হাজীগঞ্জে নবজাতক নিয়ে থানায় কিশোরী, অভিযুক্ত যুবক আটক
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের এনায়েতপুর আখন্দ বাড়িতে এক নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া কিশোরীর সন্তান প্রসবের ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে ওই কিশোরী একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিশোরীটি একজন অটোচালকের কন্যা। মঙ্গলবার থেকে তার শারীরিক অসুস্থতা লক্ষ্য করেন পরিবারের সদস্যরা। বুধবার সকালে অবস্থার অবনতি হলে তার মা তাকে উয়ারুক বাজারের এক পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিকেলে সন্তান প্রসব হয়।
হঠাৎ এ ঘটনায় পরিবারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পরিবারের সদস্যদের প্রশ্নের মুখে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কিশোরী জানায়, একই এলাকার বাসিন্দা আমির হোসেনের ছেলে জুয়েল রানা তার সন্তানের পিতা। কিশোরীর অভিযোগ, প্রেম ও বিয়ের আশ্বাস দিয়ে জুয়েল রানা একাধিকবার তাকে নিজের ঘরে নিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন।
কিশোরীর ভাষায়, “সে আমাকে বিয়ের কথা বলেছিল। আমি তার কথায় বিশ্বাস করেছিলাম। লজ্জা আর ভয়েই কাউকে কিছু বলতে পারিনি। এখন আমি শুধু আমার সন্তানের পিতৃপরিচয় ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে জুয়েল রানা নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। তার বক্তব্য, “আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ। সত্য উদঘাটনের জন্য আইন যা করবে, আমি তাতে সহযোগিতা করব।”
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক একটি কিশোরীর জীবনে এমন ঘটনা সামাজিক নিরাপত্তা, সচেতনতা ও সুরক্ষার বিষয়গুলোকে নতুন করে সামনে এনেছে। একই সঙ্গে সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুটির ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।
এ ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে অভিযুক্ত জুয়েল রানাকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। বর্তমানে তিনি হাজীগঞ্জ থানা হাজতে রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
প্রতিবেদক: জহিরুল ইসলাম জয়
২৮ জানুয়ারি ২০২৬