চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সবচেয়ে প্রাচীন ও ব্যস্ততম হাজীগঞ্জ আরএইচডি রঘুনাথপুর জিসি সড়কটির এখন বেহাল দশা। কয়েক বছর ধরে সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় হাজীগঞ্জ বিশ্বরোড থেকে সুহিলপুর বাজারের উত্তর অংশ পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ ঢালাই ও ইটের কনা উঠে গিয়ে বড় গর্ত ও খানাখন্দ হয়েছে। ফলে সড়কটি দিয়ে চলাচলে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রায়ই দুর্ঘটনায় পড়ছেন। সড়কটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হলেও সংস্কারের উদ্যোগ না নেয়ায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন।
সরেজমিনে সড়কটি ঘুরে দেখা গেছে, হাজীগঞ্জ-রঘুনাথপুর (রোড কোড-৪১৩৪৯২০০৩) সড়কের রেললাইনের উত্তর অংশে কাজিরগাঁও থেকে সুহিলপুর বাজার পর্যন্ত শত শত ছোট-বড় গর্ত আর খানাখন্দ রয়েছে সড়কটিতে। প্রায়ই এখানে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যানবাহন উল্টে পড়ে।গত ৩০ জুন রাতে এই একই সড়কের বাড্ডা নামক এলাকায় দুর্ঘনায় পতিত হয়ে সিএনজির পাঁচ যাত্রীদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।বাকি চারজন যাত্রী সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কয়েকজন ইজিবাইক চালক জানিয়েছেন, এটি কোনো সড়ক নয়, মরণফাঁদ। কেউ মানুষের দুর্গতি দেখে না। প্রায়ই এ সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়কটি শিগগির মেরামত করতে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ নেয়ার জন্য দাবি জানান তারা।
এ ব্যাপারে সুহিলপুর গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা মোবারক হোসেন জানান, খানাখন্দের কারণে সড়কটি দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে বিভিন্ন যানবাহন প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। এতে অনেকে আহত হচ্ছেন। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া দরকার।
একই সড়ক দিয়ে একটি কলেজ, একটি মাদ্রাসা ও দুইটি হাইস্কুলের শিক্ষার্থীসহ হাজীগঞ্জ-রঘুনাথপুরসহ কচুয়ার উত্তরাঞ্চলের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ প্রতিনিয়ত চলাফেরা করেন। এতে প্রায়শই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন যাত্রীগণ।
এ সড়কে চলাচলকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক আবুল কাশেম মিয়া জানান, ‘বড় কষ্টে আছি ভাই এটি সড়ক নয় যেন মরণফাঁদ। কেউ এ সড়কের খবর নেয় না। সারাদেশে উন্নয়ন হচ্ছে। অথচ এই সড়কের কেউ খোঁজ নেয় না।’
স্থানীয় এক গণমাধ্যমকর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সড়কে ছোট-খাটো খানাখন্দ তৈরি হওয়ার পরও স্থানীয় প্রকৌশল বিভাগ রহস্যজনক কারণে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছেন না। গ্রামীণ এই সড়কটি পুরোপুরি চলাচলের অনুপযোগী হলে দুই তিন কোটি টাকার প্রাক্কলন তৈরি করে বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে অর্ধেক অর্থ লুটপাটের জন্যই স্থানীয় প্রকৌশল অফিসের কর্তাব্যক্তিরা অপেক্ষা করেন। সড়কটি সংস্কার করার উদ্যোগ নেন না। অথচ সড়কটি সংস্কার করলেই অনায়াসে আর দুই তিন বছর এ সড়কে চলাচলাকারী মানুষজন স্বস্তিতে চলাচল করতে পারে। এমনটাই দেখে আসছি বিগত সময়ে জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটির ক্ষেত্রে। সড়কে কার্পেটিংয়ের তিন-চার বছর পর রিপেয়ার না করে নতুনভাবে রাস্তা তৈরির প্রাক্কলন পাঠানো সরকারি টাকা আত্মসাতের অপকৌশল ছাড়া কিছু নয়। একটা গ্রামীণ সড়ক কার্পেটিং করার তিন-চার বছরের মধ্যে একবারও রিপেয়ার করা হয় না কেন? তিন-চার বছরে রাস্তার বেহাল দশা হয়ে যায় শুধু রক্ষণাবেক্ষণে গাফিলতির কারণে। এর দায় কোনোভাবে এড়াতে পারে না স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের হাজীগঞ্জের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম বলেন,সড়কটির শুরুর এক কিলোমিটার এবং শেষে চার কিলোমিটার অংশে খানাখন্দ রয়েছে। মেন্টেনেন্স এর চাহিদা সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হয়েছে। আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে কাজ শুরু হতে পারে।
প্রতিবেদক: জহিরুল ইসলাম জয়/
৩০ জুন ২০২৬
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur