সৌদি অর্থায়নে নান্দনিক কারুকাজে ফরিদগঞ্জে দৃষ্টিনন্দন মসজিদ
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার এক নিভৃত গ্রামে গড়ে উঠছে আধুনিক স্থাপত্যশৈলী ও নান্দনিক কারুকাজে নির্মিত এক দৃষ্টিনন্দন মসজিদ। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এই মসজিদটি ইতোমধ্যে এলাকাবাসীর পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে আগত মানুষেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
উপজেলার পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের চৌমুখা গ্রামে চৌরঙ্গি বাজার সংলগ্ন স্থানে নির্মাণাধীন মসজিদটি সম্পন্ন হলে এটি এ অঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় ধর্মীয় স্থাপনায় পরিণত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, উপজেলার পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নের কাশারা গ্রামের সৌদি প্রবাসী আবুল কালাম ভূঁইয়ার উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় মসজিদটি নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
চৌমুখা গ্রামের মাহবুব পাটওয়ারী ও তার পরিবারের সদস্যরা মসজিদ নির্মাণের জন্য জমি দান করেন। পরে সৌদি আরবের নাগরিক ওথমান বিন সাঈয়েদ আল ওথমান এবং তার স্ত্রী হামদা বিনতে সালেহ আল দানিশের অর্থায়নে শুরু হয় মসজিদটির নির্মাণকাজ।
প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই মসজিদটি ইতোমধ্যে এলাকাবাসীর কাছে নান্দনিক স্থাপনা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
সৌদি দাতাদের পাশাপাশি স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষও মসজিদটির নির্মাণকাজে আর্থিক ও নৈতিক সহযোগিতা করছেন।
মসজিদটির স্থাপত্যশৈলী ও কারুকাজ যে কারও নজর কাড়ে। মসজিদের ভেতর ও বাইরের অংশে মনোমুগ্ধকর নকশা, সুদৃশ্য গম্বুজ ও সুউচ্চ মিনার সংযোজন করা হয়েছে, যা এর সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশেষ করে মসজিদের অভ্যন্তরের নান্দনিক নকশা মুসল্লিদের মাঝে ভিন্ন এক প্রশান্তির অনুভূতি এনে দেয়।
পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হোসাইন আহাম্মদ রাজন শেখ বলেন, “মসজিদটি শুধু নামাজ আদায়ের স্থানই নয়, এটি আমাদের গ্রামের জন্য একটি গর্বের স্থাপনা। ভবিষ্যতে এটি ধর্মীয় শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে বলে আমরা আশা করছি। ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে সৌদি নাগরিক ওথমান বিন সাঈয়েদ আল ওথমান এবং তার স্ত্রী হামদা বিনতে সালেহ আল দানিশের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম বলেন, “এ ধরনের একটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন মসজিদ আমাদের ইউনিয়নের জন্য গর্বের বিষয়। বিদেশি দাতার সহায়তায় এমন একটি ধর্মীয় স্থাপনা নির্মিত হওয়ায় এলাকাবাসী অত্যন্ত আনন্দিত।”
নির্মাণকাজে জড়িত স্থানীয় বাসিন্দা রাশেদ হোসেন জানান, প্রায় দুই বছর আগে মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং এখনো তা চলমান রয়েছে। এ পর্যন্ত নির্মাণকাজে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে এটি ফরিদগঞ্জ উপজেলার অন্যতম সুন্দর মসজিদ হিসেবে পরিচিতি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি ও ফরিদগঞ্জ মজিদিয়া কামিল মাদ্রাসার সাবেক প্রভাষক সফিকুল ইসলাম বলেন, “প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে এই মসজিদে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ মুসল্লি নামাজ আদায় করেন। ফরিদগঞ্জে এত সুন্দর ও আধুনিক মসজিদ খুব কমই দেখা যায়। আমাদের গ্রামে এমন একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ নির্মাণে সৌদি আরবের দাতা এবং বাংলাদেশে নির্মাণকাজে জড়িত সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, মসজিদটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে এটি শুধু ইবাদতের স্থান হিসেবেই নয়, বরং ধর্মীয় শিক্ষা, সামাজিক সম্প্রীতি ও এলাকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রতিবেদক: শিমুল হাছান,
৬ মার্চ ২০২৬