হাজীগঞ্জ রোটারী ক্লাবের প্রেক্ষাপট : ড.আলমগীর কবির
প্রতিষ্ঠান বা সেবামূলক প্রতিষ্ঠান প্রেক্ষাপটের আলোকে গড়ে উঠে আবার অনেক প্রতিষ্ঠান স্রোতের টানে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যায়। একটি প্রতিষ্ঠান টিকে থাকা বা না থাকা নির্ভর করে পরিবেশ পরিস্থিতি এবং চলমান দায়িত্বশীলদের যোগ্যতার উপর। রোটারী ক্লাব একটি আন্তজার্তিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে শতাব্দী কাল ধরে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। সম্মানীত সদস্যগণ অনেক ত্যাগের বিনিময়ে সেবা চালিয়ে যাচ্ছেন। যাদের কারণে সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। একটি প্রতিষ্ঠান সূচনা করা,উদ্যোগ নেয়া, অনেকজনকে একত্রিত করে একই লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা অনেক কঠিন।
হাজীগঞ্জ রোটারী ক্লাব প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও এ কঠিন কাজটিকরতে হয়েছে। এটি টিকে থাকুক যুগের পর যুগ। এ প্রত্যাশায় রোটারী ক্লাব অব হাজীগঞ্জ এর সূচনার বিষয়টি একটু তুলে ধরা আবশ্যক বলে মনে করি। সে প্রেক্ষিতে না বলা কথাগুলো একটু বলতে গেলে বলতে হয়- আনুমানিক ২০০৩ সালের দিকে। অফিসের কাজে ব্যস্ত। এনালগ টেলিফোনে রিং বেজে উঠলো। আমার আপনজন কাজী শাহাদাত। সালাম বিনিময় হলো। পারিপার্শ্বিক আলোচনার এক পর্যায়ে রোটারী ক্লাব সম্পর্কে কিছু কথা বললেন।
চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের মিটিং এর সিদ্ধান্ত মোতাবেক হাজীগঞ্জে একটি রোটারী ক্লাব গঠনের প্রস্তাব গৃহীত হয়। তা বাস্তবায়ন করার জন্য তিনি আমার কথা চিন্তা করেছেন। তিনি আমাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রোটারী ক্লাবের অবদান সম্পর্কে একটু অবহিত করেন। কলেজ, মসজিদ ও সামাজিক কর্ম নিয়ে তিনি আমার ব্যস্ততার কথা জানেন। ব্যস্ততার কারণে সময় দেয়ার সুযোগ নাই মর্মে ওনার প্রস্তাবে এক কথায় সম্মত হতে পারি নি। ওনাকে কৌশলে না করতে আমার খুব খারাপ লেগেছে। মসজিদ এবং কলেজ দ’ুটি প্রতিষ্ঠানই অনেক সমস্যায় জর্জরিত। তাছাড়া সামাজিক কর্মে অন্যান্য ব্যস্ততাতো আছেই। এ নিয়ে আমাকে অনেক ব্যস্ত সময় কাটাতে হয়। অবশ্য তিনি বলেছেন, ব্যস্ত লোকেরাই রোটারী করে। আর সে কারণে আমি না বলতে আরো খারাপ লাগা সত্বেও হাজীগঞ্জের অন্য ব্যক্তিদের মধ্যে থেকে কাউকে দিয়ে তা করানোর কথা বলেছিলাম। অন্যদের মধ্যে পছন্দ মোতাবেক কাউকে দায়িত্ব দিলে আমি সহযোগিতা করবো এ কথা বলে আমাকে না করতে হলো। বিবেকের কাছে খারাপ লাগলো। তিনি আমাকে অনেক সম্মান করেন।
আমার সাংগঠনিক কাজের প্রতি আস্থা, বিশ্বাস এবং নিষ্ঠা সংক্রান্ত বিষয় এর উপর যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে তিনি কথা বলেছেন। আমার বিবেক আমাকে প্রশ্নবিদ্ধ করলো। যা কিছু বলছেন মানুষের সেবার লক্ষ্যে, ক্লাব প্রতিষ্ঠার জন্য। কাজী শাহাদাত সাহেব সাপ্তাহিক হাজীগঞ্জের নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠা এবং আন্তরিকতার সাথে কাজ করে ছিলেন। সে কারণে উনার সাথে আমার অধিকারের সম্পর্ক একটু আলাদাই ছিল। এরই মধ্যে কয়েক মাস কেটে গেল। কাজী শাহদাত সাহেব আমার সাথে মাঝে মাঝে আলোচনা কালে রোটারী ক্লাব গঠনের দায়িত্ব নেয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে কথা বলেন। আমি বিষয়টি নিয়ে ভাবছি বলে অবহিত করি। এক পর্যায়ে তিনি আমার প্রতি অধিকার খাটিয়ে বললেন,চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের জি. এস. আর. মিজানুর রহমান সাহেব আপনার সাথে দেখা করতে যাবেন।
রোটারীর জগতে জি. এস. আর. মানে কি আমি তখন বুঝতাম না। সে সময় চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের সম্মানীত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন ইঞ্জিনিয়ার জয়নাল আবেদীন সাহেব। পরদিন চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের জি.এস.আর হাজীগঞ্জ এলেন। সহাস্য বদনের সুন্দর চিপচিপে, লম্বা অবয়বের একজন পরিপাটি সুন্দর মানুষ। তার ছন্দায়িত চলা এবং কথা বলা ভালো লেগেছে। পরিচিত হলাম তিনি জনাব মিজানুর রহমান। সাথে আরো দু’জন সম্মানীত রোটারীয়ান। মসজিদ অফিস থেকে আমি রেস্টুরেন্টের একটি কেবিনে গিয়ে বসলাম। সম্ভবত তৃপ্তি হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টবিভিন্ন বিষয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা হলো।
রোটারী ক্লাবের গুরুত্ব এবং অবদান সম্পর্কে বিস্তারিত শুনলাম। বাৎসরিক ফি বা টাকা কত খরচ হতে পারে তাও ধারণা নিলাম। কিন্তু বাৎসরিক সদস্য নবায়ন ফি ও প্রাসঙ্গিক কাজে প্রজেক্ট বাবদ খরচের টাকার কথা চিন্তা করে সাহস হচ্ছিল না। ভদ্রতার বিবেচনায় বিষয়টি বুঝতে দেই নি। এত টাকা খরচ করে ক্লাব করে তা ধরে রাখা যাবে কিনা ? এসব ভাবছিলাম। তা সত্ত্বেও তাঁদের উৎসাহে চেষ্টা করার আশ্বাস দিলাম। তাই- আন্তজার্তিক সেবা সংগঠন প্রতিষ্ঠার নতুন স্বপ্ন রচনার পথ খুঁজলাম। কাজী শাহাদাত,মিজানুর রহমান সাহেবের সাথে মাঝে মাঝে কথা হতো। রোটারী সম্পর্কে বুঝতে লাগলাম। একদিন হঠাৎ চাঁদপুর রোটারী ক্লাব থেকে ক্লাব প্রেসিডেন্ট হাজীগঞ্জ এ দাওয়াত নিয়ে আসলেন। আমি অনেক অবাক হয়েছি। আমার মতো ক্ষুদ্র মানুষকে দাওয়াত করার জন্য ক্লাবের প্রেসিডেন্ট সাহেব নিজেই দাওয়াতপত্র নিয়ে হাজির হলেন। ওনাকে সম্মান না করার মত দৃষ্টতা আমার থাকার কথা নয়। চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের অনুষ্ঠানে যাওয়ার দাওয়াত গ্রহণ করলাম। ওনাদের দাওয়াত প্রদানেও আভিজাত্য ছিল। গ্রহণ না করার সুযোগ কম। এতটুকু ভদ্রতার মূল্য তো দিতেই হয়। তাছাড়া সে সময়ে চাঁদপুরের প্রায় সকল অনুষ্ঠানে আমি নিয়মিত আমন্ত্রিত হতাম। চাঁদপুরে প্রায় সকল প্রতিষ্ঠান আমাকে আমার যোগ্যতার চেয়েও বেশি মূল্যায়ন করতেন বলে মনে হতো। বড় মনের মানুষগুলো অন্যকে বড় করে দেখেন,মূল্যায়ন করেন।
চাঁদপুরের সে সকল সম্মানীত গুণীজনদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা আমার নেই। ওনাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। যদিও রাজনীতিতে ওপেন হওয়ার পর সবই রুদ্ধ হয়ে গেছে। রোটারী ভবনে, রোটারীর অনুষ্ঠান। অনেক সুন্দর পরিবেশ। মঞ্চের অবয়ব অবস্থান আকর্ষণীয় উনারা আমাকে মঞ্চে আমন্ত্রণ জানালেন। ক্লাব কার্যক্রমের ভিন্নতা আমাকে আকর্ষণ করেছে। ক্লাবের পক্ষ থেকে সামাজিক এবং মানব কল্যাণ সংক্রান্ত বিষয়গুলো শুনে, বুঝে আমি মুগ্ধ হলাম। আমার বক্তৃতার পালা। আমি তেমন কিছুই জানিনা,বুঝিনা। না বুঝে বক্তব্য দিলাম। কিন্তু তাদের উদার করতালিতে আমি খুশিতে উদ্বেলিত। বক্তব্য সম্ভবত মোটেই ভালে হয় নি। কিন্তু উনারা আমাকে খুশি করার জন্য প্রাণ উজাড় করেই করতালি দিয়েছেন। সম্মাননা প্রদান পর্বে সম্মানসূচক ক্রেস্ট দিয়েছেন,গিফট বক্স দিয়েছেন,আমি বিমোহিত। রোটারী ক্লাব গঠনের জন্য উদ্যোগ নিয়ে প্রাণপণ চেষ্টা করবো। বিবেকের তাড়নায় মনে-প্রাণে সিদ্ধান্ত নিলাম হাজীগঞ্জ রোটারী ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেবা- ইনশাআল্লাহ।
