হাজীগঞ্জ দ্বাদশগ্রাম ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বিজয়ী

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার দ্বাদশগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের দ্বিতীয় বারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. আবু তাহের প্রধানীয়া বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন।

বেসরকারি ভোটের ফলাফলে জানা যায়, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো.আবু তাহের প্রধানীয়া (মটর সাইকেল) ২২৭৯ ভোট, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হেলাল উদ্দিন (ঘোড়া) ১৭৮৩ ভোট, আওয়ামী লীগের মনোনীত খোরশেদ আলম বকাউল (নৌকা) ১৭২৬ ভোট, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম বাবুল (চশমা) ৯৫১ ভোট, স্বতন্ত্র মিজানুর রহমান কমল (আনারস) ৮৬৩ ভোট, আওয়ামী লীগের আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী কে এম রাসেল পেয়েছেন (টেলিফোন) ৮৯ ভোট।

১৬ মার্চ বৃহস্পতিবার হাজীগঞ্জের দ্বাদশগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু হয় সকাল সাড়ে ৮ টায় আর শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শেষ হয় বিকাল সাড়ে ৪ টায়। নির্বাচনে এই প্রথম ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) এর মাধ্যমে ১০ হাজার ৯’শ জন ভোটারের মধ্যে প্রায় ৫০ ভাগের উপরে ভোটার ভোট প্রয়োগ করেন।

নির্বাচনে ৬ জন চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত ৩টি ওয়ার্ডে ১২ জন নারী সদস্য ও সাধারন সদস্য পদে ৯টি ওয়ার্ডে ৩৩ জন প্রার্থীসহ মোট ৫১ জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে মতাসীন আওয়ামী লীগের ১ জন, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ২ জন, বিএনপির ২ জনসহ মোট ৫ স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন।

ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম বকাউল শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয়বারের মতো দায়িত্ব নিতে পারেনি। সেখানে চেয়ারম্যান বিজয়ী হলেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ‘মটর সাইকেল’ প্রতীকের প্রার্থী, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আবু তাহের প্রধানীয়া।

এ দিকে নির্বাচনকে ঘিরে গত প্রায় এক মাস যাবৎ ইউনিয়ন, রাস্তাঘাটের উন্নয়নসহ নানা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন ৬ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী। তারা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে এবং মাইকিং করে ভোট প্রার্থনা করছেন। তাদের কর্মী সমর্থকরাও নিজ নিজ পছন্দের প্রার্থীর স-শরীরে এবং ফেসবুকসহ নানাভাবে প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন। যা শান্তিপূর্ণ ভোটের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব বেচে নিলো দ্বাদশগ্রাম ইউনিয়ন বাসী।

সকাল থেকে ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে ভোট কেন্দ্রগুলো পোস্টারে পোস্টোরে ছেয়ে গেছে। বুধবার রাতেই চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত নারী সদস্য ও সাধারণ সদস্যদের কর্মী-সমর্থকরা নিজ নিজ প্রার্থীর পক্ষে পোস্টার টানিয়ে দৃশ্যমান স্থান দখলে নিয়েছেন। এর পাশাপাশি ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও হাট-বাজারেও পোস্টার টানানো হয়েছে। কিন্তু ভোট গ্রহন শেষে আবার পোস্টারগুলো ছিড়ে পেলে কিশোর কিশোরীরা।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাত ৮ টার দিকে রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ওবায়েদুর রহমান তার কার্যালয়ে ফলাফল ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, উক্ত ইউনিয়নে ৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি ও র‌্যাব সদস্যরা স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং কেন্দ্র প্রতি পুলিশ ও আনসার সদস্যরা আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্ব পালন করায় কোথায়ও কোন ঝামেলা হয়নি।

প্রতিবেদক: জহিরুল ইসলাম জয়, ১৬ মার্চ ২০২৩

Share