চাঁদপুর

চাঁদপুর স্বর্ণখোলা রোডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মামলা

চাঁদপুর শহরের বাসস্টেশন স্বর্ণখোলা রোডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিঃস্ব হয়ে গেছে একটি পরিবার। গত ২৭ জুলাই দিনে-দুপুরে অগ্নিকাণ্ডে তাদের বসত বাড়ি, ঘরের আসবাবপত্র, নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকারসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভষ্মিভূত হয়ে গেছে।

এরপর থেকে ওই পরিবারটি খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তাদের বসতভীটা দখলের চেষ্টা করছে পূর্বশত্রুসহ স্থানীয় একটি চক্র। এই অগ্নিকাণ্ড এবং ভূমি দখলকে পূর্বপরিকল্পিত বলে অভিযোগ করে আদালতে ২টি মামলা দায়ের করেছে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় পরিবার। যার মামলা নং ৩১০/২০ এবং ৩৮২-২০।

মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, সম্পত্তিগত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষ মৃত রুহুল আমিন গাজীর ছেলে আবুল কালাম গাজী, বাসু গাজী, মেয়ে রোহনা বেগম, ছোনোয়ারা বেগম ও ছেলের বৌ নাছিমা বেগমা গত ২৭ জুলাই সকাল ১০টায় স্বর্ণখোলা রোড়ের বাসিন্দা আবুল কাশেমের পুত্র আল-আমিন (৩১) এর উপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে তারা আল- আমিনকে পিটিয়ে মারাক্তকভাবে আহত করে। এসময় আল-আমিনের ডাক-চিৎকারে স্বজনরা ছুটে এসে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্যে নিয়ে যায়।

এই সুযোগে বেলা ১১টার সময় উল্লেখিতরা তাঁদের বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। সাথে সাথে তাদের বসতঘর, অটো-রিক্সার গেরেজসহ পাশের একটি তুলা তৈরির গোডাউনটি পুড়ে ভস্মিভুত হয়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা প্রায় ২ ঘন্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে সবকিছুর পুড়ে ছায় হয়ে যায়। এই ঘটনার ক্ষত না শুকোতেই ওইদিন রাত থেকেই উল্লেখিতরা অগুণে ভষ্মিভুত ভিটেমাটি দখলের চেষ্টা করে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে মৃত রোশন আলীর কন্যা ও আল-আমিনের মা আছিয়া বেগম জানান, আমি প্রায় ২০/২৫ বছর ধরে পৈত্রিক সম্পত্তিতে বসবাস করে আসছি। আমারা ৪ ভাই ও ৫ বোন। আমার ভাই মৃত রুহুল আমিনের ছেলে-মেয়েরা বহুদিন ধরে এই সম্পত্তি দখলের জন্যে ষড়যন্ত্র করে আসছে।

তারা এরইমধ্যে আদালতে ৪টি মামলা দিয়েছে, যার সবগুলো আমাদের পক্ষেই রায় পেয়েছি। অথচর এর পরেও তারা শত্রুতার জের ধরে আমাদেরকে উচ্ছেদ করতে পরিকল্পিতভাবে অগ্নিসংযোগ করে। এতে আমাদের বসতঘরসহ ঘরে যা কিছু অসবাবপত্র, টাকা পয়সা, স্বর্ণালংকার ছিলো সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।আল্লাহর মেহেরবানিতে আমরা কোনোরকম প্রাণে বেঁচে গেছি। আগুনে আমার বড় ভাইয়ের ভাড়াটিয়ার তুলার গোডাউনটিও পুড়ে শেষ।

আছিয়া বেগমের পুত্র আল-আমিন জানায়, অগ্নিকাণ্ডে আমাদের প্রায় ২০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমরা একেবারে পথে বসে গেছি। অথচ এর পরেও আবুল কালাম গাজী বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে আমাদের পুড়ে যাওয়া বসতভীটে দখলের চেষ্টা করছে। অভিযুক্ত আবুল কালাম গাজী এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।

আল-আমিন আরো জানায়, গত ১৭ আগস্ট এলাকাবাসীর সহযোগিতায় আমরা টিন দিয়ে কোনরকম একটি ঘর করে বর্তমানে বসবাস করছি। এখন পর্যন্ত আমরা সরকারি কোন সহযোগীতাও পাইনি। আমার প্রশাসনের কাছে সুবিচার দাবী করছি।

প্রসঙ্গত, ২৭ জুলাই বেলা ১১টায় এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে একটি বসত বাড়ির সমস্তকিছু এবং অটো রিকশার গ্যারেজ ও পাশের একটি তুলার গোডাউন পুড়ে ছাই হয়ে যায়। খবর পেয়ে চাঁদপুর উত্তর ফায়ার স্টেশনের ২টি ইউনিট ২ ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে অাগুণ নিয়ন্ত্রণে আনে।

প্রতিবেদক: আশিক বিন রহিম, ২৩ আগস্ট ২০২০

Share