রোটারী সম্পর্কে যতটুকু বুঝলাম তা ভেবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দু’এক মাসের মাথায় অনেক চিন্তা ভাবনা করে রোটারী ক্লাব গঠনের প্রস্তাবে আমার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য একটি পত্রের নমুনা দাঁড় করালাম। সাংবাদিক কামালের মাধ্যমে পত্রটি লিখে শাহদাত ভাইকে দেখিয়ে আনার জন্য পাঠালাম। কামাল বিষয়টি শাহাদাত ভাইকে দেখিয়ে আমার কাছে ফেরত দিয়েছে। এরই মধ্যে জাকির হোসেন মিয়াজী ওরফে জাকির ভাইয়ের সাথে রোটারী সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকবার আলোচনা করেছি। হাজীগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যক্তিগণের মধ্যে যাদের চিত্ত এবং বিত্ত দুটোই আছে। শুধু চিত্ত আর বিত্ত থাকলেই হবে না, মানব কল্যাণে নিবেদিত হওয়ার মতো মানুষজনদেরকে সংঘবদ্ধ করা না গেলে, রোটারী ক্লাবের মত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানব কল্যাণমুখী ক্লাব গঠন এবং তা টিকিয়ে রাখা কষ্টকর হয়ে যাবে। নানা ভাবনা-চিন্তার মধ্যে আমি কিছু নামের তালিকা তৈরি করলাম। তা বুঝতে না দিয়ে জাকির হোসেন মিয়াজীকে তৈরি করতে বললাম।
সপ্তাহ-দশ দিনের মধ্যে কয়েকজনের নাম চূড়ান্ত করলাম। মনে পড়ে জাকির ভাইয়ের কথা। তিনি দুটি নাম দাওয়াতে যুক্ত না করতে, অর্থাৎ দাওয়াত দিতে নিষেধ করলেন। ওনার কথায় কান দিলাম না। ক্লাব গঠনের শেষের দিকে যুক্ত করেছি। তাদের দু’এক জনের কারণে ক্লাব চালাতে গিয়ে বিপত্তিতে পড়েছি। বিষয়টি স্পষ্ট যে, সকলে সকল কাজের যোগ্য না। তাই সমাজের সাথে যারা গভীরভাবে সম্পৃক্ত থাকে তাদেও পরামর্শ মানতে হয়। মানলে ভালো, শান্তি বজায় থাকে। না মানলে অশান্তি এবং প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্থ হয়। সময়ের অপেক্ষা মাত্র। বিষয়টি হাড়ে হাড়ে উপলব্দি করেছি। কিন্তু যা ক্ষতি হওয়ার, তা তো হয়েই গেলো। অর্থনৈতিকভাবে আত্মনির্ভরশীল করে তোলার সুযোগ বাস্তবায়ন স্ধসঢ়;ভব করতে পারি নি। ফলশ্রুতিতে আজও ক্লাবটি ঘুরে দাঁড়াতে পারে নি। যাক সে সব পুরনো কথা। উনাদেরকে চিঠি দেওয়ার উদ্যোগ নিলাম। নামের তালিকা মোতাবেক তিনজন মিলে চিঠি বিতরণ করলাম। সকলকে আমার অফিসে দাওয়াত করলাম। বাদ মাগরিব মিটিং। আমার দাওয়াতকে সবাই মূল্যায়ন করেছেন বলেই প্রতীয়মান হলো।
মসজিদ অফিসে যথারীতি মিটিং শুরু করলাম। রোটারী ক্লাব গঠন সংক্রান্ত আলোচনা করি। পরবর্তী সপ্তাহে পুনরায় মিটিং এ বসার সময় ও তারিখ ঘোষণা দিয়ে রাতের খাবার আপ্যায়ন গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে মিটিং শেষ করলাম। পরবর্তী সভায় আগের কয়েকজনের সাথে আরো নতুন মুখ যুক্ত হলেন। দু’একজন আসতে পারেন নি। এভাবে ৬-৭ মিটিং এর পর সমিতি গঠনের একটা পর্যায়ে উন্নীত হলাম। মসজিদ অফিস তথা ওয়াক্বফ এস্টেট কার্যালয় থেকে মিটিং এর স্থান পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা গুরুত্বের সাথে অনুধাবন করলাম। নির্মানাধীন হাজীগঞ্জ টাওয়ার মার্কেট এর দো’তলায় ক্লাব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। চাঁদপুর থেকে কাজী শাহাদাত,জি.এস.আর মিজানুর রহমান মিটিং এ অংশগ্রহণ করে সবাইকে রোটারীর পতাকাতলে আসার জন্য কমিটি গঠনের জন্য উৎসাহ যোগাতেন। পরবর্তীতে কুমিল্লা থেকে আবু আজমল পাঠান মাঝে মাঝে মিটিংয়ে উপস্থিত হয়ে রোটারীকার্যক্রম এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে অনেক প্রেরণা জুগিয়েছেন, উৎসাহিত করেছেন।
রোটারী ক্লাবের মিটিং এর জন্য স্থায়ী ভেন্যু থাকা আবশ্যক বলে মনে করি। সে প্রেক্ষিতে সদস্যগণের সহযোগিতা নিয়ে বড় মসজিদ আহমদ আলী পাটোয়ারী ওয়াক্বফ এস্টেটের আওতাধীন হাজীগঞ্জ টাওয়ার এর দো’তালায় একটি স্পেস পজিশন ভাড়া নেই। রোটারীয়াদের মাঝে আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। হাসি-আনন্দের বিষয়ে এডভোকেট এম হায়দার ভাইয়ের বিকল্প ছিল না। আজকের এ মুহূর্তে বার বারই মনে পড়ে এডভোকেট এম. আর হায়দার এর বিকল্প আমরা কেউ হয়ে উঠি নি। তিনি বড় মনের মানুষ। যে কোনো পরিবেশে সবাইকে আনন্দ দিতে পারতেন, সাথে আমাদের ভাবীও। হায়দার ভাইয়ের অকাল মৃত্যুতে রোটারী ক্লাবের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। তার অভাব পূরণ করার মত আর কেউ নই। একেই বলে অপূরণীয় ক্ষতি। ওনার বিকল্প ওনিই। আজ এমন অবস্থা হায়দার ভাইসহ অন্যদেরকে যথাযথ মর্যাদায় স্মরণ করার মত মন আমাদের নেই। রোটারীর কাজকে প্রস্ফূটিত করার স্বার্থে,সেবার মানকে ধরে রাখার স্বার্থে আমাদের অফিসের নামকরণ করা হয় ‘রোটারী সেন্টার হাজীগঞ্জ’। নিয়মিত বুলেটিন বের করার সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে ‘রোটারী বুলেটিন’ সাপ্তাহিক ভাবে বের করার দায়িত্ব প্রদান করি।
সব মিলিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে রোটারী ক্লাবের নীতি অনুসরণ করে উল্লেখ্য যে, ক্লাবের এনরোলমেন্ট পাওয়ার লক্ষ্যে বিধি মোতাবেক আমাদেরকে কাজ গুছিয়ে দিচ্ছেন জি. এস. আর মিজান ভাই। তার সাথে সর্বাত্মকভাবে কুমিল্লা থেকে এগিয়ে আসেন রোটারীয়ান আবু আজমল পাঠান। তাদেও আরো যারা সহযোগী ছিলেন তাদের প্রতি অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা। তখনকার স্বনামধন্য গভর্নর ছিলেন পিডিজি একেএম শামছুদ্দীন পিএইচএফ, রোটারী ডিস্ট্রিক-৩২৮২, বাংলাদেশ। তাঁর বাড়ি ছিল মতলব উপজেলায়। তিনি চাঁদপুরের মানুষ, আমাদের অহংকার। অনেক বড় ব্যবসায়ী। ঢাকায় ব্যবসা করেন। তখন ওনার অফিস ছিলো প্লানার্স টাওয়ার, সোনারগাঁ রোড, ঢাকা। তিনি এক সময় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানী এভেনডিজ ফার্মাসিটিক্যালস নামক ঔষধ কোম্পানীর এমডি ছিলেন। তিনি অনেক ব্যস্ত মানুষ। আমাকে ডেকে নিয়ে কাগজপত্রের বিষয়ে পরামর্শ, সহযোগিতা প্রদান করে রোটারী সম্পর্কে উৎসাহিত করেন। অনেক বড় মনের ভালো মানুষ।
তিনি গল্প করতে করতে বলেন,২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯০৫। পল পার্সিভাল হ্যারিস এবং তিন বন্ধু মিলে, সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ক্লাব ঘটনপূর্বক নিউইয়র্কের শিকাগো শহর থেকে এ ক্লাবের যাত্রা শুরু করেন। আজ সারা বিশ্বে গড়ে ওঠে ঐতিহ্যবাহী সেবামূলক সংগঠন রোটারী ইন্টারন্যাশনাল। সে সময় শিশুদের পোলিও রোগ হতো। বিশ্ব থেকে পোলিও রোগ দূরীকরণে রোটারী ক্লাবের অবদান অবিস্মরণীয়। ক্লাব কার্যক্রম সম্পর্কে আরো আরো অনেক কথা শুনে আমি আরো উৎসাহিত হলাম। রোটারী বিশ্বে সেবার সূর্য অস্ত যায় না। এমন একটি ক্লাব প্রতিষ্ঠান যার সেবামূলক কার্যক্রম সারা বিশ্বে বিস্তৃত তারই একটি অংশ হাজীগঞ্জ রোটারী ক্লাব এর প্রতিষ্ঠাতা (চার্টার প্রেসিডেন্ট) হিসেবে কৃতজ্ঞচিত্তে, গর্বিত এবং আনন্দিত।
আন্তর্জাতিক মানের সেবার ঐতিহ্যকে মাথায় নিয়ে শুভাকাক্সক্ষীদের উৎসাহ ও সহযোগিতায় হাজীগঞ্জে রোটারী ক্লাব গঠন কার্যক্রম শুরু করি। ক্লাব গঠনের লক্ষ্যে নিয়ম মোতাবেক পরিচালিত সাপ্তাহিক মিটিংসহ প্রাসঙ্গিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় হাজীগঞ্জের ৭১ জন গুণী মানুষের সমন্বয়ে ক্লাব গঠিত হয়। এক পর্যায়ে ৪ মে ২০০৫ সালে রোটারী ইন্টারন্যাশনাল এর পক্ষ থেকে স্বীকৃতি লাভ করি। গঠিত হয় ‘রোটারী ক্লাব অব হাজীগঞ্জ’। এর পূর্বে প্রায় দেড় বছর পূর্ব থেকে ক্লাব গঠনের সূচনা থেকে গোছানোর কার্যক্রম করতে হয়েছে। যাদের সম্পৃক্ততায় আনুষ্ঠানিকভাবে ক্লাব কার্যক্রম শুরু হয়েছে ইতিহাসের প্রয়োজনে তাদের নাম উল্লেখ করা প্রয়োজন বলে মনে করি। সে প্রেক্ষিতে রোটারি ডাইরেক্টরি (২০০৬-০৭) এ উল্লেখিত বোর্ড অব ডাইরেক্টরসদের নামের তালিকায় :
১.অধ্যক্ষ আলমগীর কবির পাটওয়ারী (সভাপতি), ২. হারুনুর রশিদ মুন্সি (সহ-সভাপতি), ৩. বি. এম আহসান কলিম (সহ-সভাপতি), ৪. আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইমাম হোসেন (সহ-সভাপতি), ৫. মোহাম্মদ রকিবুল হায়দার (সাধারণ সম্পাদক), ৬. যুগল কৃষ্ণ হালদার (নির্বাহী সাধারণ সম্পাদক), ৭. মানিক রায় (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক), ৮. কাজী নুরুর রহমান (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক), ৯. বিশ্বজিৎ সাহা (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক), ১০. সেলিম মিয়া (যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক), ১১. গৌতম সাহা (কোষাধক্ষ্য), ১২. হাসান আল মনসুর (পরিচালক, ক্লাব ), ১৩. মোহাম্মদ বিল্লাল, ১৪. আলী আশরাফ দুলাল, ১৫. সুশীল কুমার সাহা, ১৬. মুনির হোসাইন খান (সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস), ১৭. মোহাম্মদ মোরশেদ আলম (সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস),১৮. দীপক কুমার সাহা (সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস), ১৯. সঞ্জীব সাহা (বুলেটিন সম্পাদক), ২০. অদৈত্য চন্দ্র দেবনাথ (বুলেটিন সম্পাদক)।
ডাইরেক্টরী মোতাবেক সদস্যগণের নাম উল্লেখিত হলো:১. এম কে আলম, ২. মো.জাহাঙ্গীর আলম, ৩. আয়াত আলী, ৪. মো. মোরশেদ আলম, ৫. মো.হাসান আহমেদ, ৬.শংকর বণিক,৭. রুহিদাস বণিক, ৮. মো.আবু সিদ্দিক বাচ্চু, ৯. ডা.শ্যামল কৃষ্ণ ধর, ১০. অদৈত্য চন্দ্র দেবনাথ, ১১. আলী আশরাফ দুলাল, ১২. ইকবালুজ্জামান ফারুক, ১৩. মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন মির্জা, ১৪. মোহাম্মদ জাকির হোসাইন, ১৫. মো. আমিনুল হক ১৬. মো.আনোয়ার হোসেন, ১৭.আহসান হাবিব, ১৮. মো. মমিনুল হক, ১৯. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন, ২০. ডা.মো.বিল্লাল হোসেন, ২১. গাজী মো. বিল্লাহ হোাসন, ২২. মো. ইমাম হোসেন, ২৩. মো. রাকিবুল হায়দার, ২৪. মো. কাউসার হোসেন, ২৫. যুগল কৃষ্ণ হালদার, ২৬. মো.জাকির হোসেন মজুমদার,২৭. মো. মশিউর রহমান পাটোয়ারী, ২৮. আব্দুল হান্নান, ২৯. মো. মফিজুল ইসলাম, ৩০. বিএম আহসান কলিম, ৩১. মো.হুমায়ুন কবির, ৩২. মো. মোস্তফা কামাল, ৩৩. মনির হোসেন খান,৩৪. সঞ্জয় কর্মকার,৩৫. মো.আব্দুল লতিফ, ৩৬. মাহাবুব আলম লিপন, ৩৭. জাকির হোসেন লিটন, ৩৮. মো.সাজ্জাদ হোসেন ফারুক, ৩৯.শহীদুজ্জামান মজুমদার, ৪০.মো.আব্দুল মান্নান, ৪১. মো.মোতালেব মজুমদার, ৪২. হাসান মনসুর, ৪৩. মো. আব্দুল মান্নান, ৪৪. মো.সালাম মিয়া, ৪৫. আব্দুর রশিদ মজুমদার, ৪৬. মো.ওয়ালিউল্লাহ মিজি, ৪৭. হারুনুর রশিদ মুন্সী, ৪৮. মো. এমরান মাহমুদ, ৪৯. অধ্যক্ষ আলমগীর কবির পাটওয়ারী, ৫০. হারুন অর রশিদ পাটোয়ারী, ৫১. মো. আমির হোসেন পাটোয়ারী, ৫২. আব্দুল হাই পাটোয়ারী, ৫৩. মো.