর, বিভিন্ন জমিদার বাড়ি, মঠ, পর্তুগীজ দুর্গ (সাহেবগঞ্জ), ইলিশ চত্বর, শপথ চত্বর, মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য, চাঁদপুর বন্দর, পার্ক ও জাদুঘরসহ আরও বহু স্থান। এগুলো জেলার ইতিহাস, ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক চর্চা ও পর্যটন সম্ভাবনার সঙ্গে যুক্ত।
উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব: শিক্ষা, রাজনীতি, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া
চাঁদপুর জেলার সঙ্গে যুক্ত উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্বদের তালিকা খসড়া তথ্যে বিস্তৃত। এখানে শিক্ষা-গবেষণা, অর্থনীতি, রাজনীতি, মুক্তিযুদ্ধ, প্রশাসন, শিল্প-সাহিত্য, সাংবাদিকতা ও ক্রীড়া-বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা ব্যক্তিত্বদের নাম রয়েছে। ডকুমেন্টারি প্রেক্ষিতে এই তালিকা চাঁদপুরের সামাজিক-সাংস্কৃতিক পুঁজি ও পরিচয়ের একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
চাঁদপুর জেলা কেন গুরুত্বপূর্ণ
চাঁদপুর জেলা কেবল একটি প্রশাসনিক এলাকা নয়-এটি নদীভূগোল, ইলিশ-অর্থনীতি, ঐতিহাসিক বন্দরচিহ্ন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, শিক্ষা-স্বাস্থ্য কাঠামো এবং যোগাযোগ নেটওয়ার্ক-সবকিছুর সমন্বয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা-পরিচয়। পদ্মা-মেঘনা-ডাকাতিয়ার প্রবাহমান বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চাঁদপুর আজও পরিবর্তিত হচ্ছে। তবে জেলার কেন্দ্রবিন্দু একই থাকে-নদী, মানুষ ও সময়ের ধারাবাহিকতা।
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur


