সৌহার্দ্য বজায় রেখে বিরোধ নিষ্পত্তির অনন্য সুযোগ গ্রাম আদালত- ডিসি

গ্রামাঞ্চলের সাধারণ ও প্রান্তিক মানুষের কাছে সহজে, অল্প খরচে এবং দ্রুত সময়ে সঠিক ন্যায়বিচার পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে চাঁদপুরে ‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়)’ প্রকল্পের আওতায় জেলা পর্যায়ের অংশীজনদের নিয়ে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্টিত হয়। এতে জেলার গ্রাম আদালতগুলোর কার্যক্রম আরও বেগবান করা এবং তৃণমূল পর্যায়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

​স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত এ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ জিয়াউর রহমান। সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক দেবাশীষ চৌধুরী।

​সভার সূচনাতেই চাঁদপুর জেলার বর্তমান গ্রাম আদালতগুলোর পারফরম্যান্স, ২০২৫ সাল থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত মামলার চিত্র এবং সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে একটি তথ্যবহুল ও বিস্তারিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ৩য় পর্যায় প্রকল্প, চাঁদপুর জেলার ম্যানেজার মমতাজ বেগম। উপস্থাপনায় উঠে আসে কীভাবে গ্রাম আদালত ছোটখাটো দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ নিষ্পত্তিতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে এবং উচ্চ আদালতের ওপর মামলার চাপ কমাতে সাহায্য করছে।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, “গ্রাম আদালত কোনো জটিল আইনি প্রক্রিয়ার বিচারালয় নয়, বরং এটি প্রতিবেশীদের মধ্যে সৌহার্দ্য বজায় রেখে বিরোধ নিষ্পত্তির এক অনন্য সুযোগ। ‘ সমাজের সকলের জন্য গ্রাম আদালত ‘—এই অঙ্গীকারকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে তৃণমূলের মানুষকে এই আদালতের সেবা সম্পর্কে আরও সচেতন করতে হবে।” চাঁদপুর জেলা বর্তমানে ভালো অবস্থানে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি চট্টগ্রাম বিভাগের অন্যান্য জেলার পারফরম্যান্সের সাথে তুলনামূলক তথ্য আগামী সভায় উপস্থাপনের প্রস্তাব দেন এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেন।

​সভাপতির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক দেবাশীষ চৌধুরী বলেন, “ছোটখাটো বিরোধ নিষ্পত্তিতে গ্রাম আদালত এখন প্রান্তিক মানুষের মূল ভরসাস্থল। ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা ও স্থানীয় অংশীজনদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বাড়ানো গেলে কেউ আর বিচার পেতে অহেতুক হয়রানির শিকার হবেন না।”
​
আলোচনা পর্বে অংশীজনরা গ্রাম আদালতের সেবা প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও উঠান বৈঠকের মতো জোরদার প্রচারণামূলক পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর তাগিদ দেন।

​সভায় উন্মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি সোহেল রুশদী, সহকারী পরিচালক (স্থানীয় সরকার) দীপংকর বাড়ৈ, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক নজরুল ইসলাম খান, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক হুমায়ূন কবির, পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি পুলিশ পরিদর্শক সরোয়ার আলম, জেলা তথ্য অফিসার রহিমা আক্তার, চাঁদপুর কেবল নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, শিশু সংগঠক পিএম বিল্লালসহ ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় এনজিওর প্রতিনিধিগণ। সর্বস্তরের মানুষের কাছে গ্রাম আদালতের সুবিধা তুলে ধরে একটি বিচারবান্ধব ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে প্রধান অতিথির ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে সভাটি সমাপ্ত হয়।

প্রতিবেদক: আশিক বিন রহিম/
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