আব্দুল কুদ্দুস, ৫৪. মো. আব্দুর রাজ্জাক, ৫৫. জীবন বল্লভ রায়, ৫৬. কাজী নুরুর রহমান, ৫৭. নেসারুর রহমান, ৫৮. মানিক রায়, ৫৯. মফিজুর রহমান, ৬০. প্রাণ কৃষ্ণ সাহা, ৬১. দীপক কুমার সাহা, ৬২.গৌতম সাহা, ৬৩. সুশীল কুমার সাহা, ৬৪. স্বপন সাহা, ৬৫. সঞ্জীব সাহা, ৬৬. বিশ্বজিৎ সাহা, ৬৭. বিপ্লব সাহা,৬৮. মো. জামাল উদ্দিন তালুকদার, ৬৯.শেখ তোফায়েল আহমেদ, ৭০. মো. দেলোয়ার হোসেন মুন্সী,৭১. প্রিন্স শাকিল আহমেদ।
৪ মে ২০০৫ সালের পূর্বে সাংগঠনিক কার্যক্রমে প্রায় এক বছরের উর্ধ্বকাল এবং পরে আরো দু’ সেশন ক্লাব প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমাকে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। সকলকে মিনতি জানিয়ে নিজে দায়িত্ব থেকে সরে আসি এবং রীতি মোতাবেক দায়িত্ব হস্তান্তর করি। আমার পদের দায়িত্বের সমাপনি উৎসবেরোটারী ইন্টারন্যাশনাল ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা পল পার্সিভাল হ্যারিস এর প্রতিচ্ছবি পেন্সিল দিয়ে আমার নিজ হাতে এঁকে ক্লাবকে উপহার হিসেবে প্রদান করি। নিচে পেন্সিল দিয়ে আমার নিজ হাতে আঁকা ছবির প্রতিচ্ছবি-তার সাথে রোটারীকে উদ্দেশ্যে করে আমার স্বরচিত কাবিতা ক্লাবের মিটিং এ পাঠ করি এবং ক্লাবকে উপহার হিসেবে উৎসর্গ করি। কবিতাটি মনোরম সন্ধ্যা,ইয়ার লাঞ্চিং প্রোগ্রাম ১ জুলাই ২০০৭ খ্রি.শুধুই জয়–অধ্যক্ষ আলমগীর কবির পাটওয়ারী হোটেল শেরাটনে-উইন্টার গার্ডেন উপভোগ করছি অনুষ্ঠানের,আমেজ-আবেদন। প্রাণের অনুভূতি আর হৃদয়ের টানে রোটা.হাজী ইমাম হোসেন, বললো এসে মোর কানে। তাই, মানিকের গানের প্রস্তাব রেখেছি-অনুষ্ঠান পরিচালকের কাছে লিখেছি তার নাম- সে খুশির অনুভূতি,আজও হৃদয়ে আছে। আবেদন হলো পূর্ণ রোটারী ক্লাব অব হাজীগঞ্জ হয়েছে ধন্য।
যে কথা বলে যাচ্ছিলাম। ৪ মে ২০০৫ রোটারী ইন্টারন্যাশনাল কর্তৃক প্রাপ্ত সনদ প্রাপ্তির অনেক পূর্ব থেকে ক্লাব প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলাম আমি অধ্যক্ষ আলমগীর কবির পাটওয়ারী। অতপর সনদ প্রাপ্তির পর থেকে রোটারী বর্ষওয়ারী বর্তমান পর্যন্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারীর নামের তালিকা :২০০৫-০৬ সেশনে প্রেসিডেন্ট অধ্যক্ষ আলমগীর কবির পাটওয়ারী,সেক্রেটারী জাকির হোসেন মিয়াজী, ২০০৬-০৭ প্রেসিডেন্ট অধ্যক্ষ আলমগীর কবির পাটওয়ারী,সেক্রেটারী মো.রকিবুল হায়দার,২০০৭-০৮ সেশনে প্রেসিডেন্ট মো. আমির হোসেন পাটোয়ারী, সেক্রেটারী কাজী মো.বেলাল হোসেন, ২০০৮-০৯ সেশনে প্রেসিডেন্ট হারুনুর রশিদ মুন্সী, সেক্রেটারি যুগল কৃষ্ণ হালদার, ২০০৯-১০ সেশনে প্রেসিডেন্ট আব্দুল মান্নান মিয়া, সেক্রেটারি মানিক রায়, ২০১০-১১ সেশনে প্রেসিডেন্ট বি এম আহসান কলিম, সেক্রেটারি গৌতম সাহা, ২০১১-১২ সেশনে প্রেসিডেন্ট মো. হুমায়ুন কবির, সেক্রেটারি জাফর আহমেদ, ২০১২-১৩ সেশনে প্রেসিডেন্ট হাসান আল মনসুর, সেক্রেটারি আজাদ রহমান মাসুদ মজুমদার, ২০১৩-১৪ সেশনে প্রেসিডেন্ট আলী আশরাফ দুলাল,সেক্রেটারি মো.