চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা এলাকায় মাত্র ৭ জন মুসল্লির অংশগ্রহণে ঈদুল ফিতরের নামাজ জামাতে আদায় করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল ১০টায় এ ব্যতিক্রমী জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এ নিয়ে নানা বিতর্ক ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মাঝে।
জানা যায়, নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা ইসহাকের ছেলে মাওলানা আবুবক্কর চৌধুরী। স্থানীয়ভাবে এ আয়োজনটি আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এ বিষয়ে মাওলানা ইসহাকের দৌহিত্র মাওলানা ইয়াহিয়া চৌধুরী জানান, বিভিন্ন দেশের চাঁদ দেখার তথ্য নিয়ে দীর্ঘ যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। তবে আফগানিস্তান, নাইজার ও মালিতে চাঁদ দেখার খবর তাদের কাছে সন্দেহজনক ও প্রশ্নবিদ্ধ মনে হওয়ায় তা গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়নি। তিনি বলেন, “সন্দেহের ভিত্তিতে রোজা ভেঙে ঈদ উদযাপন করা শরীয়তসম্মত নয়। তাই আমরা ৩০টি রোজা পূর্ণ করে শুক্রবার ঈদ উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
প্রসঙ্গত, বিশ্বের যেকোনো স্থানে চাঁদ দেখার ভিত্তিতে আগাম রোজা ও ঈদ উদযাপনের একটি ধারা চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা দরবার শরিফ থেকে শুরু হয় বলে জানা যায়। ১৯২৮ সাল থেকে এ দরবারের অনুসারীরা এ প্রথা অনুসরণ করে আসছেন। পরবর্তীতে এ প্রথা জেলার প্রায় ৪০টি গ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে।
শুরুর দিকে এ নিয়ে মতবিরোধ ও স্থানীয়ভাবে উত্তেজনার সৃষ্টি হলেও বর্তমানে বিষয়টি অনেকটাই স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টরা নিজ নিজ বিশ্বাস অনুযায়ী ধর্মীয় আচার পালন করছেন।
তবে আজকের ৭ জনের ঈদ জামাত নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হবে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন। এছাড়াও সামাজিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে এই আগাম ঈদ উদযাপনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া রাষ্ট্রের কর্তব্য বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে চাঁদপুর বেগম মসজিদের খতিব ও দারুল ঈমান মাদরাসার মুহতামিম মুফতি মাহবুবুর রহমান জানান, এ ধরনের ঈদ উদযাপন বিভ্রান্তিকর। ইসলামী শরিয়াহ এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে। চন্দ্র ও সূর্যের গতিপথ অনুযায়ী সময় নির্ধারিত হয়। তাই চাঁদ দেখে রোজা পালন ও ঈদ উদযাপন করাই শরীয়তের বিধান।
তিনি আরও বলেন, বৃহৎ পরিসরে কোনো ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলে, সেই রাষ্ট্রের যেকোনো এক প্রান্তে চাঁদ দেখা গেলে রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত সবাই একই দিনে রোজা ও ঈদ উদযাপন করতে পারবে। আমরা এ ধরনের বিভ্রান্তিকর আয়োজনের তীব্র নিন্দা জানাই এবং এদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করছি।
হাজীগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন জানান, এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক নির্দেশনা দিয়েছেন যে, জেলার শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরামের সঙ্গে পরামর্শ করে কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে আগাম ঈদ উদযাপনকারীদের এ ধরনের বিভ্রান্তিকর কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার উদ্যোগ নিতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে ধর্মীয় স্পর্শকাতর বিষয়ে জনমনে কোনো বিভ্রান্তি সৃষ্টি না হয়।
প্রতিবেদক: মুসাদ্দেক আল আকিব/
১৯ মার্চ২০২৬
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur