হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদে ঈদের ৩টি জামাত হচ্ছে : আলহাজ্ব প্রিন্স শাকিল আহমেদ
পবিত্র ঈদুল ফিতর আসন্ন। যা সম্পূর্ণ চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল। চাঁদপুর জেলার সর্ববৃহৎ,প্রাচীন ও হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদে বিশেষ ব্যবস্থায় ঈদুল ফিতরের ৩টি জামাত অনুষ্ঠিত হবে বলে মোতওয়াল্লী আলহাজ্ব প্রিন্স শাকিল আহমেদ সাপ্তাহিক হাজীগঞ্জকে জানান। ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়ে প্রয়োজনীয় সব রকম ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মসজিদ কর্র্তৃপক্ষ। প্রথমটি হবে সকাল সাড়ে ৭ টায়, দ্বিতীয়টি হবে সকাল ৮ টায় এবং তৃতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে বেলা ১০ টায় । তা’ছাড়াও বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা, আইন-শৃংখলা রক্ষায় হাজীগঞ্জ পৌরসভা,থানা পুলিশ ও প্রায় শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক থাকবে।
চাঁদপুরের ঐতিহাসিক হাজীগঞ্জ বড় জামে মসজিদে বিশেষ ব্যবস্থাগ্রহণে মুসল্লিদের ওজুর জন্য পর্যাপ্ত পানি,সাবান, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও নিরাপত্তার জন্য হাজিগঞ্জ থানা পুলিশের সার্বিক সহায়তা কামনা ও পৌরসতার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। নামাজের সময় নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত রাখার বিষয়ে এরইমধ্যে তিনি পল্লীবিদ্যুৎ বিভাগ হাজীগঞ্জকে এবং পৌর সভার সংশ্লিষ্ঠদের সহায়তা প্রদানের অনুরোধ জানা গেছে ।
মোতওয়াল্লী আলহাজ্ব প্রিন্স শাকিল আহমেদ এক সাক্ষাতকারে বলেন,’’ হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদে এবারের রমজান উপলক্ষে বিশেষ প্রস্তুতি হিসাবে জুমাতুল বিদাসহ রমজানে জুমার দিনে নামাজ, ৫ ওয়াক্ত নামাজ ও অন্যান নফল এবাদতের জন্যে সাধ্যের মধ্যে সব রকম ব্যবস্থা নিশ্চিত রাখার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ সবের মধ্যে রযেছে-মুসল্লিদের সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে নামাজ আদায় করতে মসজিদের ভেতর ও বাহিরের প্রাঙ্গণে প্রয়োজনীয় কাপড়ের দস্তর বিছানোর ব্যবস্থা রাখা,সামিয়ানা টানানো,পর্যাপ্ত ওযুরস্থান ব্যবস্থাকরণ, প্রতি জুমার পর মসজিদ সংলগ্ন সকল কবরবাসীর জন্যে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা, রাতভর এবাদতের জন্যে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা জোরদার রাখা,নামাজ ও আযানের সাইন্ডসিস্টেম বজায় রাখা, ওয়াশব্লক সম্পুর্ণ পরিস্কার-পরিছন্নতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ঠদের প্রতি প্রয়োজনীয় নিদের্শনা,রাতে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ,জুমার দিনে মহিলাদের নামাজ আদায়ে প্রয়োজনীয় পর্দাসহ ওযুর ব্যবস্থা রাখার উদ্যোগ গ্রহণ করা, সাহরি ও ইফতারের সময় যথাযথ নিয়মে সাইরেন বাজানো ও তাৎক্ষণিক উপস্থিত রোজাদারদের জন্যে সাধ্যমত ইফতারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এবার প্রায় আড়াই শতাধিক স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লী এতকাফে বসেছেন। সাধ্যের মধ্যে ঐসব মুসল্লীদের জন্যে সেবামূলক কর্মকান্ডের জন্যে প্রয়াজনীয় উদ্রোগ নেয়া হয়েছে। পবিত্র রমজানের মাসের ৫ ওয়াক্ত নামাজ তারাবীহ আদায়,পবিত্র কোরআন তেলায়েত,জিকির-আজকার,তসবীপাট ও অন্যান্য নফল এতাদত করার লক্ষ্যে প্রতিবছরের ন্যায় ধর্ম-প্রাণ মুসল্লিদের স্বাচ্ছন্দ্যে অংশগ্রহণের জন্য এবারো জেলার সর্ববৃহৎ,প্রাচীন ও ঐতিহাসিক হাজীগঞ্জ বড় মসজিদের পক্ষ থেকে এ সব বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে।’’
রমজান উপলক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ সম্পর্কে মোতওয়াল্লী আলহাজ প্রিন্স শাকিল আহমেদ আরোও বলেন,‘ রমজানের শেষ ১০ দিন এতেকাপে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও প্রায় গড়ে ৩শ-৪শ’ খোদাভক্ত মুসুল্লীদের রাতভর ইবাদতের জন্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখাসহ রমজান মাসে যাতে মুসল্লীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং বেশি বেশি ইবাদতের সুযোগদানের জন্যে ২৪ ঘন্টাই মসজিদ খোলা রাখা হয়। দক্ষিণ পাশের ওযুর উন্নত ব্যবস্থার জন্যে সংস্কারমূলক কাজের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং একটিতে নতুন সেড দেয়া হয়েছে । এবার মসজিদের দৃষ্টিনন্দন বাড়াতে মিনারসহ মসজিদের সংস্কার ও পুরানো অফিস ভবনটি ভেঙ্গে নতুন ভবন নির্মাণ কাজ চলছে ।’’
