হিন্দু সম্প্রদায়কে তারেক রহমান সংখ্যালঘু হিসেবে দেখেন না, বাংলাদেশী হিসবে দেখেন

চাঁদপুর সদর উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়নের দক্ষিণ বালিয়া রাধাগোবিন্দ মন্দির প্রাঙ্গণে ৭ম বার্ষিক দাসবাড়ি তারকব্রহ্ম মহানাম সংকীর্ত্তন ও মহোৎসবের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাত ৮টায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ভক্তিমূলক পরিবেশ এবং উৎসবমুখর আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ মহোৎসবের উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সলিম উল্যাহ সেলিম। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে সব ধর্মের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করে আসছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাই ও বোনদের কখনো নিজেদের ছোট মনে করার কোনো সুযোগ নেই। তারা এই দেশের সম্মানিত নাগরিক এবং রাষ্ট্রের সমান অধিকার ভোগ করার অধিকার রাখেন।

তিনি আরও বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়কে তারেক রহমান সংখ্যালঘু হিসেবে দেখেন না, বাংলাদেশী হিসবে দেখেন। বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতির ঐতিহ্য বহু পুরনো। এদেশের মানুষ সব সময় একে অপরের ধর্মীয় অনুভূতিকে সম্মান করে এসেছে। এই ধরনের ধর্মীয় আয়োজন পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধকে আরও দৃঢ় করে। আমরা সবাই বাংলাদেশি। দেশনেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে ভবিষ্যতের বাংলাদেশে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সমান মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে বসবাস করবে। এ দেশে কোনো নাগরিককে সংখ্যালঘু হিসেবে ছোট করে দেখার সুযোগ থাকবে না।

চান্দ্রা দাসবাড়ি তারকব্রহ্ম মহানাম সংকীর্ত্তন ও মহোৎসব কমিটির সভাপতি সুমন চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অজয় চন্দ্র মজুমদারের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান গাজী, চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী ঢালী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন সাগর, চান্দ্রা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন মফু, সাধারণ সম্পাদক তালহা ফারুকী সঞ্জয় পাটওয়ারী, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আজাদ বেপারীসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্তিমূলক পরিবেশে তারকব্রহ্ম মহানাম সংকীর্ত্তন শুরু হয়। ভক্তরা নামকীর্তন, প্রার্থনা ও ভজন-সঙ্গীতে অংশগ্রহণ করেন। ৮ প্রহরব্যাপী এ ধর্মীয় মহোৎসবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ভক্তবৃন্দ অংশ নেবেন বলে আয়োজক কমিটি জানিয়েছে।

আয়োজকরা জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে মহানাম সংকীর্ত্তন ও মহোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ধর্মীয় চেতনা জাগ্রত করা এবং সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

স্টাফ রিপোর্টার/
৫ মার্চ ২০২৬