মশিউর রহমান পাটোয়ারী, ২০১৪-১৫ সেশনে প্রেসিডেন্ট ইমাম হোসেন, সেক্রেটারি জাফর আহমেদ, ২০১৫-১৬ সেশনে প্রেসিডেন্ট মো. সেলিম মিয়া, সেক্রেটারি জাফর আহমেদ, ২০১৬-১৭ সেশনে প্রেসিডেন্ট রুহিদাস বণিক, সেক্রেটারি কাজী আব্দুর রহমান, ২০১৭-১৮ সেশনে প্রেসিডেন্ট গৌতম সাহা, সেক্রেটারি মাসুদ ইবনে মিজান, ২০১৮-১৯ সেশনে প্রেসিডেন্ট জাফর আহমেদ, সেক্রেটারি প্রাণ কৃষ্ণ সাহা, ২০১৯-২০ সেশনে প্রেসিডেন্ট আশফাকুল আলম চৌধুরী, সেক্রেটারি জিএম ইমাম হোসেন ইমন, ২০২০-২১ সেশনে প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ ইবনে মিজান, সেক্রেটারি খোরশেদ আলম শাওন, ২০২১-২২ সেশনে প্রেসিডেন্ট মানিক রায়, সেক্রেটারি মো. জাকির হোসেন মিয়াজী, ২০২২-২৩ সেশনে প্রেসিডেন্ট মো.দেলোয়ার হোসেন মুন্সী, সেক্রেটারি মো. হাবিবুর রহমান, ২০২৩-২৪ সেশনে প্রেসিডেন্ট মো. জাকির হোসেন লিটু, সেক্রেটারি মো. মনির হোসেন, ২০২৪-২৫ সেশনে প্রেসিডেন্ট যুগল কৃষ্ণ হালদার, সেক্রেটারি মো.জাহাঙ্গীর হোসেন, ২০২৫-২৬ সেশনে প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার নূরর রহমান নবীন,সেক্রেটারি সাইফুল আলম পলাশ।
বর্তমান পর্যন্ত ক্লাবকে ধরে রাখতে গিয়ে নানা ধরণের চড়াই, উৎরাই,ভালো-মন্দ, ঝড়-ঝাপটা, সর্বাবস্থায় অতন্দ্র প্রহরীর মত ক্লাবকে আগলে রেখেছেন সে বিবেচনায় কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ করতে হয়- বি.এ. আহছান কলিম এবং জাফর আহমেদের নাম। বক্তব্যের মাঝে গল্প বলে আনন্দ দিয়ে উজ্জীবিত করার মত যোগ্য মানুষ, যার কথা না বললেই নয়, প্রিয়ভাজন আলহাজ¦ ইমাম হোসেন। ক্লাবের বিভিন্ন কাজে উদার মনের সহযোগী বাবু গৌতম সাহা, সাংস্কুতিক কার্যক্রমে মধুর কণ্ঠের অধিকারী মানিক রায়, অন্যান্য নেতৃবৃন্দসহ আরো বেশ কয়েকজনের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তারা বুদ্ধিমত্তার সহিত ক্লাব প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারী এবং অন্যান্য সদস্যগণের অপরসীম ত্যাগে সেবার এ মহতী প্রতিষ্ঠান রোটারী ক্লাব হাজীগঞ্জকে বর্তমান পর্যন্ত ধরে রেখে সমৃদ্ধ করতে প্রাণপণ চেষ্টা কর াচ্ছেন। ক্লাবকে উজ্জীবিত করতে বর্তমান ও ভবিষ্যতের আলোকে অবদান রেখে যাচ্ছেন, তাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা এবং কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
বর্তমানে ২০২৫-২৬ রোটারী বর্ষে যারা দায়িত্ব পালন করছেন তারা হলেন: ১. রোটা.ইঞ্জিনিয়ার নূর-এ-রহমান নবীন- প্রেসিডেন্ট, ২. রোটা. মো.মশিউর রহমান পাটওয়ারী-ভাইস প্রেসিডেন্ট, ৩. রোটা. যুগল কৃষ্ণ হালদার- আইপিপি, ৪. রোটা.প্রাণ কৃষ্ণা সাহা- ভাইস প্রেসিডেন্ট, ৫. রোটা.হাবিবুর রহমান- ভাইস প্রেসিডেন্ট,৬.রোটা.দ্বীপক কুমার সাহা- ভাইস প্রেসিডেন্ট, ৭. রোটা.মো.সাইফুল আলম পলাশ- সেক্রেটারি, ৮. রোটা.প্রিন্স শাকিল আহমেদ- এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি, ৯.রোটা.কাজী বিল্লাল হোসেন- জয়েন্ট সেক্রেটারী, ১০. রোটা.ব্যারিস্টার শাহরিয়ার-জয়েন্ট সেক্রেটারি, ১১. রোটা. পিপি জাফর আহমেদ- ট্রেজারার, ১২. রোটা. পিপি মো. ইমাম হোসেন- ক্লাব সার্ভিস ডিরেক্টর, ১৩. রোটা. রুহিদাস বণিক-ভো.সার্ভিস ডিরেক্টর, ১৪. রোটা.মো.দেলোয়ার হোসেন মুন্সি-কম.সার্ভিস ডিরেক্টর, ১৫. রোটা. মো. আসফাকুল আলম চৌধুরী- ইন্টার. সার্ভিস ডিরেক্টর, ১৬. রোটা. জাহাঙ্গীর আলম বিটু- ইয়ুথ সার্ভিস ডিরেক্টর, ১৭. রোটা.সফিকুল ইসলাম মীর-বুলেটিন এডিটর, ১৮. শামীম ভূঁইয়া- সার্জেন্ট এট আমর্স, ১৯. সঞ্জয় কর্মকার- সার্জেন্ট এট আমস, ২০. জাকির হোসেন মিয়াজী- সার্জেন্ট এট আমস, ২১. পিপি বিএম আহসান কলিম- ক্লাব ট্রেইনার।
