সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১ লাখ ৮৫ হাজার ১শ ১০ জন
২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ৭১ জন ভর্তি হয়েছে। এ সময়ে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয় ২১১ জন। এ দু সিটি করপোরেশনের বাইরে ঢাকা বিভাগের অন্যান্য হাসপাতালে ভর্তি হয় ৩২০ জন।
দেশে ডেঙ্গু ও হামের প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গে মারা গেছে আরো এক শিশু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গতকাল প্রকাশিত পৃথক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় সাতজন জন মারা গেছে। এ নিয়ে চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত এ রোগে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬৪ জনে। এর মধ্যে অক্টোবরের এ পর্যন্ত মারা গেছে ১১৯ জন। এছাড়া সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জন,আগস্টে ৪৩, জুলাইয়ে ৩৬,জুনে ১৩ ও মে মাসে একজনের মৃত্যু হয়েছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, এ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৩৭৩ জন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৯৯০ জনে।
২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ৭১ জন ভর্তি হয়েছে। এ সময়ে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয় ২১১ জন। এ দু সিটি করপোরেশনের বাইরে ঢাকা বিভাগের অন্যান্য হাসপাতালে ভর্তি হয় ৩২০ জন।
অন্য বিভাগের মধ্যে বরিশালে ২২৫ জন,চট্টগ্রামে ১৯৭, খুলনায় ১৫৫, ময়মনসিংহে ৪৫, রাজশাহীতে ১১১, রংপুরে ২৮ ও সিলেটে ১০ জন ভর্তি হয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গে মারা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও উপসর্গে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২০৫ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন ও উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ১৩ জন। একই সময়ে ৯৯৭ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে।
আর নিশ্চিত হাম আক্রান্ত ১৩ জনই ঢাকার। উপসর্গ পাওয়াদের মধ্যে ঢাকার ৪১২ জন, সিলেটের ১৩২, চট্টগ্রামের ১৯৩, রাজশাহীর ২২, ময়মনসিংহের ৫৯, বরিশালের ৯৭, খুলনার ৬৬ ও রংপুরের ১৬ জন রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ২৩ হাজার ২১২ জন এবং উপসর্গ পাওয়া গেছে ২ লাখ ১৬ হাজার ৭৬৫ জনের শরীরে। এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসাপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ৬৯৫ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১ লাখ ৮৫ হাজার ১১০ জন।
এ পর্যন্ত হামের উপসর্গে সবচেয়ে বেশি, ৪৯৪ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরই রয়েছে সিলেট বিভাগের অবস্থান। সেখানে মারা গেছে ১৯৪ জন। এছাড়া চট্টগ্রামে ১০২, রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৮৫, বরিশালে ৬৫, খুলনায় ৫১ ও রংপুরে ১৭ জন মারা গেছে।
নিশ্চিত হামের মৃত্যুতেও ঢাকা বিভাগ সবচেয়ে এগিয়ে। এখানে মারা গেছে ৬৭ জন। এছাড়া বরিশালে ১৯, চট্টগ্রামে ১০, সিলেটে ও রাজশাহীতে তিনজন করে এবং ময়মনসিংহে দুজন মারা গেছে।
২২ অক্টোবর ২০২৬
এ জি