এমপি ইঞ্জি. মমিনুল হকের আশ্বাসে সরে গেছে হাজীগঞ্জ বাজারের হকাররা
‘হাজীগঞ্জ বাজারকে যানজট মুক্ত করা হবে’ চাঁদপুর-৫ আসনের নবনির্বাচিত এমপি ইঞ্জি.মো.মমিনুল হকের এমন প্রতিশ্রুতিতে হাজীগঞ্জ বাজারকে ফের যানজট মুক্ত করা হলো। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে বেশ ক’মাস আগে হাজীগঞ্জ বাজারকে যানজটমুক্ত করা হয়েছিলো। সেই সময় কয়েকদিনের জন্যে হকার বসা রোধ করা গেলেও তা ছিলো ক্ষণস্থায়ী। এর পরে হকাররা পুরোপুরি ফিরে আসে সড়কের পাশে।
যে কারণে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে ফের শনিবার (৭ মার্চ ) দুপুরে হাজীগঞ্জ বাজার থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে সড়কের পাশের হকার আর অবৈধভাবে গড়ে ওঠা সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারি চালিত অটোবাইক স্ট্যান্ড। পৃথকভাবে অভিযানের নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনে আল জায়েদ হোসেন ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিনা জাহান। সরকারি এ দু কর্মকর্তাকে সহযোগিতা করেন হাজীগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপির একাধিক নেতা। অভিযান চলাকালে তিন হকারকে ১ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।
কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হকাররা হলেন : বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের রায়চোঁ গ্রামের দুলাল মজুমদারের ছেলে মো. শাওন (২৩), হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন রান্ধুনীমুড়া এলাকার হুমায়ুন কবিরের ছেলে মো. রাছেল হোসেন (২৩) ও একই এলাকার শহীদুল ইসলামের ছেলে মো. সজীব হোসেন (২২)।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাজীগঞ্জ বাজারের ওপর দিয়ে চলে যাওয়া চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়ক ও বাজার অভ্যন্তরে সিএনজি চালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ড হওয়ায় এমনিতে বাজারে যানজট লেগে থাকে। তার ওপরে সড়কের পাশে ও ফুটপাত দখল করে হকার বসার কারণে বাজারের যানজট বহুলাংশে বেড়ে যায়। ফলে বাজার এলাকাতে যানজট স্থায়ী আকারে রূপ নেয়। যানজটে এক পর্যায়ে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠে। তখনই নড়চড়ে বসে প্রশাসন। সিদ্ধান্ত নেয়া হয় হকার আর সকল স্ট্যান্ড উচ্ছেদ ছাড়া যানজট নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।
বেশ ক’মাস আগে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে হকার উচ্ছেদে নেমে সফলতা লাভ করে। নিয়মিত বাজারে পরিচালিত হয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। জব্দ করা হয় হকারের ভ্যানগাড়ি আর মালামাল। বহু মালামাল সে সময় এতিমখানাতে পাঠানো হয়, আর ভ্যানগাড়িগুলো থানার হেফাজতে রাখা হয়।
মাত্র ক’দিন পরেই হকার স্ট্যান্ডগুলো তাদের স্ব-স্থানে ফিরে এসে ফের যানজটের সৃষ্টি করে। তাই প্রশাসন হাজীগঞ্জ বাজারকে পুনরায় যানজটমুক্ত করতে হকার ও স্ট্যান্ড উচ্ছেদে নামে। গত ক’দিন ধরে পৌরসভার পক্ষ থেকে হকার উচ্ছেদে একাধিকবার মাইকিং করা হয়।
সরজমিনে দেখা যায়, শনিবার সকাল থেকে অন্যদিনের চেয়ে হকার কম বসতে দেখা গেছে। সকাল ১০টার দিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিলা জাহানের নেতৃত্বে অভিযানে নামে প্রশাসন। এর কিছু পরে ভিন্নভাবে অভিযানে নামেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনে আল জায়েদ হোসেন। সরকারি এ সকল কর্মকর্তার সাথে সহযোগিতা করেন হাজীগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপির একাধিক নেতা।
অভিযান পরিচালনাকালে হাজীগঞ্জ পূর্ব বাজার থেকে পশ্চিম বাজারে কোনো হকার দেখা যায়নি, এমনকি বাজার অভ্যন্তরে থাকা সকল সিএনজি ও অটো স্ট্যান্ডকে তাৎক্ষণিক অপসারণ করা হয়। অভিযান পরিচালনাকালে তিন হকারকে ১ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনে আল জায়েদ হোসেন জানান, হকার বসা বন্ধ রাখতে প্রতিদিন বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।
অনলাইন ডেস্ক/
৭ মার্চ ২০২৬