ক্লাব গঠনের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সেবা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের পাশাপাশি হাজীগঞ্জে আর্ত-মানবতার সেবায় রোটারী ক্লাব অব হাজীগঞ্জ সাধ্যমত চেষ্টা করেছে। সূচনা থেকে ‘পরিচ্ছন্ন হাজীগঞ্জ’ কর্মসূচিতে এফ্রন পরে বাজারের ড্রেন পরিস্কার, ঝাড়ু নিয়ে রাস্তা পরিস্কার করেছি। এ দৃশ্য যারা দেখেছেন সে সকল মানুষের হৃদয়ে তা স্থান করে নিয়েছিলো। এভাবে ‘হার্ট ক্যাম্প’, ‘আই ক্যাম্প’সহ আর্ত-মানবতার সেবায় নিবেদিত হয়ে বিভিন্নমুখী সেবা প্রদানে অংশগ্রহণের পাশাপাশি ক্লাবকে কেন্দ্র করে আমরা অনেকেই দেশের নামকরা কনভেনশন সেন্টারসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনপূর্বক নিজেদেরকে বিকশিত করাসহ জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পেয়েছি। রোটারী ক্লাব না হলে আমাদের অনেকের পক্ষেই তা সহজসাধ্য ছিল না। এমনকি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে রোটারী কনভেনশনে যোগদান ছাড়াও পার্শ্ববর্তী অনেক দেশের অতি সহজে ভিসা পাওয়া এবং যাওয়া রোটারীয়ানদের জন্য সহজ হয়েছে। দেশ বিদেশে যাওয়া আসার সুযোগ অনেকেরই হয়েছে। অনেকটা রথ দেখা এবং কলা বেচার মত। হাজীগঞ্জের অনেকেই এ সুযোগ পেয়ে নিজেরা ধন্য এবং গৌরবান্বিত হয়েছি।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে যারা সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন এবং যে সকল সদস্য প্রয়াত হয়েছেন, আজকের এ মুহূর্তে তাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। প্রয়াতদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। ক্লাবের চার্টার সেক্রেটারি জাকির হোসেন মিয়াজী সহ যারা ক্লাব প্রতিষ্ঠার সূচনা পর্ব থেকে কাজী শাহদাত, জি.এস.আর মিজান, আবু আজমল পাঠানসহ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে এখনও নিবেদিত হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তাদেও প্রতি কৃতজ্ঞ।
আজকের এ মুহূর্তে মাতৃভূমি বাংলাদেশের স্বাধীনতায় শহীদদের পাশাপাশি মহান ভাষা শহীদদের প্রতি মর্যাদা দিতে গিয়ে এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার মর্যাদা রাখতে গিয়ে, বাংলাদেশের রোটারী জেলা বর্তমানে দুইটিতে উন্নীত। রোটারীদ্বয় থেকে জারিকৃত রোটারী জেলাস্থ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সকল ধরণের পত্র, বুলেটিন, নির্দেশনা কার্যক্রম বাংলায় করা আবশ্যক। তা বাস্তবায়নের অনুরোধ জানিয়ে আসছি। তার পাশাপাশি মধ্যম আয়ের দেশ এবং নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের মানুষের আর্থিক অবস্থার বিবেচনায় রোটারী ডিউজ ঐ দেশের মুদ্রায় অথবা আরও সহজ,সহনশীল মাত্রায় সদস্য ফি নির্ধারণ করা অত্যন্ত জরুরি।
অন্যথায়, এসব দেশে গড়ে উঠা রোটারী ক্লাব টিকিয়ে রাখা দিনের পর দিন অনেক কষ্টকর হয়ে দাঁড়াতে পারে। সেবার আলোকবর্তীকা নিয়ে ঘূর্নায়মান থাকুক রোটারীর সূর্য। রোটারী ক্লাব অফ হাজীগঞ্জ আলোকিত সমাজ বিনির্মাণে সেবার গুণগত মানের পরিবর্তনের সময়োপযোগী বলিষ্ঠ নেতৃত্বের গুণাবলী দিয়ে গড়ে উঠবে। এ আবেদনটুক ুরেখে আগামী দিনগুলোতে রোটারী ক্লাব অব হাজীগঞ্জ আরো অনেক দূর এগিয়ে যাবে-ইনশাআল্লাহ। এ প্রত্যাশা রইলো।
লেখক পরিচিতি:অধ্যক্ষ ড.মো.আলমগীর কবির পাটওয়ারী,প্রাক্তন মোতওয়াল্লী,আহমাদ আলী পাটওয়ারী (রহ.)ওয়াক্বফ এস্টেট। প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ, হাজীগঞ্জ মডেল সরকারি কলেজ,হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর। মুঠফোন- ০১৭১৩-১০২৮৪৯।
চাঁদপুর টাইমস প্রতিবেদন সম্পাদনায়
আবদুল গনি , ১০ জানুয়ারি ২০২৬