হাইমচরে অবৈধ বালু উত্তোলনে শতকোটি টাকার বাঁধ হুমকির মুখে, আটক ৫

​চাঁদপুরের হাইমচরে মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে একটি খেলার মাঠ বিলীন করে দিয়েছে প্রভাবশালী একটি চক্র। উপজেলার চরভৈরবী ইউনিয়নের গাজীনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নির্বিচার বালু উত্তোলনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে শতকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নদী রক্ষা বাঁধ। এই ঘটনায় জড়িত অভিযোগে পুলিশ ৫ জনকে আটক করেছে।

​মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত ৮টায় হাইমচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নাজমুল হাসান আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আটককৃতরা হলেন, হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন মিজির ছেলে আব্দুল কাদের(২২), পিরোজপুরের নেছারাবাদ থানার স্বরুপকাঠি এলাকার নুরুল আমিনের ছেলে আইয়ুব আলী (২০), একই জেলার নাজিরপুর উপজেলার মধ্য কলারদোয়ানীয়া এলাকার মোস্তফার ছেলে আমান উল্যাহ (১৯), ওই উপজেলার কলারদোয়ানিয়া এলাকার আবু হানিফ ছেলে শফিকুল ইসলাম (২৩), শরীয়তপুরের গোসাইরহাটের কেরহাটি এলাকার শহিদুল আখনের ছেলে মোর শালিন (১৯)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীনগর এলাকায় মেঘনার তীরে জেগে ওঠা বালিচরে স্থানীয় শিশু-কিশোররা নিয়মিত খেলাধুলা করত। গত সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেলেও সেখানে ফুটবল খেলার আসর বসেছিল। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে এলাকাবাসী দেখতে পান, রাতের আঁধারে ড্রেজার দিয়ে বালু কেটে নেওয়ায় মাঠের অস্তিত্ব সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। সেখানে এখন শুধু থই থই পানি।

স্থানীয় বাসিন্দা দুলু মুন্সি ও রাকিব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ​”কাল বিকেলে এখানে ছেলেরা ফুটবল খেলল, আর সকালে এসে দেখি মাঠটাই নেই। ড্রেজার দিয়ে সব বালু নিয়ে গেছে। এই বালু কাটার ফলে নদী রক্ষা বাঁধটি এখন চরম ঝুঁকিতে। বাঁধ ভেঙে গেলে আমাদের ঘরবাড়ি সব নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।”

​হাইমচর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম শফিক বলেন, “যারা এই বালু কেটে নদী রক্ষা বাঁধকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে, তারা যে দলেরই হোক, তাদের কঠোর বিচার করতে হবে। এদের বিচার না হলে অচিরেই হাইমচর নদীগর্ভে হারিয়ে যাবে।”

​হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত রায় জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থান মেরামতের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

​হাইমচর থানার ওসি মোহাম্মদ নাজমুল হাসান জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাঁচজনকে আটকের পাশাপাশি ‘এমবি মিম এন্টারপ্রাইজ’ নামক একটি বাল্কহেড এবং ‘মা-বাবার দোয়া’ নামে একটি আনলোডিং জাহাজ জব্দ করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

​চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে স্টকে থাকা ব্লক ব্যবহার করে প্রাথমিকভাবে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে।

প্রতিবেদক: ​মোঃ আলমগীর হোসেন আসিফ
৮ এপ্রিল ২০২৬