জুমাতুল বিদাসহ রমজানের সকল জুমা দিনে নামাজ আদায়ে সব রকম ব্যবস্থা নিশ্চিত রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। ’ হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদে সকল জুমায় ও জুমআতুল বিদা’র দিনে সকাল ১০ টা থেকেই জেলার বিভিন্ন্ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল এবং দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, অধ্যাপক ব্যবসায়ী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার,শিক্ষক, নিজদের কেনাকাটার জন্যে হাজীগঞ্জ বাজারে আসা পর্দনশীল মহিলা ও ছাত্রসহ অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মুসল্লিগণ মসজিদে সমবেত হন। মসজিদ কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থাগ্রহণে আন্তরিক রয়েছেন। ওয়াকফ এ্যাস্টেট সকল কর্মকর্তা, কর্মচারীগণ ও মসজিদ কর্তৃপক্ষ সব সময়েই সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। এছাড়াও পবিত্র শবে কদর ও ঈদুল ফিতরের নামাজের জন্যও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে কর্তৃপক্ষ। ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠানের সব দিকের প্রতি নজর রেখে উদ্যোগ নেয়া হয়ে থাকে। ’’
প্রসঙ্গত, হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ কর্তৃপক্ষ ঈদের নামাজ আদায়ে মুসল্লিদের স্বার্থে প্রতিবছরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে আসছে। গৃহীত ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ,নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ,উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি,পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ,মসজিদ আঙিনায় সামিয়ানা টানানো,মেডিক্যাল টীম, প্রয়োজনীয় স্বেচ্ছাসেবকদল গঠন, হাজীগঞ্জ বাজারের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কুমিল্লা মহাসড়কে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত যানবাহন নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। নামাজ আদায়ের জন্যে মসজিদ কর্তৃপক্ষ সুন্দর ও সুষ্ঠ পরিবেশ বজায় রাখতে সবরকম ব্যবস্থা নিয়ে থাকে।
সংশিষ্ট সকলের দায়িত্ব বন্টন করা হয় । ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বলা হয়,সারা দেশে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে ঈদুল ফিতর নামাজের ব্যবস্ধা গ্রহণ করতে হবে।প্রতি শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে মানুষ নামাজ আদায়ে মসজিদে আসতে শুরু করেন এবং ২০-২৫ মিনিটের মধ্যেই মসজিদ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। বিভিন্ন এলাকায় নানা বয়সি মানুষ মসজিদে আসা শুরু করেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকেই ভরে উঠে মসজিদের মূল ভবন। ফলে মসজিদের ভেতরে জায়গা না হওয়ায় কয়েক শতাধিক মুসল্লি বাইরে নামাজ আদায় করেন।
এবার মসজিদ আঙ্গিনা ছাড়িয়ে জুমার প্রধান দু রাকাত জুমা নামাজ আদায়ে শত শত স্থানীয়,বাজার ব্যবসায়ীদের একটি অংশ দোকান উম্মক্ত রেখেই ও বিভিন্ন এলাকা থেকে দেরিতে আগত মুসল্লীগণের স্থান সংকুলান না হওয়াতে প্রধান সড়কে নিজ নিজ উদ্যোগে জায়নামাজ বিছিয়ে তড়িঘড়ি করে দাঁড়িয়ে যান। কেউ কেউ বিছিয়েছেন পেপার ।
হাজীগঞ্জসহ নানা প্রান্ত থেকে মসজিদে এসে জুমার নামাজ আদায় করেন মানুষ। হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের দক্ষিণ পাশে আধুনিক ও নতুন করে সংস্কার কাজের ওজুখানার সংস্কার করা হয়েছে । এ বছরের প্রথম থেকে প্রতি সপ্তাহের শুক্রবার জুমা শেষে এস্টেটের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপষ্থিাততে দক্ষিণ পাশসহ মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা,ওয়াকীফ ও প্রতিষ্ঠাতা মোতওয়াল্লীগণসহ অনুরূপ চিরশায়িত কবরবাসীর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় অংশগ্রহণ করতে মোতওয়াল্লী আলহাজ্ব প্রিন্স শাকিল আহমেদ সকলকে অনুরোধ জানান।
আবদুল গনি
১৮ মার্চ ২০২৬