হাজীগঞ্জ

হাজীগঞ্জে ফসলের মাঠে কৃষকের হাসি

চাঁদপুর হাজীগঞ্জ উপজেলায় ফসলের মাঠজুড়ে বাতাসে দুলছে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন-আমন ধান। চলতি বছর প্রচুর ঝড়বৃষ্টি, পোকা মাকড়ের আক্রমণ আর নানা রোগবালাইয়ের পরও এবার ইরি-বোরো ধানের বাম্পার ফলনের সুবাস পাচ্ছেন কৃষকরা।

এরইমধ্যে শুরু হয়েছে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ। উপজেলার কৃষক পরিবারের মাঝে এখন ধানের মৌ মৌ গন্ধ। ধান কাটা আর মাড়াইয়ে যেন ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-কৃষাণীরা। সরকারি হিসেবে যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে তা এ বছর ব্যাহত হবেনা বলে ধারনা করা যায়। ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকরাও দারুণ খুশি। তবে গত কয়েক বছরের ন্যায় এবারও নানা কারণে বাড়তি খরচ হওয়ায় ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ধানের ন্যায্য দাম আশা করেছেন তারা।

এ উপজেলায় একটি পৌরসভা ও বারটি ইউনিয়নের কৃষি মাঠে এ বছর প্রায় সাড়ে নয় হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। যা চলতি বছরের শুরুতে কৃষকরা জমিতে ইরি-বোরো চাষাবাদ করেছে।

হাজীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ৯ হাজর পাঁচশ হেক্টর জমিতে এবার ইরি-বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। বিগত বছরে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ইরি আবাদে বাম্পার ফলন হয়। গত বছরের তুলনায় চলতি বছর প্রায় ৫০ হেক্টর জমি কম থাকলেও বাম্পার ফলনের আশাবাদি বলে জানায় কৃষি অধিদপ্তর। কিন্তু খরচের তুলনায় ধানের ন্যায্য মূল্য না থাকার ফলে এবার কৃষকরা ইরি-বোরো আবাদে কম ঝুঁকে পড়তে দেখা যায়। তার পরেও শেষ দিকে এসে আলু,সরিষারমত রবি শষ্যের ফলন উঠার পর কৃষকরা জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষ করেছে।

দ্বীর্ঘ প্রতিক্ষার পর চৈত্রের শেষ দিক থেকে শুরু করে বর্তমানে বাংলা নতুন বছরে পুরো ধমে এখানকার কৃষক-কৃষানীসহ তাদের সন্তানরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ধান কাটা থেকে শুরু করে ধান মাড়াইয়ের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে। কেউ জমিতে খলা বানিয়ে, কেউবা বাড়ীর আঙ্গিনা বা উঠানে খলা বানিয়ে সেখানে ধানের ঘের তৈরি করে মিশিন ও মটকার উপর ধান ঝরিয়ে উক্তলোন করতে দেখা যায়।

বিশেষ করে এ বছর বৃষ্টি আর ঝড়ের তীব্রতা দেখে অনেকে আগে-বাগে ধান কাটা শুরু করে দিয়েছে। অনেক কৃষকের ঘরে চাউল না থাকায় দেখা যায় নতুন ধান পেয়ে ভাফ দেওয়া শুরু করেছে। ধান কাটা থেকে শুরু করে খড়ের স্তূপ পর্যন্ত যেসকল শ্রমিক প্রয়োজন সে তুলনায় সংকট দেখা দেওয়ায় উত্তর বঙ্গ থেকে কিছু মৌসুমী শ্রমিকও কাজ করতে দেখা যায়।

এদিকে গত কয়েক যুগ ধরে উপজেলার উত্তর ও দক্ষিন মাঠে দুই ধরনের ফসল উৎপাদন হয়ে আসছে। উত্তর মাঠে দেখা যায় বর্ষার সময় আউস ধানের ফলনসহ খড়া মৌসুমে ইরি ধানের ফলনও উৎপাদন করছে এ অঞ্চলের কৃষকরা। আর দক্ষিন অঞ্চলের মাঠগুলো নিচু হত্তয়ার কারনে ও একাধিক ব্রিক ফিল্ড গড়ে উঠায় শুধু মাত্র খরা মৌসুমে ইরি-বোরো চাষাবাদ ছাড়া অন্য কোন ফসল উৎপাদন করতে দেখা যায় না।

তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নয়ন মনি সুত্রধর জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রায় সাড়ে নয় হাজার হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষাবাদ হয়েছে । সেই লক্ষে কৃষকরা জমি পরিচর্যার কাজ থেকে শুরু করে পোকা দমনে ওষুধ ব্যবহারের মাধ্যমে ভাল ফলনের আশাবাদ রয়েছে। সে সাথে সরকারী বীজের প্রজেক্টগুলোতেও ভাল ফলন হয়েছে বলে জানান তিনি। সরকারি প্রাপ্তি স্বাপেক্ষে আনুমানিক ৪০টি প্রদর্শনী হয়েছে । এই ৪০টি প্রজেক্টের মাধ্যমে আমরা পুরো উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে একেক টি ইউনিয়নে ২/৩টি করে প্রদর্শনীতে কাজ করেছি।

কৃষি অফিস সৃত্রে আরো জানা যায়, উপজেলায় প্রায় ছোট বড় দেড় শতাধিক কৃষি মাঠ রয়েছে। যা থেকে এ বছরেও ফসল উৎপাদনের লক্ষ মাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে প্রায় দশ হাজার মেট্রিক টন। তবে এ উৎপাদনের লক্ষমাত্রা গত কয়েক বছর ধরে সমান ভাবে থাকলেও চলতি বছর অনেক কৃষকই সার ও কৃটনাশক বৃদ্ধিসহ নানা কারনে ইরি-বোরো চাষাবাদ না করে রবি শষ্য উৎপাদনে মনোনিবেশ হয়েছে বেশী।

এর কারণ খুজতে গিয়ে দেখা যায় কৃষকরা চলমান চাষাবাদের খরচের সাথে ধান বিক্রয় কালে ন্যায্য মুল্য না পাওয়া। তাছাড়া দক্ষিন অঞ্চলের কৃষি মাঠগুলো থেকে একাধারে ব্রিক্স ফিল্ড মালিকরা মাটি উত্তলনের কারনেও চাষাবাদে বেঘাত গঠতেছে।

এছাড়াও প্রাকৃতিকসহ নানা পতিকূলতার কারনে দিন দিন ধান উৎপাদন কমে যাচ্ছে এ উপজেলায়।

প্রতিবেদক:জহিরুল ইসলাম জয়
১৭ এপ্রিল,২০১৯

Share