Home / বিশেষ সংবাদ / হাসিমুখ দেখতে প্রেমিকাকে কিডনি দান
হাসিমুখ দেখতে প্রেমিকাকে কিডনি দান

হাসিমুখ দেখতে প্রেমিকাকে কিডনি দান

ভালোবাসার মানুষের জন্য কত কি-ই তো করে মানুষ। এমন উদাহররণেরও শেষ নেই। রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট, লাইলি-মজনু, শিরি-ফরহাদ কিংবা স্ত্রী মমতাজের জন্য সম্রাট শাহজাহানের তাজহমহল গড়ার ইতিহাস। এবার সেই ইতিহাসের সঙ্গে আরো একটি ইতিহাস গড়লো সিঙ্গাপুরের প্রেমিক যুগল।

প্রেমিকার কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় প্রেমিক নিজের একটি কিডনি দিয়ে দিয়েছেন তাকে। গত তিন বছর ধরে সেই কিডনি নিয়েই বেঁচে আছেন প্রেমিকা চুয়া বি ল্যাং। শুধু তাই নয়, বিষয়টি অলৌকিকও বটে। কারণ দুজনের রক্তের গ্রুপ ছিল আলাদা।

২০০৪ সালে চুয়া’র কিডনিতে রোগ ধরা পড়ে। চিকিৎসকরা জানান, তার কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হবে। এর পর ১০ বছর অপেক্ষা করেও কোনো কিডনি পাওয়া সম্ভব হয়নি চুয়ার পক্ষে। এরই মধ্যে তার সঙ্গে প্রেম হয় এনজে চাই লাইয়ের। ২০১৩ সালে হঠাৎ করে একদিন চুয়ার সঙ্গে দেখা করেন চাই লাই।

চুয়া ভেবেছিল, চাই লাই হয়তো তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেবে। কিন্তু এর পরিবর্তে তাকে একটি কিডনি দিয়ে দেয়ার প্রস্তাব দেন ট্যাক্সি চালক চাই লাই। চুয়ার ভাষায়, ‘আমি ভেবেছিলাম সে হয়তো কৌতুক করছে। কারণ আমি সব আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। কে ভাবতে পারে যে তার প্রেমিক তাকে একটি কিডনি দিতে পারে?’

প্রথমত, এতদিন পরে হওয়ায় চিকিৎসকরা চুয়ার কিডনি প্রতিস্থাপন করতে চাননি। তারা জানান, আরো আগে কিডনি প্রতিস্থাপনের দরকার ছিল। তাছাড়া তাদের রক্তের গ্রুপও ছিল আলাদা। তখন পর্যন্ত কিডন প্রতিস্থাপনেও চিকিৎসা বিজ্ঞান এতদূর আগোয়নি।

জীবনের প্রথম দিকে প্রচুর নেশা করতো প্রেমিক চাই লাই। চুয়ার সঙ্গে যখন প্রথম পরিচয় হয়, তখন একটি মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রে চিকিৎসা নিচ্ছিল সে। এ কারণেও তার কিডনি নিতে চাননি চিকিৎকরা। এছাড়াও করোনারি ধমনিতেও সমস্যা ছিল চাই লাইয়ের।

তবে শেষ পর্যন্ত কিছুই বাধা হতে পারেনি। প্রেমিক চাই লেইয়ের কিডনি নিয়ে সুস্থভাবেই চলাফেরা করছে চুয়া। আগামী দুই বছরের মধ্যে বিয়ে করার ঘোষণাও দিয়েছে এই যুগল।

: আপডেট, বাংলাদেশ সময় ১০:৪০ পিএম, ২৩ মে ২০১৬, সোমবার
ডিএইচ

Leave a Reply